রাত ৪:০০, বৃহস্পতিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / রাজধানীর বাজারে চালের অতিরিক্ত দামে হতাশ সব শ্রেণীর মানুষ
হু হু করে বাড়ছে চালের দাম
রাজধানীর বাজারে চালের অতিরিক্ত দামে হতাশ সব শ্রেণীর মানুষ
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চালের বাজারের সংকট চলছে। বর্তমানে চালের অতিরিক্ত মূল্যে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছেন সব শ্রেণীর ক্রেতা-বিক্রেতা। চালের দাম নিম্ন মধ্যবিত্ত ও খেঁটে খাওয়া মানুষদের ক্রয় সীমার বাহিরে চলে যাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। বর্তমানে নিম্নমানের চালের মূল্যও প্রতিকেজি ৫০ ছাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আবার নতুন করে যোগ হয়েছে সহসায় চালের মূল্য না কমার বিষয়টি।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট শুক্রাবাদ এলাকার চালের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী প্রতিকেজি মোটা চাল (গুটি, স্বর্ণা, বিআর-২৮,পারিজা) বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকা, যা কোরবানির ঈদের আগে ছিলো ৪৫-৪৬ টাকা। ১ নম্বর মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা, যা ঈদের আগে ছিলো ৫৪-৫৫ টাকা এবং নাজিরশাইল চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, যা ঈদের আগে ছিলো ৫৮-৬০ টাকা। এ বিষয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতো দিন ধরে চলা চালের বাজারের সংকট নিরসনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো কার্যকর ও সঠিক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

 এ সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিলো জনগণের কাছে কম মূল্যের চাল পৌছে দেওয়া। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কম মূল্য দূরের কথা স্বাভাবিক মূল্যেই চাল পাওয়া যাচ্ছে না। কারওয়ান বাজারের চাল কিনতে আসা কামরুল হাসান বলেন, আমরা জানি দেশে বন্যা হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দিচ্ছে সরকার। তবে এমন অবস্থাও হয়নি যে চালের মূল্য কেজিপ্রতি ৭০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, সরকার আসলে অবৈধ মজুত চাল উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বাজারের এ অবস্থা। মো. জাকির হোসেন রাজধানীতে রিকশা চালিয়ে জীবন-যাপন করেন। শুক্রাবাদ বাজারে চাল কিনতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ, সারা দিনের আয়ে সংসার চালানোই আমাদের জন্য কষ্ট হয়।

 তার উপরে আবার চালের বৃদ্ধি, আমরা বাঁচবো কী করে? চালের এ মূল্য বৃদ্ধি আমাদের জন্য এখন গলারকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সহসায়ই কমছে না চালের দাম। কারওয়ান বাজারে চালের খুচরা বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, চালের বাজার শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছি না। ক্রেতারা যেমন সংকটে আছেন আমরাদেরও একই অবস্থা। শুক্রাবাদ কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মো. লিটন বলেন, দানব মুজদাররা এ সুযোগে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। মাঝখানে আমরা ও ক্রেতারা ফেঁসে যাচ্ছি। এ অবস্থা বেশি দিন চলতে থাকলে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে।

চট্টগ্রামেও বাড়ছে চালের দাম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: শুধু চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার দুই দফায় কমিয়েছে আমদানি শুল্ককর। কিন্তু কাজের কাজ কী হলো? বরং গত দুইদিনে চালের মানভেদে বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা দাম বেড়েছে। ফলে শুল্ক কমের সুফল মিলছে না ভোক্তা পর্যায়ে। প্রতিদিনই হু হু করে বেড়ে চলেছে চালের দাম। দুদিন আগেও ৪৬ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ভারতীয় আতপ চাল বিক্রি হয়েছে ২০৮০ থেকে ২১০০ টাকায়। কিন্তু শুক্রবার এই চাল ২২৫০ থেকে ২৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে। স্বর্ণা চাল কয়েকদিন আগে বিক্রি হয়েছে ২৪০০ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ টাকায়।

পাইকারি বাজারে মিনিকেট (আতপ) বিক্রি হচ্ছে ২২০০-২৪০০ টাকায়। আগে ছিল ২৫০০ থেকে ২৬৫০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বর্তমানে চিনিগুঁড়া বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০ টাকায়, আটাশ বিশি ২২০০ টাকা, দেশি পাইজাম (আতপ) ২১০০ টাকা ও নূর জাহান ২৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের বৃহত্তম চালের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে চালের বুকিং দর টনপ্রতি ৩৯৫ থেকে ৪০০ ডলার ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা বেড়ে ৪০০ থেকে ৪৪০ ডলার হয়েছে। বুকিং দর বাড়ার বিষয়টি চালের দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া যে হারে চালের চাহিদা বেড়েছে সে হারে সরবরাহ বাড়েনি। রয়েছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেটও। তাই দাম বাড়ছে বলে মত ব্যবসায়ীদের।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top