ভোর ৫:৫৫, শুক্রবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ চট্রগ্রাম

কক্সবাজার সদর উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শিশুধর্ষণ মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। র‌্যাব ৭-এর কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মো. রুহুল আমিন বলেন, মঙ্গলবার ভোরে খুরুশকুল এলাকায় গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ সেলিম (২২) কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কের নতুন ফিশারিপাড়ার (মগচিতাপাড়া) মোহাম্মদ ইউনুসের ছেলে। র‌্যাব কর্মকর্তা রুহুল বলেন, সেলিম ও তার সহযোগীরা খুরুশকুল এলাকায় অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালায়।

“র‌্যাবের দিকে তারা অতর্কিতে গুলি ছুড়তে শুরু করে। র‌্যাব সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ১৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। অন্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে সেলিমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ওয়ানশুটারগান উদ্ধার করা হয় বলে তিনি জানান। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

গত ২৩ অগাস্ট ফিশারিপাড়ায় তিন বছরের এক শিশু ধর্ষিত হয়। এ ঘটনায় সেলিমকে আসামি করে মামলা করেন শিশুর বাবা।

 

চট্টগ্রামে ১০ হাজার ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামে সাড়ে ১০ হাজার ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার মো. মহিউদ্দিন (২০) কক্সবাজার জেলার টেকনাফের মধ্যম শীলবুনিয়া পাড়ার শামসুল আলমের ছেলে। সোমবার ভোর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান বাকলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী। তিনি বলেন, ভোররাতে একটি বাসে করে মহিউদ্দিন টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে আসেন। বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে আসার পথে সন্দেহজনক আচরণের জন্য তাকে তল্লাশি করে বাকলিয়া থানার একটি ফুট পেট্রোল টিম। ওসি বলেন, তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগের ভেতর থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। ছোট ছোট প্যাকেটে মোড়ানা এসব ইয়াবা ব্যাগের ভেতর রাখা জিন্স প্যান্টের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে আসছিল মহিউদ্দিন। গ্রেফতার মহিউদ্দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সঙ্গে জড়িত দুইজনের নাম ও তথ্য দিয়েছে জানিয়ে ওসি প্রণব বলেন, আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখছি। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।

চাঁদপুরে প্রহরীকে খুন করে বাইক লুট

চাঁদপুর শহরের ট্রাংক রোড এলাকায় বাড়ির নৈশপ্রহরীকে খুন করে চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে ডাকাতরা। সদর থানার ওসি ওয়ালী উল্লাহ জানান, সোমবার রাতে সেবা আয়শা গার্ডেন নামের বহুতল ভবনে খুনসহ ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দেলোয়ার হোসেন মতলব দক্ষিণ পৌরসভার মুন্সিরহাট এলাকার নুরু প্রধানিয়ার ছেলে। সেবা হোল্ডিংয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান নান্টু বলেন, সকালে আয়শা গার্ডেনের একজন বাসিন্দা বাসা থেকে বের হতে গিয়ে দেখেন তার মোটরসাইকেলটি নেই। তিনি নৈশ প্রহরীর রুমে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সবাইকে খবর দেন।

পরে সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে আসে। ওসি ওয়ালী উল্লাহ বলেন, “নৈশ প্রহরীকে গলা কেটে হত্যা করে ডাকাতরা চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। লাশের গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন সফররত মালয়েশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি। সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) কামরুল আহসান। বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে ঘুরে দেখছেন মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী। দুপুরের পর কক্সবাজার থেকেই মালয়েশিয়ার উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়ে যাবেন তিনি।

দুইদিনের সফরে রোববার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকায় আসেন মালয়েশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী জাহিদ হামিদি।

সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শেষে আহমাদ জাহিদ হামিদি বলেন, মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩ লাখ লোকের স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি ফিল্ড হসপিটাল বানিয়ে দেবে মালয়েশিয়া। ২-৩ মাসের মধ্যে এই হাসপাতাল তৈরি করে দেওয়া হবে।

বৈঠকে আহমাদ জাহিদ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এই সংকট সৃষ্টিতে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক অন্যান্য ফোরামের অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যক্রমেও সমর্থন জানান। মালয়েশিয়া এই সংকট সমাধানে ঢাকার শীর্ষ অংশীদার হতে পারে জানিয়ে আহমাদ জাহিদ বলেন, এই ইস্যুতে আমরা সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকব।

নাফ নদীতে লাশ হল আরও ১০ রোহিঙ্গা

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকা ডুবে কক্সবাজারের নাফ নদীতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে; এ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছে আরও প্রায় ৩৩ জন।

জেলার টেকনাফ থানার ওসি মো. মাইনউদ্দিন খান জানান, সোমবার ভোরে টেকনাফ উপজেলায় শাহপরীর দ্বীপের ডাঙ্গাপাড়া পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে চার নারী ও ছয় শিশু।

ওসি মাইনউদ্দিন ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রীদের বরাতে বলেন, নৌকাটিকে ৬৫ জন্য যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। সেই হিসেবে এখনও ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নৌকাডুবির পর কোস্টগার্ড, পুলিশ ও স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে বলে তিনি জানান। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পথে নৌকা ডুবে প্রতি সপ্তাহেই রোহিঙ্গারা হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

এর মধ্যে ২৮ সেপ্টেম্বর ৮০ জনকে বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৬০ জনের বেশি এবং ৮ অক্টোবর আরেক দুর্ঘটনায় ৩০ জনের বেশি মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়।

গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেদেশের সেনাবাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গাদের দমন অভিযান শুরুর পর পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকে বাংলাদেশে রয়েছে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

 

কুমিল্লায় দুই মাথাওয়ালা শিশুর জন্ম

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার দেবিদ্বারে দুই মাথা নিয়ে এক শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। উপজেলার সেবা হাসপাতালে গত শুক্রবার রাত দশটায় শিশুটি জন্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে  মা শিশু সুস্থ রয়েছেন বলে জানান সার্জন গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা: মির্জা  মো. আসাদুজ্জামন রতন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করা শিশুটি একটি ছেলে শিশু।  

হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার সিমার পাড় এলাকার ওমান প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম শিশুটি জন্ম দিয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডেলিভারিটি করেন সার্জন গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা: মির্জা  মো. আসাদুজ্জামন রতন।

 

 

উখিয়ায় হাতির হামলায় ৪ রোহিঙ্গা নিহত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বন্য হাতির হামলায় চার রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়ছে; যারা সম্প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে এসেছে।

উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কায় কিসলু জানান, শনিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে বালুখালি ১ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ডি ব্লকে বন্য হাতির দল এ হামলা চালায়।

