রাত ১১:৩৬, শুক্রবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ Today Lead / সিলেটে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত
সিলেটে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত
জুলাই ১৭, ২০১৭

করতোয়া রিপোর্ট : সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হয়েছে। এছাড়া পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে।

গতকাল সোমবার এই সব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমাদের সিলেট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আধিপত্য বিস্তারকে  কেন্দ্র করে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এক কর্মীকে  শ্রেণিকক্ষে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম খালেদ আহমদ লিটু (২৩)।

 লিটু ছাত্রলীগের সিলেট  জেলা শাখার আপ্যায়ন বিষয় সম্পাদক পাভেল মাহমুদ গ্রুপের কর্মী বলে জানা  গেছে। গতকাল  সোমবার দুপুরে ছাত্রলীগের পল্লব ও পাভেল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন। নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা জানিয়েছেন, গুলি খালেদ আহমদ লিটুর মাথায়  লেগেছে। খবর  পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। জানা যায়, সকালে কলেজের প্রথম বর্ষের দুই ছাত্রের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর  পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এসময় পুলিশের পাঁচ সদস্য কলেজের প্রধান ফটকে দায়িত্বে ছিলেন। 

বেলা ১২টার দিকে ইংরেজি বিভাগের একটি কক্ষ  থেকে গুলির শব্দ শুনে ক্যাম্পাসে থাকা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবকের রক্তাক্ত লাশ  দেখতে পান। যুবকের ডান  চোখের উপরে গুলির আঘাত  লেগে মাথার  পেছন  থেকে  বেরিয়ে যায়। এ সময় কক্ষে অন্য কাউকে পায়নি পুলিশ। এমনকি কক্ষে  কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

 নিহত যুবক লিটন আহমদ লিটু  পৌরশহরের নয়াগ্রাম  রোডে একটি  মোবাইল  দোকানের মালিক।  সে  পৌরসভার খাসা পন্ডিত পাড়া এলাকার খলিলুর রহমানের পুত্র। তবে  কেন তিনি কি     কারণে কলেজের ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার মৃত্যুটি  চোরাগোপ্তা হামলা না ছাত্রলীগের বিবদমান গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে ঘটেছে এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্টের পর সিএনজিযোগে তার লাশ বিয়ানীবাজার হাসপাতালে প্রেরণ করে।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার জানান, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি। গুলিতে তার মাথার মগজ  বের হয়ে যায়। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ সিলেট মর্গে প্রেরণ করে। উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত  ঘোষণা করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই সাথে কলেজ ছুটি  দেয়া হয়। এদিকে খুন করার ঘটনায় তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের পরই তাদের আটক করা হয়।

 তারা হচ্ছে ছাত্রলীগ  নেতা পাভেল গ্রুপের কর্মী কামরান, ফাহাদ ও এমদাদ। পাবিপ্রবিতে দুই গ্রুপের ধাওয়ায় হল ভাঙচুরপাবনা প্রতিনিধি জানান, হলের আসন বরাদ্দে আধিপত্য বিস্তারে নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের আসন বরাদ্দ নিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি শাহেদ সাদেকী শান্ত ও সেক্রেটারি ওয়ালীউল্লাহ গ্রুপের সাথে সহ-সভাপতি আরাফাত হোসেন ও মতিন গ্রুপের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

এরই জের ধরে গতকাল সোমবার ভোরে সহ-সভাপতি আরাফাত গ্রুপের লোকজন সভাপতি শান্ত গ্রুপের এক কর্মীকে মারধোর করে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ক্যাম্পাস চত্বরে লাঠিশোঠা নিয়ে পাল্টপাল্টি ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের দু’টি কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এসময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর থেকে বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়।


পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর আওয়াল কবির জয় বলেন, হলের আসন বরাদ্দ দিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হলের দু’টি কক্ষে ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনা নিরসনে সোমবার বিকেলে পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসবেন। এদিকে, ক্যাম্পাস থমথমে পরিবেশ বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজে সংঘর্ষে আহত ৫রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের টেন্টে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে এক পুলিশসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক বাইতুল হোসেন তরু’র সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান হাফিজ। তিনি বলেন, টেন্টে বসা নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ২ সমর্থকের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

 এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়। তারা হলেন- বকতিয়ার, ফাহিম, দিপু ও আকাশ। আহতদের মধ্যে আকাশসহ ২জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

এছাড়া সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানান ওসি। রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জার্জিস কাদির বলেন, টেন্টে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। শিক্ষক ও পুলিশসহ নগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ দু’পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ জার্জিস কাদির।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top