মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
০৮ এপ্রিল, ২০১৬ ১৬:৫৬:১৭
প্রিন্টঅ-অ+
লোকসান কোটি কোটি টাকা
মধ্যপাড়া পাথর খনিতে ৭ মাস উৎপাদন বন্ধ
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
প্রয়োজনীয় যন্ত্রের অভাবে ৭ মাস থেকে পুরোপুরিভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির। পাথর উৎপাদন বন্ধ থাকায় সরকারকে লোকসান গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বেকার হয়ে পড়েছে খনিতে কর্মরত ৭শ খনি শ্রমিক।

গত বুধবার মধ্যপাড়া খনিতে গিয়ে দেখা যায়, পাথর ইয়ার্ডে কোন পাথর নেই। নেই কোন কোলাহল। দেখে মনে হয় যেন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে দেশের একমাত্র সম্ভাবনাময় এই পাথর খনিটি। এক সময় এই পাথর খনিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল মধ্যপাড়া শহর। এখন পাথর না থাকায় আসা যাওয়া নেই বড় বড় ট্রাক, ব্যবসায়ী লোকজন, ঠিকাদার ও শ্রমিকদের। উত্তোলন কাজ না থাকায় শ্রমিকেরা যে যার মত বিক্ষিপ্ত ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে খনি এলাকার বাইরে। ফলে জনশূন্য হয়ে পড়েছে মধ্যপাড়ার কঠিন শিলা প্রকল্প এলাকা।

খনির ঠিকাদারী কোম্পানী সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন যন্ত্রের স্বল্পতার কারণে গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি ভাবে পাথর উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। অপরদিকে খনি কর্তৃপক্ষ বলছেন, খনিটির উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারী কোম্পানী জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) প্রথম দিকে পুরোদমে কাজ শুরু করলেও ক্রমেই বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাজে শিথিলতা আসে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রের হঠাৎ চাহিদা দিয়ে ৭ মাস পূর্বে তারা কাজ বন্ধ করে দিলে একদিকে যেমন সরকার কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনছে অপরদিকে প্রত্যক্ষ ৭শ শ্রমিক এবং পরোক্ষ ভাবে কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

খনি কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রয়োজনীয় ১২৯ প্রকার উৎপাদন যন্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করার জন্য গত বছর মে মাসে ৮৫ কোটি টাকার ৩৬টি এলসি খোলা হয়েছে। যা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন যন্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করা নামমাত্র মূল্য পরিশোধ করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যন্ত্র আমদানি করতে পারেনি। যার ফলে খনিটি পুনরায় উৎপাদনে যেতে পারছে না।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নওশাদ ইসলাম বলেন, ২০০৭ সালের ২৫ মে থেকে মধ্যপাড়া পাথর খনিতে বাণিজ্যিক ভাবে পাথর উৎপাদন শুর“ হয়। প্রথম অবস্থায় প্রতিদিনের উৎপাদন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন হলেও ২০১২ সালে এসে প্রতিদিনের উৎপাদন নেমে আসে মাত্র ৮০০ মেট্রিক টনে। যার ফলে মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ, খনিটির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর বেলার“শ ভিত্তিক কোম্পানী জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) এর সাথে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী জিটিসি ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্র“য়ারি থেকে পাথর উৎপাদন শুর“ করে। এতে খনিটি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিদিনের উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়ায়। কিন্তু উৎপাদন যন্ত্রের অভাব দেখিয়ে গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে খনিটির উৎপাদন বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী মহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন ও অপারেশন) মীর আব্দুল হান্নান জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমদানি করবে। মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ শুধু আমদানিকৃত যন্ত্রের মূল্য পরিশোধ করবে। সে চুক্তি অনুযায়ী গত বছর ১৭ মে হতে ২৩ মের মধ্যেই ১২৯ প্রকার যন্ত্র আমদানির জন্য ৮৫ কোটি টাকার বিপরীতে ৩৬টি এলসি খোলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে যন্ত্র খনিতে এসে পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে জিটিসির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোঃ জাবেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্র আমদানি করা হয়েছে, যা আগামী ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে খনিতে এসে পৌঁছবে। তিনি বলেন, খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় শ্রমিক কর্মচারীদের বসিয়ে রেখে বেতন ভাতা পরিশোধ করতেও কোম্পানিটি লাখ লাখ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই পুনরায় পুরোদমে পাথর উৎপাদন শুরু হবে।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

দেশজুড়ে এর অারো খবর