নিহতদের মধ্যে ৩০-৩৫ বছর বয়সী এক নারী ও তিন শিশু রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিদর্শক কিসলু বলেন, সম্প্রতি আসা রোহিঙ্গাদের জন্য যেসব নতুন শিবির তৈরি করা হয়েছে তার মধ্যে ১ নম্বর শিবিরের ডি ব্লকের শেষ প্রান্তে বনের কাছে একদল বন্য হাতি আকস্মিকভাবে এই হামলা চালায়।

“এতে এখানকার বাসিন্দারা দিগ্বিদিক পালাতে থাকে। একপর্যায়ে হাতির আক্রমণে ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন। তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে ছয়জনকে ভর্তি করায়। দুপুর দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজন মারা যান।”

সপ্তাহ খানেক আগে একই রকম হামলায় আরও দুই রোহিঙ্গা মারা যান জানিয়ে পরিদর্শক কিসলু বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা পাহাড়ি এলাকার গাছপালা কেটে ফেলায় বন্যহাতির বাসস্থান ও খাবার সংকটে পড়ছে। এতে তারা হামলে পড়ছে লোকালয়ে।

গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেদেশের সেনাবাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গাদের দমন অভিযান শুরুর পর পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকে বাংলাদেশে রয়েছে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

 

‘সাগরে মাছ ধরা শুরু হলে রোহিঙ্গাদের আসার সংখ্যা বাড়বে’

কক্সবাজার প্রতিনিধি: সীমান্তের ওপারে এখনও বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় আছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অসংখ্য মানুষ। নতুন আসা রোহিঙ্গা আর সীমান্তগ্রাম শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাগরে আবার মাছ ধরা শুরু হলে রোহিঙ্গাদের আসার হার আবার বাড়বে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শেষ গ্রাম শাহপরীর দ্বীপ থেকে এরকম নৌকায় টেকনাফের সাবরাংয়ে পৌঁছানো সহজ। তবে ছোট নৌকায় মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আসা ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রলার বা বড় নৌকায় করে দলে দলে আগে এপারে এলেও ছোট নৌকাডুবির ঘটনায় ভয় বেড়েছে। বড় নৌকার সংকটেও রোহিঙ্গারা সহজে আসতে পারছে না এপারে। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নানাভাবে ছোট নৌকায় বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রতিদিনই যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে তারাও জানান, আরো অসংখ্য রোহিঙ্গার সীমান্তের ওপারে অপেক্ষার কথা। মিয়ানমারে মোট মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০ লাখের মতো। এরমধ্যে সীমান্তের তিন থানা এবং রেঙ্গুন মিলে রোহিঙ্গা মুসলিমের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখের কাছাকাছি। এদের অর্ধেকেরও বেশি বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে। সীমান্তের ওপারে অবশিষ্টদের অনেকেরই অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না।

রোহিঙ্গাদের স্রোতের সঙ্গে ইয়াবা ও অস্ত্র আসছে: কাদের

কক্সবাজার প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘মিয়ানমার থেকে এখনও স্রোতের মতো আসছে রোহিঙ্গারা। এই স্রোতের সঙ্গে ইয়াবা আসছে, অস্ত্র আসছে। এগুলো আমাদের সামাজিক বিপর্যয় ও সাংঘাতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। কাজেই আমরা জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আমরা এই বোঝা সহ্য করতে পারছি না। এটি আমাদের অসহ্য হয়ে গেছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। মিয়ানমারে বসনিয়া ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটে গেছে।’  জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের হয় মিয়ানমারে ফেরত পাঠান, না হয় অন্য কোনও দেশে স্থানান্তরিত করুন। রোহিঙ্গা জনজীবনের প্রভাব অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

 

চট্টগ্রামে ১০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা আটক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বন্দর নগরীতে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মোস্তফা কামাল (৪৮) নামে এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার রাত ১১টার দিকে নগরীর পাহাড়তলী থানার ঢাকা ট্রাংক রোডের লাকী হোটেল মোড়ে মোহাম্মদ আলীর চা দোকানের সামনে এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো.কামরুজ্জামান  বলেন, মোস্তফা কামালের বাড়ি টেকনাফে।  সে টেকনাফ থেকে ইয়াবাগুলো এনে ঢাকায় ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের জন্য যাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোস্তফা কামালকে আটকের পর পাহাড়তলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান পরিদর্শক কামরুজ্জামান।

 

মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকিতে সহিংসতার সাক্ষী রোহিঙ্গা শিশুরা

করতোয়া ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। সেখানে বাঁশের তৈরি রঙিন এক ছাউনি ঘরে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের একটি দল বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। কেউ মাটিতে বসে বোর্ড গেম খেলছে, কেউ প্লাস্টিকের পশুপাখি নিয়ে খেলাধুলায় মত্ত। দু’জন তো আবার কার্টুন চরিত্রের কস্টিউম পরে লাফাচ্ছে। একজন সেজেছে নিমো, আর আরেকজন সিংহ।

ঘরটির দেয়াল জুড়ে রয়েছে মোমরঙে আঁকা নানা রকম ছবি। ছবিগুলো এঁকেছে এই রোহিঙ্গা শিশুরাই। সেখানে ফুটে উঠেছে তাদের নিজ চোখে দেখা ভয়াবহ সব সহিংসতা-হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি, যা মোমের চেয়েও নরম শিশুমনে গেঁথে গেছে ধারালো পেরেকের মতো।

ছবিগুলো বেশ কয়েকটাই এঁকেছে ১১ বছরের একটি ছেলে। ‘এটা আমার গ্রাম। ওরা এমন করে দিয়েছে,’ ছবিতে আঁকা পুড়তে থাকা ঘরবাড়ি, সেখানে আটকে পড়া লোকজন আর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হামলায় লাশ হয়ে পড়ে থাকা মানুষগুলোকে দেখাল ছেলেটা।

