মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
১০ এপ্রিল, ২০১৬ ১৫:২০:২০
প্রিন্টঅ-অ+
গ্রেনেড ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়নি
শেরপুরে বিভিন্ন ছদ্মবেশে জেএমবির কার্যক্রম!
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :
বিভিন্ন ছদ্মবেশে বগুড়ার শেরপুরসহ আশপাশের জেলা-উপজেলায় আবারও কার্যক্রম চালাচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ জেএমবি।

এমনকি আসন্ন বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ ঘিরে বড় ধরনের নাশকতার ছকও করেছিল তারা। এজন্য পরিকল্পনা মাফিক সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এই নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকমীরা। কিন্তু গত ৩ এপ্রিল উপজেলার গাড়ীদহ কুঠিরভিটা গ্রামস্থ তাদের আস্তানায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ও দুই জঙ্গি নিহত এবং গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের পর সেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেছে।

তবে ওই ঘটনার পর ছয়দিন দিন অতিবাহিত হলেও আইন-শৃক্সখলা বাহিনী এখনও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। নিহত একজনের পরিচয় মিললেও আরেকজনের মরদেহ এখনও মর্গেই পড়ে রয়েছে। খোঁজ মেলেনি সেই বাড়ির ভাড়াটিয়া মিজানুর রহমানের। আইন-শৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যরা এই ঘটনায় নিহত জেএমবির সদস্য তরিকুলের পরিবারের ৬ জনসহ প্রায় ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। বর্তমানেও জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ঘটনার রহস্যভেদ করতে পারছে না তারা। তবে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই উপজেলায় ইতিপূর্বেও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। সবজি ব্যবসায়ী, অ টোরিকসা চালক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবিনহ বিভিন্ন ছদ্মবেশে সংগঠনটির কার্যক্রম চালাতো। তবে আইন শৃঙখলাবাহিনীর সদস্যরা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের একেবারেই নির্মূল করে ফেলেন। একইসঙ্গে সংগঠনটির একাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার হয়। এসময় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করেন। তবে সেসময়ে গ্রেফতার হওয়া অনেকেরই এখনও হদিস নেই। তাই আগের সেইসব ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোন যোগসূত্র রয়েছে কী-না তা সবাইকে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন তুলেছে।

সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের ঘটনা। বিভিন্ন স্থানে জেএমরি বির“দ্ধে আইন-শৃক্সখলা বাহিনীর অভিযান চলছিল। এই অভিযান থেকে এই উপজেলাও বাদ যায়নি। র‌্যাব সে সময় শেরপুর উপজেলার জয়নগর, পৌরশহরের উত্তর সাহাপাড়া ও পাশের শাজাহানপুরের বামুনিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে। জয়নগর গ্রাম থেকে ভ্যান চালক জেএমবির কমান্ডার সাইদুরকে গ্রেফতার করা হয়। তবে রাজমিস্ত্রীর ছদ্মবেশে উত্তর সাহাপাড়ায় অবস্থান নেওয়া উত্তরাঞ্চলের শীর্ষ জঙ্গী শীষ মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা যায়নি। পরে সাইদুরকে সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর সাইদুর জামিনে বেরিয়ে এসে উধাও হয়।

একইভাবে স¤প্রতি ঢাকার কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া উপজেলার খামারকান্দি এলাকার বাবু নামের আরেক জঙ্গির খোঁজ নেই। আর এই পর্যন্ত সন্ধান মেলেনি জেএমবির শীর্ষ নেতা শীষ মোহাম্মদের।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০১০সালের ১০ ফেব্র“য়ারি জিহাদী বই ও দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনাকালে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বেলঘরিয়া চৌমহনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির বোমা নিক্ষেপকারী দলের প্রশিক্ষক আব্দুল হান্নানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সে পাশের নন্দীগ্রাম উপজেলার সোহাগী পাড়ার নাজমুল হকের ছেলে।

এদিকে ভাই আব্দুল মান্নান তার প্রায় ৪ বছর আগে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। তখন তার বির“দ্ধে মামলা হয়। তিনিও জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন। সেই মামলায় আব্দুল মান্নানের ২০বছরের সাজা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পূর্ব) আরিফুর রহমান মন্ডল জানান, গাড়ীদহ কুঠির ভিটায় ভাড়া বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে নিহত দুইজনের মধ্যে একজনের পরিচয় অদ্যাবধি জানা যায়নি। এছাড়া বাড়িটির ভাড়াটিয়া মিজানুর রহমানকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দিক সামনে রেখে ঘটনার তদন্ত কাজ চলছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

দেশজুড়ে এর অারো খবর