সকাল ৬:০৫, বৃহস্পতিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / সীমান্তে হত্যাকান্ড
সীমান্তে হত্যাকান্ড
জানুয়ারি ১০, ২০১৭


চুয়াডাঙ্গার দামড়হুদা পিলের ঢাকুরিয়া সীমান্তের ওপারে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। নওগাঁর পোরশা সীমান্ত থেকে আরো দুই যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় এই বাহিনী।

 গত শনিবার এ দুটি ঘটনা ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তের ওপারে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত যুবকের নাম বকুল মন্ডল (২৮)। অন্যদিকে পোরশার নিতপুর সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া দুজন হলেন নইমুল হোসেন (২৬) ও আলিফ উদ্দিন। প্রকৃতিগতভাবে বাংলাদেশের তিনদিক দিয়ে রয়েছে ভারত সীমান্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সমস্যা যেন কিছুতেই দূর হচ্ছে না। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ নানা অজুহাতে বাংলাদেশের নিরীহ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে ধরনের নির্মম আচরণ করে চলেছে তা মেনে নেয়া কঠিন।

 দু’দেশের উচ্চ মহলে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে একাধিক আলোচনা, সিদ্ধান্ত এবং ঘোষণা দেয়া সত্বেও প্রকৃত অর্থে অবস্থার কোন উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের নিরীহ নাগরিকদের সন্ত্রাসী, চোরাচালানসহ নানা অভিযোগে গুলি করে মেরেছে বিএসএফ। নির্মম নির্যাতনও করেছে অনেকের ওপর। সীমান্ত আইনে ইচ্ছে করলেই বিএসএফ যে কাউকে গ্রেফতার, নির্যাতন কিংবা হত্যা করার অধিকার রাখেনা।

 এ জন্য জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা দরকার। কিন্তু কোন নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে বিএসএফ বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে যে ধরনের আচরণ করে, তা তাদের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের পরিচয়কেই স্পষ্ট করে। অবিলম্বে বিএসএফের এ ধরনের অসহিষ্ণু আচরণ বন্ধ হওয়া জরুরি। নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যার প্রতিটি ঘটনা আমাদের হৃদয়কে শোকাভিভূত করে। সেই শোকবিধ্বস্ত হৃদয় নিয়েও আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় এবং সম্পর্কের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আর কত? দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষার প্রয়োজনেই সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারত যে আন্তরিক তা সে দেশের সরকারকেই দায়িত্বের সঙ্গে প্রমাণ করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপও নিতে হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top