আরেকটি ছবির দিকে ইঙ্গিত করে সে ব্যাখ্যা করল, একটি খেলার মাঠে হঠাৎ করে সেনা সদস্যরা এসে ছেলেমেয়েদের মেরে ফেলল। অন্য একটা ছবিতে কালো আর বেগুনি রঙে আঁকা কয়েকটি হেলিকপ্টারের সঙ্গে এক সেনা সদস্যকেও দেখাল ছেলেটি, যাকে সে চোখের সামনে ছোট্ট আরেকটি শিশুর বুকের ওপর পা রেখে পায়ের নিচে পিষ্ট করে হত্যা করতে দেখেছে। বিহ্বল করে দেয়ার মতো এ বর্ণনা, যা শুনতেই বুক কেঁপে ওঠে, সেই স্মৃতি কিনা এইটুকুন বাচ্চা ছেলে নিজ চোখে দেখে আবার মনের ভেতর নিয়ে ঘুরে ফিরছে!
‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আমাদের ওপর নির্যাতন চালাত। আমি যখন ছবিগুলো আঁকি, আঁকার পর আমি ভালো বোধ করি,’ ছবির মধ্য দিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাগুলো প্রকাশ করতে সুবিধা হয় বলে আল-জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সে জানায়। জাতিসংঘ শিশু তহবিল – ইউনিসেফের হিসেব অনুসারে, আগস্টে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ৬০ শতাংশই শিশু। নৃশংসতার সম্মুখীন হওয়ায় চরম মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকিতে থাকা এই শিশুকিশোরদের স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যেই মানসিক স্বাস্থ্য কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) নামের স্থানীয় একটি এনজিও সংস্থা ইউনিসেফের সঙ্গে মিলে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য তৈরি এই নিরাপদ এলাকা পরিচালনা করছে। এটি ছাড়াও কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে আরও বেশ কয়েকটি এ জাতীয় ‘চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্পেস’ (সিএফএস) এবং স্কুল চালু করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ভয়াবহতা থেকে পালিয়ে আসা শিশুকিশোরদের মানসিক আঘাত ও ট্রমা থেকে বের করে আনতে যতটা সম্ভব কাজ করে যাচ্ছে ইউনিসেফ এবং স্থানীয় ত্রাণ সংস্থাগুলোর সহায়তায় পরিচালিত এই সেন্টারগুলো। এদের মূল উদ্দেশ্য, ছেলেমেয়েগুলো যেন একে অপরের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। কোডেকের সেন্টার ম্যানেজার লুৎফুর রহমান জানান, প্রথম প্রথম সিএফএস ও স্কুলগুলোর শিক্ষক এবং আউটরিচ কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে বাবামাদের কাছে সন্তানদের সেন্টারে পাঠানোর কথা বললেও তারা রাজি হতে চাইতেন না, ভয় পেতেন, জায়গাগুলো তাদের ছেলেমেয়ের জন্য নিরাপদ হবে কিনা।

এমনকি ছেলেমেয়েগুলো প্রথমে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে চাইত না। তাদের কাগজ আর আঁকাআঁকির সরঞ্জাম দিলে সেগুলো নিয়েও অস্বস্তিবোধ করত বলে জানান তিনি। চরম সংকটে থাকা রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহদার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক চিকিৎসা (পিএফএ) দেয়ার কাজ করার কথা জানিয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীরা। ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’-এর পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকাণ্ড ব্যবস্থাপক সিনথিয়া স্কট ট্রমার শিকার মানুষদের প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুধু পিএফএ দেয়া হয়। কেননা ওই সময়টা কাউন্সেলিং বা তাদের অনুভূতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার নয়। তখন তাদের দরকার মূলত একটু সান্ত্বনা, অস্থির মনকে স্থির করা, যেন তারা স্বাভাবিকভাবে চিন্তা ও কাজ করার মতো অবস্থায় আসে। ‘ওই সময় মানুষ মনে করে তারা পাগল হয়ে যাচ্ছে। তখন বড় দায়িত্ব হলো তাদের শুধু বোঝানো যে, না, তুমি পাগল হয়ে যাচ্ছো না,’ বলেন স্কট। মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত শিশুসহ সব বয়সী রোহিঙ্গার মাঝেই হঠাৎ করে ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যাওয়া, উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা, তীব্র স্ট্রেস, প্রায় বারবার দুঃস্বপ্ন, অনিদ্রা, খেতে ও কথা বলতে না পারা এবং আরও বেশি জটিল কেসে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের দিকে নজর দিতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাদের সবাইকে প্রথমে এটাই বোঝানো হয়: তারা এখানে নিরাপদ ও সুরক্ষিত এবং তারা একা নয়।
বোনকে কাঁধে নিয়ে ৭ বছরের রোহিঙ্গা শিশু ইয়োসার

মিয়ানমার নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বেশির ভাগ রোহিঙ্গার জীবনের গল্প ইয়োসার হোসেনের মত। ইয়োসার হোসেনের বয়স মাত্র সাত বছর। গায়ে এখনো স্কুল ড্রেস, জীবনের তাগিদে ছোট বোনকে কাঁধে নিয়ে মেঠো পথে ধরে হাঁটতে শুরু করেছেন। গন্তব্য  বাংলাদেশ। ২৫ আগষ্ট সহিংসতার পর থেকে এভাবেই বাংলাদেশে পাড়ি জমিয়েছে প্রায় পাঁচ লাখের বেশি মুসলিম রোহিঙ্গা। যাদের দুই তৃতীয় অংশ শিশু বলে জানিয়েছে এবিসি নিউজ। রোহিঙ্গা শিশু ইয়োসার হোসেন জানায়, ‘সে(বোন) খুব ভারী। গত সপ্তাহে আমি বাবাকে হারিয়েছি, আমরা বাড়ি-দেশ সবকিছু হারিয়েছি। আমি ভাবতেও পারিনি সমস্ত রাস্তায় ওকে (বোন) বহন করতে পারব।’ ইয়োসার মা ফিরোজা বেগম বলেন, তাদের বাড়ি রাথাডং ছিলো , দুই সপ্তাহ আগে তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। হঠাৎ করেই দেখে সবাই চিৎকার করছে এবং চারিদিকে শুধু আগুন আর আগুন। আমাদের সব কিছু পুড়ে গেল, ইয়োসার বাবা পালিয়ে আসতে গেলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিন বাচ্চা এবং আমি বেঁচে আসতে পেরেছি। ইয়োসারা ছয়দিন ধরে হাঁটছে। সঙ্গে আছে তার দুই খালা ও খালাতো ভাই বোন। তারা পথে যা পাচ্ছে তাই খাচ্ছে। খুব অল্প সময় নিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। যতক্ষণ নাফ নদীর কূল খুঁজে না পাওয়া যাবে ততক্ষণ চলতে থাকে ইয়োসারদের জীবন বাঁচানোর সংগ্রাম। এপির ছবিতে ফুঠে উঠেছে ইয়োসার সংগ্রামের সেই চিত্র। বাংলাদেশে পৌঁছাতে এখনো তাদের পরিবারকে একদিন ধরে রিক্সা, ট্রাক,হেঁটে বাংলাদেশে আসতে হয়েছে। ইয়োসার এখনো স্কুল ড্রেস পড়া, গায়ে সাদা শার্ট, আর সবুজ প্যান্ট পড়া। সে এভাবেই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে। ইয়োসার জানায়, তার কালো জুতা ও মোজা ছিল, কিন্তু আসার সময় আনতে ভুলে গেছে। স্কুলের কথা তার খুব মনে পড়ছে। অবশেষে ২ অক্টোবর ইয়োসার এবং তার পরিবার বাংলাদেশে তাদের এক আত্মীয়র বাড়িতে এসে পৌছায়। এই দীর্ঘ পথ ইয়োসারকে তার ছোট বোনকে কাঁধে করে নিয়ে আসতে হয়েছে।
পাকিস্তানকে পাশে থাকার আহ্বান বাংলাদেশের

