রাত ১:৩৩, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সিলেট / সিলেটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১
সিলেটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১
জুলাই ১৭, ২০১৭

সিলেটে প্রতিনিধি :  আধিপত্য বিস্তারকে  কেন্দ্র করে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এক কর্মীকে  শ্রেণিকক্ষে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম খালেদ আহমদ লিটু (২৩)। লিটু ছাত্রলীগের সিলেট  জেলা শাখার আপ্যায়ন বিষয় সম্পাদক পাভেল মাহমুদ গ্রুপের কর্মী বলে জানা  গেছে।

 সোমবার দুপুরে ছাত্রলীগের পল্লব ও পাভেল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন। নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা জানিয়েছেন, গুলি খালেদ আহমদ লিটুর মাথায়  লেগেছে। খবর  পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

জানা যায়, সকালে কলেজের প্রথম বর্ষের দুই ছাত্রের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর  পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এসময় পুলিশের পাঁচ সদস্য কলেজের প্রধান ফটকে দায়িত্বে ছিলেন।  বেলা ১২টার দিকে ইংরেজি বিভাগের একটি কক্ষ  থেকে গুলির শব্দ শুনে ক্যাম্পাসে থাকা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবকের রক্তাক্ত লাশ  দেখতে পান। যুবকের ডান  চোখের উপরে গুলির আঘাত  লেগে মাথার  পেছন  থেকে  বেরিয়ে যায়। এ সময় কক্ষে অন্য কাউকে পায়নি পুলিশ। এমনকি কক্ষে  কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি। নিহত যুবক লিটন আহমদ লিটু  পৌরশহরের নয়াগ্রাম  রোডে একটি  মোবাইল  দোকানের মালিক।  সে  পৌরসভার খাসা পন্ডিত পাড়া এলাকার খলিলুর রহমানের পুত্র। তবে  কেন তিনি কি কারণে কলেজের ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার মৃত্যুটি  চোরাগোপ্তা হামলা না ছাত্রলীগের বিবদমান গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে ঘটেছে এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্টের পর সিএনজিযোগে তার লাশ বিয়ানীবাজার হাসপাতালে প্রেরণ করে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার জানান, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি। গুলিতে তার মাথার মগজ  বের হয়ে যায়। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ সিলেট মর্গে প্রেরণ করে।

উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত  ঘোষণা করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই সাথে কলেজ ছুটি  দেয়া হয়। এদিকে খুন করার ঘটনায় তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের পরই তাদের আটক করা হয়। তারা হচ্ছে ছাত্রলীগ  নেতা পাভেল গ্রুপের কর্মী কামরান, ফাহাদ ও এমদাদ।

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top