সকাল ৮:১৫, বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ বিনোদন / সেদিনের রাজা-রাণী’র বিয়ে বার্ষিকী থেকে…
সেদিনের রাজা-রাণী’র বিয়ে বার্ষিকী থেকে…
আগস্ট ৩, ২০১৭

অভি মঈনুদ্দীন : তাদের জীবনেও অন্য অনেক দম্পতির মতোই ঝড় এসেছে, মনোমালিণ্য হয়েছে, কিন্তু তবুও একে অন্যকে ছেড়ে যাবার কথা ভুলেও ভাবেননি। মান হয়েছে, অভিমান হয়েছে। আর এসব শেষে দু’জনেই দু’জনার ভালোবাসার কাছে হার মেনে দু’জন দু’জনার কাছে আতœসমর্পন করেছেন। আর এভাবেই বছরের পর পর বছর দু’জনের প্রতি দু’জন ভালোবাসা দিয়ে একে অন্যকে আগলে রেখেছেন। হয়েছেন চলচ্চিত্রের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তারকা দম্পতি, হয়েছেন দর্শকের কাছে প্রিয় জুটি, ভালোবাসার জুটি ওমরসানী-মৌসুমী। নন্দিত এই তারকা জুটির বিয়ে বার্ষিকী ছিলো গেলো ২ আগস্ট। সফল দাম্পত্য জীবনের দুই যুগ পার করলেন তারা দু’জন। অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক একটি দিনই অতিবাহিত করছিলেন তারা দু’জন।

 দিনটির শুরুতে একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং ২ আগস্টের কথা স্মরণ করে পুরোনো দিনে ফিরে গিয়েছিলেন। গেলো ২ আগস্ট সন্ধ্যার পর রাজধানীর উত্তরাতে অবস্থিত মৌসুমী-সানীর ছেলে ফারদিনের রেঁস্তোরা মেরি মন্টানা’তে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। রাজা এবং রাণী’র বেশে দুটি ভিন্ন আসনে বসা সুখী এই তারকা দম্পতির খুউব কাছের কিছু মানুষ এসে তাদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের জন্য দোয়া কামনা করেন।

মৌসুমী বলেন,‘ আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা বেশ ভালো আছি, আলহামদুল্লিাহ। দেখতে দেখতে দাম্পত্য জীবনের এতোটা বছর কীভাবে যে পার করেছি ভাবলেই অবাক হই। সত্যি বলতে কী সানী খুউব ভালো মনের একজন মানুষ। আমাকে প্রতিটি মুহুর্তে সাপোর্ট করেছে, আমার পাশে থেকেছে। আমিতো আমার বাবার পর সানীকেই অভিভাবক হিসেবে মনেকরি। তাছাড়া আমার দুই সন্তানের বাবাও সানী। তাই সন্তানদের প্রতিও সানী খুউব দায়িত্বশীল। সবাই দোয়া করবেন আমরা যেন আমৃত্যু একসঙ্গে থাকতে পারি, সুখে থাকতে পারি। সন্তানদের নিয়ে সুখী হতে পারি।’ ওমর সানী বলেন,‘ আমার জীবনের অনেক বড় আশীবার্দ মৌসুমী। মৌসুমী আমার জীবনটাকে অনেক গুছিয়ে দিয়েছে।

 যে জীবনে মৌসুমী ছিলো না, সে জীবন কেমন ছিলো আমি জানিনা। কিন্তু যে জীবনে মৌসুমীর সঙ্গে আমার পথচলা শুরু হয়েছে সে জীবনে সুখের, আনন্দের। মৌসুমীর তুলনা সত্যিই শুধু মৌসুমী। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার অবদান অপরিসীম। তাই মৌসুমীর জন্য সবসময়ই আমার ভালোবাসা থাকবে, ইনশাল্লাহ। সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমাদের, আমাদের সন্তানদের সুস্থ রাখেন ভালো রাখেন।’ সেদিন মেরি মন্টানাতে’ উপস্থিত হয়ে তারকা দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা রোজিনা, চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ, আমিন খান ও তার স্ত্রী ¯িœগ্ধা, অমিত হাসান ও তার স্ত্রী লাবনী, নাট্যনির্মাতা আরিফ খান, সাংবাদিক অভি মঈনুদ্দীন, নিপু বড়–য়া, কামরুজ্জামান মিলু’সহ আরো অনেকে।

রোজিনা বলেন,‘ হঠাৎ করেই মৌসুমী সানীর এই অনুষ্ঠানে আসা। এমন সফল তারকা দম্পতিকে সরাসরি এসেই শুভেচ্ছা জানানোর আগ্রহ ছিলো আমার। তারা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক এই শুভ কামনা আমার।’ বাপ্পারাজ বলেন,‘ বিবাহ বার্ষিকীতে শুভ কামনা রইলো মৌসুমী সানীর সংসারে যেন সবসময়ই সুখ থাকে।