বাংলাদেশে নবাগত ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের বাড়িঘরে ফেরৎ পাঠানো নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পাকিস্তানকে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসীর সঙ্গে দেখা করে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার তারিক আহসান এ অনুরোধ জানান। হাই কমিশনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রায় ৫ লাখের বেশি উদ্বাস্তু মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় দেয়া এবং এ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই তার সংখ্যালঘু নাগরিকদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। হাই কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি নিরসন করতে ও শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ার আহ্বান জানান। সে লক্ষ্যে তিনি দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক করার প্রতি প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের হাই কমিশনার শাহিদ খাকান আব্বাসীকে জানান, দীর্ঘ সময় থেকে ঝুলে থাকা পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১০ হাজার টয়লেট বানাবে ইউনিসেফ

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের অস্থায়ী ক্যাম্পে ১০ হাজার টয়লেট নির্মাণ করে দেবে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (রোহিঙ্গা সেল) হাবিবুল কবির এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টর এডওয়ার্ড বিগবেডার বুধবার সচিবালয়ে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং সচিব মো. শাহ কামালও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউনিসেফের সহায়তায় ওই ১০ হাজার টয়লেট নির্মাণে ব্যয় হবে ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গত ২৫ অগাস্ট থেকে সোয়া পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আসা চার লাখের মতো রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোক নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩৫ হাজার ল্যাট্রিন প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে সাত হাজারের বেশি নির্মাণ করেছে। বাকিগুলো দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও নির্মাণ করবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা, চিকিৎসা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করায় ইউনিসেফের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান ত্রাণমন্ত্রী।

 

রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে তিন এনজিওকে মানা

তিনটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে (এনজিও) রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে নিষেধ করেছে সরকার। বুধবার সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য মাহজাবিন খালেদ বলেন, মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনটি এনজিওকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা অন্য কোনো কারণে সেখানে কাজ করছিল বলে মনে হয়েছে। তিনি জানান, এনজিও হিসেবে কাজ করতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে অনুমতি নেওয়ার কথা থাকলেও তা তারা নেয়নি। অনেকে পারমিশন না নিয়ে সরাসরি চলে যাচ্ছে। সেগুলোও বন্ধ করতে বলা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানান, মুসলিম এইড বাংলাদেশ, ইসলামিক রিলিফ এবং আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ কাজ চালাতে মানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনজিও ব্যুরোর পরিচালক (নিবন্ধন ও অডিট) শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে মুসলিম এইডের ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে গত মাসে। তবে কোন অভিযোগে তাদের সেখানে কাজ করতে মানা করা হয়েছে- সে প্রশ্নে কোনো তথ্য দেননি এনজিও ব্যুরোর পরিচালক।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুসলিম এইডের কার্যালয়ে ফোন করা হলেও কেউ ধরেননি। চট্টগ্রামে ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের যে ফোন নম্বর তাদের ফেইসবুক পেইজে দেওয়া আছে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কোঅর্ডিনেটর (মিডিয়া) সাইফুল আজম বলেন, ওই এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য আমরা অনুমতি চেয়েছি। অফিসিয়ালি আমরা এখনও কোনো জবাব পাইনি।

সাগরে নৌকাডুবি ২৯ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফে সাগর থেকে আরও চার রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যারা দুদিন আগে সাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ছিলেন বলে ধারণা পুলিশের।

টেকনাফ থানার ওসি মো. মাইনউদ্দিন খান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গোপসাগরের মিঠাপানির ছড়া এলাকা থেকে দুই শিশু ও দুই রোহিঙ্গা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একই এলাকা থেকে দুই শিশু ও পাঁচ রোহিঙ্গা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে তিনি জানান। তিনি জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে নাফ নদীর গোলারচর পয়েন্টে নৌকাডুবির পর এ নিয়ে মোট ২৯ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হলো। ধারণা করা হচ্ছে সবাই একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। আরও কেউ নিখোঁজ আছে কিনা পুলিশ খুঁজে দেখছে। গত ২৪ আগস্ট রাতে বিদ্রোহী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে হামলা চালানোর পর রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোয় অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে নতুন করে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগেও লাখ চারেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে রয়েছে। জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে বর্ণনা করেছে। পালিয়ে আসার পথে রোহিঙ্গারা প্রায়ই নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে।

নৌকা ডুবি: আরও ৫ রোহিঙ্গার লাশ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকা ডুবির ঘটনায় কক্সবাজারে আরও পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জেলার টেকনাফ থানার ওসি মো. মাইনউদ্দিন খান বলেন, মঙ্গলবার সকালে বঙ্গোপসাগরের মিঠাপানির ছড়া এলাকা থেকে এক শিশু ও চার রোহিঙ্গা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

“রোববার রাত ১০টার দিকে নাফ নদীর গোলারচর পয়েন্টে নৌকা ডুবির পর এই পাঁচজনসহ মোট ২৩ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হল। ধারণা করা হচ্ছে সবাই একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। আরও কেউ নিখোঁজ আছে কিনা পুলিশ খুঁজে দেখছে।”

গত ২৪ অগাস্ট রাতে বিদ্রোহী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে হামলা চালানোর পর রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোয় অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

প্রাণ বাঁচাতে নতুন করে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগেও লাখ চারেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে রয়েছে। জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে বর্ণনা করেছে।

পালিয়ে আসার পথে রোহিঙ্গারা প্রায়ই নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে।

 

১৯ এইচআইভি রোগী শনাক্ত রোহিঙ্গাদের কলেরার টিকা

মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের  মঙ্গলবার থেকে কলেরার টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মঙ্গলবার উখিয়া উপজেলায় কলেরার এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

প্রথম দফায় ১০ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার জনকে কলেরার টিকা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় দফায় এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে প্রথম ডোজ দেওয়ার দুই সপ্তাহ পর থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়। জাহিদ মালেক বলেন, উখিয়া উপজেলায় প্রতিদিন দেড়শটি দল কাজ করবে, দৈনিক ৭৫ হাজার জনকে টিকা খাওয়াবে। আর টেকনাফে ৬০টি দল ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে টিকা দেবে। প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্র সকাল ৮টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২৯ শতাংশ পাঁচ বছর বয়সী। ছয় থেকে ১৭ বছর বয়সী রোহিঙ্গার সংখ্যাও রয়েছে ২৯ শতাংশ।

