রাত ১:৪৪, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগ
সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগ
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭

সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগের নতুন দিগন্তে এখন বাংলাদেশ। ভূ-কেন্দ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সমুদ্র ভিত্তিক এই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সৃষ্টি করতে পারে নবজাগরণের। বিশ্বের সম্পদশালী রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশের ব্লু ওশেন ইকোনমি বা নীল সমুদ্র অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী। সবার চোখ সম্ভাবনাময় এ বিশাল খাতে। তথ্য মতে, এখনই দেশের প্রায় তিন কোটি মানুষের জীবনযাত্রা সমুদ্র অর্থনীতির বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সমুদ্র সীমায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার ব্যাপক সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ, পরিবহন ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগের বহুমুখী ক্ষেত্র প্রস্তুত।

 সেজন্য সরকারি বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সমুদ্র ও নদী বন্দরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। অ্যাকুয়া ট্যুরিজম প্রসারে সমন্বিত উদ্যোগ, ক্রুজশিপ সার্ভিস চালুসহ নানা কার্যক্রম হাতে নেয়া যেতে পারে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। সমুদ্রে ও অপশোর যে জ্বালানি আছে, তা বাংলাদেশ তুলতে পারছে না। সমুদ্র অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আগ্রহ কাজে লাগাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচাম) সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম।

 মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (এমসিসিআই) জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে সমুদ্র সম্পর্কিত বাণিজ্যের দ্রুত প্রসার ঘটছে। ২০০৭ সালে এর পরিমাণ ছিল ৫২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। ২০২০ সালের মধ্যে তা বেড়ে এক লাখ কোটি ডলারে দাঁড়াবে। বর্তমানে বিশ্ববাণিজ্যের ৮০ শতাংশ সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ হয় সমুদ্রপথে। পণ্য আমদানি-রফতানিতে বাংলাদেশি জাহাজ যুক্ত হওয়ায় এখাতে নতুন ধরনের কর্মসংস্থান বাড়ছে। বর্তমানে ২৫০ জাতের মিঠা পানির মাছের বিপরীতে সাগরে রয়েছে অন্তত ৪৭৫ প্রজাতির মাছ। বঙ্গোপসাগরে প্রতিবছর ৮ মিলিয়ন টন মাছ ধরা পড়ে। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৭০ মিলিয়ন টন বাংলাদেশের মৎস্যজীবিরা আহরণ করে। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত।

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top