ভোর ৫:২৭, শনিবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / সাফারি পার্কে মা বাঘিনীর সময় কাটে তিন সন্তান নিয়ে
মাধুবী, বিলাশী আর বিজয়ের জন্ম
সাফারি পার্কে মা বাঘিনীর সময় কাটে তিন সন্তান নিয়ে
মার্চ ১২, ২০১৭

রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর (গাজীপুর) : গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আফ্রিকা থেকে আমদানি করা এক বাঘিনী প্রথমবারের মত তিনটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। এ সাফল্যে অন্যরকম আনন্দ বইছে সাফারি পার্কে। এর আগে পার্কে সিংহ, ক্যাঙ্গারু, উট পাখি, গয়ালসহ বেশকিছু প্রাণী বাচ্চা দিয়েছে। তবে বাঘের বাচ্চা প্রসবের ঘটনা এটাই প্রথম। ওই বাঘিনী একটি পুরুষ ও দুটি নারী বাচ্চা প্রসব করে। পার্কে বাঘের বাচ্চা জন্মের ঘটনায় প্রকৃতিতে আবারো অবাধে বেঙ্গল টাইগার (বাঘ) বিচরণ করবে এমন আশাবাদ বাঘ বিষেশজ্ঞদের।

পার্কসূত্রে জানাযায়, ২০১৩ সালে আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে ফ্যালকন ট্রের্ডাসের মাধ্যমে প্রথম ধাপে দুটি পুরুষ বাঘ ও চারটি নারী বাঘ কেনা হয়। পরে সব বাঘ অবাধ বিচরণের জন্য একটি বেষ্টনীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিছু দিন যাওয়ার পরই চোখে পড়ে বাঘ ও বাঘিনীর সংগমের দৃশ্য। এর পর থেকেই অধিকতর নজরে রাখা হয় বাঘগুলোকে। গত বছরের (২০১৬) অক্টোবরের দিকে একটি বাঘিনী গর্ভবতী হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। পরে নিয়মিত ওই বাঘিনীকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। একটা সময় যখন নিশ্চিত হওয়া গেছে বাঘিনী গর্ভবতী হয়েছে তখন থেকেই অন্য বাঘগুলো থেকে আলাদা করে নিরাপত্তার জন্য অন্য একটি বেষ্টনীতে রাখা হয় গর্ভবতী বাঘিনীকে। পরে গত ২৬ জানুয়ারি ভোরে একটি মৃত বাচ্চাসহ ৫টি বাচ্চা প্রসব করে। জন্মের কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি বাচ্চা মারা যায়।

পার্কের ওয়ার্ল্ড লাইফ সুপার ভাইজার আনিসুর রহমান জানান, এর আগেও ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে বাঘ বাচ্চা দিয়েছে। তবে সেই সব বাঘগুলো আমাদের দেশীয় সুন্দরবনের বাঘ ছিল।  দেশের বাইরে থেকে আনা (আমদানিকৃত) কোন বাঘিনী সাফারি পার্কে বাচ্চা দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। বাঘ ১০৪ দিন থেকে ১০৬ দিনে বাচ্চা প্রসব করে। তবে পরিবেশগত কারণে এটা ব্যতিক্রম হতে পারে। বাঘিনী ২-৫ টি বাচ্চা প্রসব করে থাকে। আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের রাখছি শাবকগুলোকে।  

বাঘের বাচ্চা দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা অ্যানিমেল কিপার নরুন্নবী মিন্টু বলেন, আগে ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে চাকরি করতাম। পরে এখানে আমাকে এই পার্কে আনা হয়েছে। এরি মধ্যে আমার দেখবালের মাধ্যমে একাদিকবার সিংহ বাচ্চা দিয়েছে। তবে বাঘের বাচ্চা দেওয়ার ঘটনায় নিজের মধ্যে অন্যরকম সুখ অনুভব করছি। এ সুসংবাদে পার্কেও অন্যরকম আনন্দ বিরাজ করছে। শাবকগুলোর নামও রাখা হয়েছে। ড. তপন কুমার দে স্যার পুরুষ শাবকের নাম বিজয় ও নারী শাবক দুটির নাম মাধুবী ও বিলাশী রেখেছেন।  

ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজার সারোয়ার হোসেন খান বলেন, ওই বাঘিনী গর্ভবতী হয়েছে নিশ্চিত হয়েই নিরাপদ পরিবেশ দিতে আলাদা বেষ্টনীতে স্থানান্তর করি। সাধারনত পুরুষ বাঘ ৪-৫ বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, আর অন্য দিকে ৩-৪ বছরে নারী বাঘ প্রাপ্তবয়স্ক হয়। প্রসবের সময় বাচ্চার চোখ ফোটেনা ও দাঁত থাকে না। দুই সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চার চোখ ফোটে ও ৮-৯ সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী দাঁত গজায়। বাঘ বছরের যে কোন সময়ই বাচ্চা দিতে পারে। তবে নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বাঘের প্রকৃত গর্ভকালীন সময়। দুই মাস বয়স থেকেই মাংস খাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয় বাঘের বাচ্চার। জন্ম থেকে ৬ মাস পর্যন্ত বাঘ শাবক মায়ের দুধ পান করে থাকে। ৩ বছর হলেই মায়ের সঙ্গ ছেড়ে আলাদা হয়ে একা একা চলা ফেরা করে শাবক। প্রকৃতিতে বাঘ ১০ বছর আর ক্যাপটিভে (আবদ্ধ অবস্থায় ) ২৬ বছর পযর্ন্ত বাঘ বাঁচার রেকর্ড রয়েছে। বাঘিনী বাচ্চা নিয়ে আড়াই বছর একত্রে থাকে, তবে যদি বাচ্চা না থাকে সে ক্ষেত্রে পাঁচ মাস পরেই আবার ব্রিডিং করে বাঘিনী।

 ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গর্ভকালীন সময় মা বাঘিনী নির্জনে চলে যায় অন্য বাঘগুলো থেকে আলাদা হয়ে। বাচ্চার বয়স ৪৫ দিন হয়েছে। তিন মাস পর্যন্ত বাচ্চার ঝুঁকিপূর্ণ সময়। তবে এখানো শাবকগুলো সুস্থ সবল রয়েছে।

প্রাণিবিষেশজ্ঞ ড. তপন কুমার দে বলেন সাফারি পার্কে বাঘ শাবকের জন্ম আমাদের প্রাপ্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রকৃতিতে আবারো বেশি পরিমাণে বাঘ অবাধে বিচরণ করবে এমন স্বপ্ন দেখছি।

সাফারি পার্কে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. সাহাব উদ্দীন জানান, আমরাও বাঘিনীর ভাল পরিবেশ দিতে আলাদা বেষ্টনীতে রেখেছিলাম মা বাঘিনীকে। আমদানি করা বাঘের ক্ষেত্রে এটাই বাচ্চা প্রসবের প্রথম ঘটনা। এমন সাফল্য আমাদের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে।পার্কের সকলের প্রচেষ্টায় এ সাফল্য। এখনো সম্পূর্ণ ঝুকিমুক্ত নয় শাবকগুলো। এমন সাফল্যে যদি ধারাবাহিকতা আসে তাহলে অবশ্যই  বাঘ সংরক্ষণে বড় ভুমিকা রাখা যাবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top