৩৮ শতাংশ রোহিঙ্গা ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী আর ৬০ বা তার বেশি বয়সের রয়েছে ৪ শতাংশ রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে তিন শতাংশ (প্রায় ২০ হাজার) নারী গর্ভবর্তী আর শতকরা ৭ শতাংশ নারী তাদের শিশুকে বুকের দুধ পান করান। উখিয়াসহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়া এলাকাগুলোর ১৬টি স্থায়ী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং ১২টি অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ২৮টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র সেবা দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এসবের মধ্যে দুটি মেডিকেল কলেজ, দুটি সদর হাসপাতাল, তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, একটি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ১২টি অস্থায়ীভাবে নির্মিত স্বাস্থ্য ক্যাম্প রয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর ১০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রও সহযোগিতা করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাতটি সংস্থা, ১৪টি আন্তর্জাতিক এবং ১৯টি দেশীয় এনজিও ছাড়াও ৪৩টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম ও ২১টি অ্যাম্বুলেন্স স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে। এ পর্যন্ত চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা দলের মাধ্যমে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮১৮ জানকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ছয় হাজার ১১৩ জন আঘাতজনিত, ১৯ হাজার ৯৭৩ জন ডায়রিয়ায়, ৩১ হাজার্ ৭৯ জন শ্বাসযন্ত্রের রোগে, ত্বকের রোগে ১১ হাজার ৮৪৯ জন ও অন্যান্য রোগে ৫৫ হাজার ৮০৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, ফাইলেরিয়া, কলেরা এবং এইচআইভি রোগের জন্য রোগতাত্ত্বিক জরিপ চালু করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এই ব্যবস্থার ফলে ১৯ জন এইচআইভি রোগী শনাক্ত ছাড়াও ২১ জন যক্ষ্মা ও ছয়জন ম্যালেরিয়ার রোগী শনাক্ত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

চট্টগ্রামে ২০ হাজার ইয়াবাসহ একব্যক্তি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটের ট্রেন থেকে ২০ হাজার এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ নাজিম (২৮) বোয়ালখালীর ধলঘাটের রমিজ আহমেদ। ওই ব্যক্তিকে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর ষোলশহর রেল স্টেশন থেকে ধরা হয় বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক শামীম আহমদ জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামমুখী ট্রেনের যাত্রী ছিল ওই যুবক। ষোলশহর স্টেশনে তাকে তল্লাশি করে ২০ হাজার ইয়াবা পাওয়া যায়।

 

নৌকা ডুবি: ১২ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে, যাদের মধ্যে দশ জনই শিশু। টেকনাফ থানার ওসি মাইনুদ্দিন খান জানান, রোববার রাতে নাফ নদীর গোলারচর পয়েন্টে ওই দুর্ঘটনার পর দুইজনের লাশ পেয়েছিলেন তারা।

সোমবার সকালে আবারও তল্লাশি শুরুর পর নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে আরও নয়টি লাশ পাওয়া যায়। নিহত ১২ জনের মধ্যে  একজন পুরুষ ও একজন নারী; বাকিরা সবাই শিশু। এখনও জনা বিশেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে উদ্ধার পাওয়া রোহিঙ্গাদের বরাতে জানিয়েছেন ওসি।

বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম জানান, মিয়ানমারের দিক থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাটি রোববার রাত ১০টার দিকে গোলারচর পয়েন্টে এসে ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই আটজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

“উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা বলেছেন, ওই নৌকায় ৪০ জনের মতো নারী, পুরুষ ও শিশু ছিল। ভাটার সময় দমকা হাওয়ার কারণে নৌকাটি উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।”

নিখোঁজদের সন্ধানে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সুদীপ্ত খুনে এমপির অনুসারী, উদ্দেশ্য সিটি কলেজ দখল !

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাসের খুনের নেপথ্যে নগরীর প্রভাবশালী এক সংসদ সদস্যের অনুসারী এক বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতার নাম এসেছে আলোচনায়।  পুলিশের প্রাথমিক তদন্তও আবর্তিত হচ্ছে ওই বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা এবং তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের ঘিরেই। চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই ওই বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে এই হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এমন ধারণা নিয়েই তদন্ত করছে পুলিশ। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের নেতাদের অভিযোগের তীরও ওই আওয়ামী লীগ নেতার দিকেই। জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন  বলেন, খুনটা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই।  কার নির্দেশে খুন হয়েছে কিংবা কারা খুন করেছে সেই বিষয়েও আমাদের অগ্রগতি আছে। 

তবে যেহেতু পলিটিক্যাল বিষয়, পর্যাপ্ত প্রমাণ হাতে নিয়েই আমরা খুনিকে টান দিতে চাচ্ছি।  না হলে পরিস্থিতি আবার গরম হয়ে যাবে। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, খুনের পর প্রাথমিক তদন্তে তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।  এর মধ্যে একটি হচ্ছে সিটি কলেজ দখলে নেওয়া।  বাকি দুটি হচ্ছে সিটি কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব এবং ফেসবুকের পোস্ট থেকে সৃষ্ট বিরোধ।  তবে এর মধ্যে সিটি কলেজ দখলে নেওয়ার জন্য হত্যাকা-টিই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। ছাত্রলীগ নেতা খুনের বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ডা.আফছারুল আমিন  বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগে এত নেতা থাকতে আপনি আমাকে কেন প্রশ্ন করছেন, বিষয়টা আমার কাছে ক্লিয়ার না। তবুও বলছি-আমি কখনোই চাঁদাবাজ-খুনি-দুর্বৃত্তদের সঙ্গে নিয়ে পলিটিক্স করিনি। তিনি বলেন, আমি-তো ছাত্রলীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করি না।  তবুও বলছি, এই হত্যাকা-ে যে বা যারাই জড়িত থাকুক, পুলিশ যেন তাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করে। 

এই ব্যাপারে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করব। সিটি কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির বড় অংশের নিয়ন্ত্রক নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।  তাদের ওপর আর্শীবাদ আছে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর।  খুন হওয়া নগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস ছিলেন এই অংশটির সঙ্গে। ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সিটি কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতি মহিউদ্দিন-সুজনদের নিয়ন্ত্রণে চললেও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেটি কিছুটা ভেঙে যায়।  নগরীর দুই সংসদ সদস্য ডা.আফছারুল আমিন ও এম এ লতিফের বলয়ে দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়, যা এখনও সক্রিয় আছে।  আফছারুল আমিনের অনুসারী অংশটি নিয়ন্ত্রণ করেন লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা দিদারুল আলম মাসুম।  তার সঙ্গে আছেন কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি মাসুদ করিম টিটু। ২০১২ সালে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি হয়। 