’ আমিন খান বলেন,‘ সানী ভাই আর মৌসুমীর জন্য সবসময়ই আমার শুভকামনা। আমরা একই পরিবারের এবং প্রতিবেশি। যে কারণে আমাদের মধ্যে সম্পর্কটা অন্য অনেকের চেয়েও খুউব আপন। আমৃত্যু তারা যেন একসঙ্গে থাকেন, ভালো থাকেন-এই শুভ কামনা।’ অমিত হাসান বলেন,‘ সুখী এই তারকা দম্পতির জন্য অনেক শুভ কামনা।

দুই সন্তানকে নিয়ে যেন তারা সবসময়ই ভালো থাকেন এই শুভ কামনা।’ প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী ভালোবেসে চিত্রনায়ক ওমর সানীকে বিয়ে করেছিলেন ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট। ওমর সানী মৌসুমী জুটির প্রথম চলচ্চিত্রে ছিলো ‘দোলা’। এটি ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়। এরপর একই জুটি অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে ‘আতœ অহংকার’, ‘প্রথম প্রেম’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘হারানো প্রেম’, ‘গরীবের রানী’, ‘প্রিয় তুমি’, ‘সুখের স্বর্গ’, ‘মিথ্যা অহংকার’, ‘ঘাত প্রতিঘাত’, ‘লজ্জা’, ‘কথা দাও’ ‘¯েœহের বাঁধন’ ইত্যাদি।

 তাদের মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ চলচ্চিত্র হচ্ছে শাহীন সুমনের ‘সাহেব নামে গোলাম’। এটি ২০০৯ সালে মুক্তি পায়। এরপর দীর্ঘ সাত বছর পর তারা জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন বেলাল আহমেদের নির্দেশনায় ‘ভালোবাসবোই তো’ চলচ্চিত্রে। ওমর সানী মৌসুমী বর্তমানে উত্তম আকামের ‘আমি নেতা হবো’ চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। বাংলা চলচ্চিত্রে ওমর সানীর সম্পৃক্ততা নূর হোসেন বলাইয়ের ‘এই নিয়ে সংসার’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে হলেও দর্শকের সামনে ওমর সানীকে সবার আগে তুলে ধরেন ‘চাঁদের আলো’ ছবির মাধ্যমে। এই ছবিতে তার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন কিংবদন্তী অভিনেত্রী আনোয়ারার মেয়ে মুক্তি। এই ছবির ‘তুমি আমার চাঁদ আমি চাঁদেরই আলো’ গানটি এখনো দর্শক শ্রোতার মুখে মুখে ফিরে।


 একই সময়ে ওমর সানী অভিনীত যে ছবিগুলো ব্যাপক ব্যবসা সফল হয় তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছবি হচ্ছে নূর মোহাম্মদ মনির ‘প্রেম প্রতিশোধ’, নূর হোসেন বলাইয়ের ‘মহৎ’, নাদিম মাহমুদের ‘আখেরী হামলা’। এরমধ্যে ‘মহৎ’ ছবিতে তার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও শাহনাজ। এই ছবিরও এ্যা-্রু কিশোর ও প্রয়াত খালিদ হাসান মিলুর গাওয়া ‘প্রেম কখনো মধুর কখনো সে বেদনা বিধুর’ গানটি এখনো বেশ জনপ্রিয়। আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ওমর সানী বলেন, ‘ এই দেশ রবী ঠাকুরের দেশ, কবি নজরুলের দেশ, জীবনানন্দ কিংবা মাইকেল মধুসূদন কিংবা হুমায়ূন আহমেদের দেশ। এমন গুণী মানুষের দেশে এমন অনেক কিছুই আছে যা কাজে লাগিয়ে দেশটিকে অনেক অনেক উন্নত করা যায়। যেখানে কলকাতার চলচ্চিত্র কিছুদিন আগেও শ্মশানে পরিণত হয়ে পড়েছিলো সেখানে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার কারণে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে কলকাতার চলচ্চিত্র।

 

যদি সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই তাদের চলচ্চিত্র আজ আন্তর্জাতিক মানে গিয়ে দাঁড়ায় তাহলে আমাদের সরকার কী তা পারেন না? অবশ্যই পারেন। তাই সরকারের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি চলচ্চিত্র শিল্পটির প্রতি প্লিজ প্লিজ প্লিজ বিশেষভাবে দৃষ্টি দিন। কারণ এখনো আমাদের দেশে একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম ‘চলচ্চিত্র’। এখান থেকেই এখনো সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করছে সরকার। সবজায়গার মতো চলচ্চিত্রেও দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ আছে, হয়তো থাকবেও কিন্তু এরইমধ্যে আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে।’ ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top