এরপর থেকে কোন্দলের কারণে কমিটি গঠন করতে না পারলেও সম্প্রতি এই বিষয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।  সংসদ সদস্যের অনুসারীরা ও একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর কমিটিতে নিজেদের লোক আনতে মরিয়া হয়ে উঠেন।  বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিবাদী সুদীপ্ত বিভিন্ন নেতাদের উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে পোস্ট দেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। জানতে চাইলে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু  বলেন, কলেজে দখল প্রতিষ্ঠার জন্য নাকি ফেসবুক পোস্টের জন্য, কি কারণে সুদীপ্তকে খুন করা হল সেটা আমরা জানতে চাই।  খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের মুখোশ খুলে দিতে হবে। শুক্রবার সকালে নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ায় সুদীপ্তকে (২৫) বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা

করতোয়া ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রবেশমুখে অপেক্ষারত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখন মানবেতর দিন যাপন করছেন। মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিধন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অফিসের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে সেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব দেন। সে সময় ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের বিষয়ে একমত পোষণ করে উভয় দেশ। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একটি চুক্তির খসড়াও হস্তান্তর করা হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমার ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে তা স্পষ্ট নয়। মিয়ানমারের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইটকে উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ‘বাংলাদেশে ঢোকার জন্য রাখাইনের পশ্চিমাঞ্চলের দুই গ্রামের মধ্যবর্তী সীমান্তের কাছে ১০ হাজারেও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছে’।

মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো সরকারের মুখপাত্র গ্লোবাল নিউ লাইট তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যেতে চাওয়া রোহিঙ্গাদের বারবার আশ্বস্ত করতে চাইছে যে, রাখাইনে তারা এখন নিরাপদ। তা সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা নিজেদের ইচ্ছায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গ্রামবাসী ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভুগছে। বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা ক্রমাগত তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ‘নিজেদের গ্রাম থেকে রাখাইন বৌদ্ধ অধ্যুষিত গ্রামগুলো পেরিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে রোহিঙ্গারা।’ ক্রিস হ্যারিস নামে এএফপিকে বলেছেন রোহিঙ্গা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ আরাকান প্রজেক্টের একজন প্রতিনিধি। তিনি জানান, গ্রামপ্রধান যদি গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, সঙ্গে সঙ্গেই সমগ্র গ্রামবাসী সেই সিদ্ধান্ত মেনে গ্রাম শূন্য করে পালিয়ে যায়।’

সোমবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে বাংলাদেশকে বলেন. তারা ১৯৯৩ সালের চুক্তি অনুসারে সেই প্রক্রিয়ায় শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, সেই চুক্তি অনুযায়ী ১৯৯০ দশক ও ২০০৫ সালে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে যার্য়। ক’দিন আগে একই প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি।  শরণার্থী ও মানবাধিকার গ্রুপগুলো জানায়, এই যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া যেই নথির উপর করা হবে সেগুলো বেশিরভাগ রোহিঙ্গারই নেই। এছাড়া মিয়ানমারে ফিরে গেলে আমারও হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হত পারে বলে আশঙ্কা শরণার্থীদের। এদিকে রাখাইনে যারা থেকে গেছেন তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সোমবার সেই সহিংসতার এলাকায় গিয়েছেন। তারা বলেছেন, সেখানে ‘অকল্পনীয়’ দুর্দশার শিকার বাসিন্দারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিনিধিদলও সেখানে গিয়েছিলো। তারাও দেখেঝে গ্রামগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তারা এই সহিংসতা থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

 

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা নিহত

বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে স্থল মাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চাক ঢালার সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয় বলে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তসলীম ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন।

নিহতের নাম নুরুল ইসলাম (৪০) বলে জানান তিনি। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল  বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে স্থল মাইন বিস্ফোরেণে এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। ওপারে হওয়ায় তার মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

রোহিঙ্গারা গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে আনতে পারে, না হলে তা উদ্ধার সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। স্থানীয় সংবাদকর্মী আবদুল হামিদ বলেন, “মঙ্গলবার সকালে রোহিঙ্গা নুরুল ইসলাম চাক ঢালার ৪৪ নম্বর সীমান্ত পিলার দিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে গৃহ পালিত গরু ছাগল আনতে যায়। তখন মাইন বিস্ফোরেণে তার মৃত্যু হয়।”

তবে এ ব্যাপারে বিজিবি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। এরআগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর একই সীমান্তের ওপারে মাইন বিস্ফোরণে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়।

 

‘স্ত্রীর গলা কেটে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা’

চট্টগ্রামে ‘স্ত্রীর গলা কেটে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টার পর’ দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফাইল ছবি ফাইল ছবি শনিবার রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানার মৌলভী পুকুর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহতরা হলেন- মিঠু দাশ (৩০) ও তার স্ত্রী রিকু দাশ (২৫)। চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বাশার  জানান, পেশায় মিস্ত্রি মিঠুর সঙ্গে তিন মাস আগে রিকুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা মৌলভী পুকুর পাড়ের এক বাসায় থাকতে শুরু করেন।

“পারিবারিক কলহের জের ধরে মিঠু গতরাতে তার স্ত্রীর গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে স্ত্রী মারা গেছে ভেবে নিজে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।” পরে স্থানীয়রা রাত সোয়া ৩টার দিকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে বলে মেডিকেল ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান।

তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আহত ও অসুস্থ হওয়ায় পুলিশ এখনও তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। ফলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লায় বাস খাদে, প্রাণ গেল ৭ জনের

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় একটি বাস খাদে পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার নূরিতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে কুমিল্লা হাইওয়ের পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ জানান। 

তিনি বলেন, তিষা পরিবহনের বাসটি কোম্পানীগঞ্জ নবীনগর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি রাস্তার পাশে একটি খাদে পড়ে যায়।

খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বাসের জানালা ভেঙে উদ্ধার করা হয় বেশ কয়েকজন যাত্রীকে।     পরিতোষ ঘোষ জানান, ঘটনাস্থল থেকে মোট পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেন তারা। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুই জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে একটি শিশু ও দুইজন নারী, বাকিরা পুরুষ। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।  

রোহিঙ্গা পরিবারে দিনে জন্ম নিচ্ছে ১২ শিশু

কক্সবাজার প্রতিনিধি: মিয়ানমারে সহিংসতার জেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোতে গত এক মাসে ৩৫০টি শিশু জন্ম নিয়েছে। গড়ে প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে ১২টি করে শিশু। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কক্সবাজারের সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। এর বাইরে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া স্থানীয়ভাবে আরও শিশু জন্ম নিচ্ছে, যার সঠিক তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে ঘরে ঘরে আছে একজন করে গর্ভবতী নারী। প্রায় ৭০ হাজার গর্ভবতী মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে এমন তথ্য আছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে।

এত নবজাতক এবং প্রসূতির স্বাস্থ্যঝুঁকি যাতে সৃষ্টি না হয়, তা ঠিক রাখাই এখন কক্সবাজারের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া নবজাতকের মধ্যে মাত্র একটি শিশু ছাড়া আর কোন মৃত্যুর তথ্য নেই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা.শেখ আব্দুস সালাম  বলেন, আমি শুক্রবার উচ্চপর্যায়ে যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি তাতে ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা আসা শুরু হওয়ার পর এই পর্যন্ত ৩৫০টি শিশুর জন্ম হয়েছে বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ১২টি করে শিশু জন্মের বিষয় আমার নোটিশে এসেছে। এর বাইরে স্থানীয়ভাবে অথবা ধাত্রীর মাধ্যমে ডেলিভারি হচ্ছে, যেগুলো আমার নোটিশে আসেনি। এছাড়া প্রায় ৬০-৭০ হাজার গর্ভবতী রোহিঙ্গা নারী আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং কমিউনিটি ক্লিনিক ও নারীবান্ধব সেবাকেন্দ্রে একটি ছেলেশিশুর জন্ম দেন মিয়ানমারের মংডু জেলার পোয়াখালী থেকে আসা রেজিয়া বেগম।

একদিন আগে রেজিয়ার বোন মাবিয়াও একই সেবাকেন্দ্রে জন্ম দিয়েছেন একটি ছেলেশিশু। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার দুপুরে মিয়ানমারের মংডু জেলার কাউয়ারবিল থেকে আসা জান্নাত আরা একইসঙ্গে দুই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এর আগে সকালে একটি ছেলেশিশুর জন্ম দেন মিয়ানমারের মংডু জেলার নারিবিল থেকে আসা হাবিবা। প্রতিদিন বিভিন্ন অস্থায়ী কেন্দ্রে, কমিউনিটি ক্লিনিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বিভিন্ন এনজিওর ক্যাম্পে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে

নবজাতকের জন্ম দিচ্ছেন রোহিঙ্গা নারীরা। উখিয়ার কুতুপালং কমিউনিটি ক্লিনিক ও নারীবান্ধব সেবাকেন্দ্রের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার অজিত বড়ুয়া  বলেন, প্রতিদিন ২০০-২৫০ রোহিঙ্গা রোগী এখানে আসছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ২৫-৩০ জন গর্ভবতী আসছে। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স হাবিবা জান্নাত  জানান, গত এক মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন রোহিঙ্গা নারী ১৫টি সন্তান প্রসব করেছেন। রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় উখিয়া উপজেলায় খোলা ২১টি ক্যাম্পের মধ্যে বালুখালী, কুতুপালং, রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা হেলথ ক্যাম্প এবং এমএসএফ ক্লিনিকে ডেলিভারির সুবিধা আছে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ডেলিভারি করা হচ্ছে। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা.মেজবাহ উদ্দিন  বলেন, ৬টি জায়গায় আমরা ডেলিভারির ব্যবস্থা রেখেছি।

২৫ আগস্টের পর থেকে ৭০ জনের মতো ডেলিভারি হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন, বালুখালীতে ১১ জন, পালংখালীতে ৪ জন, রোহিঙ্গা হেলথ ইউনিটে ২৬ জন এবং এমএসএফ ক্লিনিকে ৬ জনের ডেলিভারি হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে খোলা অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে অবশ্য ডেলিভারির সুবিধা নেই। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হ্নীলা ইউনিয়নে তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিকে রোহিঙ্গা নারীদের প্রসব করানো হচ্ছে। ২৫ আগস্টের পর থেকে টেকনাফে ১৭৫ জন রোহিঙ্গা নারী সন্তান জন্ম দিয়েছেন বলে  জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সুমন বড়ুয়া। এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.মো.শাহীন আব্দুর রহমান চৌধুরী  বলেন, হাসপাতালে ২৫ আগস্টের পর থেকে ২১ জন রোহিঙ্গা নারীর ডেলিভারি হয়েছে। সবগুলোই নরমাল ডেলিভারি।

 

 

কুমিল্লায় ভারতগামী ২ রোহিঙ্গা আটক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারত যাওয়ার সময় এক রোহিঙ্গা নারী ও তার ছেলেকে আটক করেছে বিজিবি। শুক্রবার সন্ধ্যায় সীমান্তের জামপুর এলাকার ‘শূন্য রেখা’ থেকে বিজিবি তাদের আটক করে বলে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. আবুল ফয়সাল জানান।

এরা হলেন-মিয়ানমারের মন্ডু থানার নুরুল্লাপাড়া গ্রামের সলিম উদ্দিনের স্ত্রী নার্গিস বেগম (২৫), তার ছেলে রবি (৮)।

ওসি ফয়সাল বলেন, রাতে চৌদ্দগ্রাম শিবের বাজার বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক শামসুল হক ওই দুই রোহিঙ্গাকে হস্তান্তরের পর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

“দুই রোহিঙ্গা টেকনাফ থেকে কুমিল্লা আসে। পরে চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।” রাতেই তাদের টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

 

যুক্তরাজ্যের আরও ৮৫ টন ত্রাণ চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্যের ত্রাণের দ্বিতীয় চালান চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টায় ওই ত্রাণ নিয়ে একটি উড়োজাহাজ চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। বাংলাদেশের পক্ষে ত্রাণ গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ডিএফআইডি থেকে পাঠানো এই চালানে ৮৫ দশমিক ০৮ টন ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে।

এর মধ্যে আছে এক হাজার ৪৭৮ শেল্টার কিট, ২০ হাজার ক¤॥^ল এবং সাড়ে ১০ হাজার সিøপিং ম্যাট। ডিএফআইডির লজিস্টিকস অফিসার মার্ক কুইন এবং চট্টগ্রামে আইওএমর অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স অ্যাসিসটেন্ট মাসুদুর রহমান খান ত্রাণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ডিএফআইডির পাঠানো ৯৮ টন ত্রাণবাহী প্রথম বিমানটি বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রামে আসে।

 এ নিয়ে দুই দিনে মোট ১৮৩ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ, রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্টের পাঠানো মোট এক হাজার ৪৮৬ টন ত্রাণ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ভারত দুটি বিমান ও একটি জাহাজে করে মোট ৮০৭ টন, চীন দুটি বিমানে ১১০ দশমিক ৫৩ টন, যুক্তরাজ্য দুটি বিমানে ১৮৩ টন, সৌদি আরব একটি বিমানে ৯৪ টন, ইন্দোনেশিয়া আটটি বিমানে ৭৭ টন, ইরান দুটি বিমানে ৬৮ টন, মরক্কো একটি বিমানে ১৪ টন ও মালয়েশিয়া একটি বিমানে ১২ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে।

এছাড়া মালয়েশিয়ান রেড ক্রিসেন্ট ১০১ দশমিক ৫ টন ও জাপানি রেডক্রস ১৮ দশমিক ৫ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী অ্যালিস্টার বার্ট বৃহস্পতিবার ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে বৈঠক করে আরও ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড (৪ কোটি ২ লাখ ৭৬ হাজার ডলার) সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা মিয়ানমার ও বাংলাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয় করা হবে।

 

উখিয়ায় সাগর থেকে শিশুসহ ১৬ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সাবাজারের উখিয়ায় সাগরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার বিকালে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানি সৈকতের পাথুয়ারটেক এলাকায় সাগর থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এছাড়া এ সময় আরও চারজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বিকালে ৫টার দিকে ইনানি এলাকার পাথুয়ারটেক সৈকত সংলগ্ন সাগরে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এদের অধিকাংশই শিশু। সাগরে আরও লোক ভাসছে। তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। মৃতদেহ ইনানি পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। মিয়ানমারের রাখাইনে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ক্যাম্পে গত ২৪ আগস্ট রাতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। তখন থেকেই বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্রোত চলছে। রাখাইনে পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে পায়ে হেঁটে যারা বাংলাদেশ সীমান্তে আসতে পারছেন, তারা মংডু থেকে মাছ ধরার নৌকায় করে নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এ সময় নৌকা ডুবে মারা যাচ্ছে অনেক নারী ও শিশু।

জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের রাখাইন সফরে বাধা
রাখাইন রাজ্যের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দেখতে কূটনীতিকদের একটি সফর মিয়ানমার সরকার বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের দিন  বৃহস্পতিবার বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে। গত ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর এটাই ছিল জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সফরের প্রথম পরিকল্পনা, যা ভেস্তে গেল। বিবিসি বলেছে, সফর বাতিলের কোনো কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দেখায়নি বলে জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে বলে জাতিসংঘের দাবি। তবে মিয়ানমার সরকার তা অস্বীকার করে আসছে। রাখাইনে গত মাসে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর ওই রাজ্য থেকে জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। সেখানে সাংবাদিকদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অভিযানের মুখে রাজ্যটি থেকে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই শরণার্থীরা বলছেন, সেনাবাহিনী নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা করছে, জ্বালিয়ে দিচ্ছে বাড়ি, ধর্ষণ করছে নারীদের।

সু চিকে সাড়া দিতে হবে: ব্রিটিশ মন্ত্রী
মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর পশ্চিমা কোনো দেশের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথম রাখাইন সফর করে আসা ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড রোহিঙ্গাদের দুর্দশা লাঘবে সম্ভব সব ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অং সান সু চির সরকারের প্রতি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেছেন, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ করে মানবিক সহায়তা দেওয়ার যে আহ্বান জাতিসংঘ জানিয়ে আসছে, তাতে মিয়ানমারের নেত্রীকে সাড়া দিতে হবে। গণতন্ত্রে ফেরার পথে গত কয়েক বছরে যে অগ্রগতি মিয়ানমার অর্জন করেছে, রাখাইনের ঘটনাপ্রবাহে তা ভেস্তে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্ক ফিল্ড মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দেশটির নেত্রী সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহে রাখাইনে যে বিপুল বিপর্যয় আমরা দেখেছি, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সহিংসতা আমাদের থামাতে হবে এবং যারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তাদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, মার্ক ফিল্ড তা নিজের চোখে দেখেছেন বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। মিয়ানমার সফর শেষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে এসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্ক ফিল্ড। কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কাজও তিনি দেখতে যাবেন।

 

কূটনৈতিক চাপে রোহিঙ্গাদের ফেরতের আশা কাদেরের

বান্দরবান প্রতিনিধি: রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারে উপর কূটনৈতিক চাপে সফলতা আশা করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার তিনি বান্দরবানে রেহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের সময় সাংবাদিকদের বলেন,  প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। খুব শিগগিরই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় জিরো পয়েন্টে এক হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে ত্রাণ দেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরুর পর এরাসহ সাড়ে ৪ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, এদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়ায় গড়ে তোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করে আসছে। তাদের ফেরত নিতে আহ্বান জানানো হলেও তাতে মিয়ানমার সাড়া দেয়নি। এবার শরণার্থীদের ঢল নামার পর বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারের সমালোচনা চলছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও জাতিসংঘে সাম্প্রতিক ভাষণে তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে স্পষ্ট করে বলেছেন শেখ হাসিনা। শরণার্থীদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, অতীতে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অনেক অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু এবারের রোহিঙ্গা সঙ্কটে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে কোনো অনিয়ম ও উচ্ছৃঙ্খলা হয়নি। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের তদারকিতে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। ত্রাণ বিতরণেল সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊ শৈ সিং, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, বান্দরবান জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক, ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

এইডস আক্রান্ত ২ রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম মেডিকেলে

এইডস আক্রান্ত দুই রোহিঙ্গা নারী চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন। কক্সবাজারের উখিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে রোববার রাতে তাদের পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন চমেক পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার।

তিনি বলেন, এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত নারীদের একজনের বয়স ৫০ বছর, অন্যজনের ৬০ বছর। সরকারি হিসেবে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ১৪৩ জনের মধ‌্যে এইচআইভি সংক্রমণের তথ‌্য পাওয়ার কথা এই বছরই জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এর মধ্যে ৬৫৮ জনের মৃ‌ত‌্যু ঘটে।

এইডস আক্রান্ত দুই নারীর সঙ্গে সাপের কামড় খাওয়া এক বৃদ্ধকেও কুতুপালং শরণার্থী শিবির থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর থেকে সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নামে। শরণার্থীর সংখ্যা এরই মধ্যে ৪ লাখ ছাড়িয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রথম দিকে যারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, তাদের বেশির ভাগের ছিল গুলি ও বোমার জখম। এখন নানা রোগে আক্রান্তরাও আসছেন।

চিকিৎসা শেষে রোহিঙ্গাদের আবার কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে ফেরত পাঠানো হয়।

 



Go Top