রাত ১০:২৯, বৃহস্পতিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ শিরোনাম / শ্রীপুরে মরু অঞ্চলের দুম্বার নান্দনিক খামার
শ্রীপুরে মরু অঞ্চলের দুম্বার নান্দনিক খামার
আগস্ট ১১, ২০১৭

 রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর (গাজীপুর) : ব্যতিক্রমী শখের মানুষ আকরাম হোসেন মোল্লা। শখের বশে আরব্য মরু অঞ্চলের প্রাণী দুম্বা আর গাড়লের খামার গড়ে তুলেছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের মৃত মাওলানা আবদুল আহাতের ছেলে আকরাম হোসেন মোল্লা। প্রথমে শখের বশে হলেও এখন বাণিজ্যিক চিন্তা ভাবনায় খামারকে আরও প্রসারিত করছেন তিনি।

খামারে রয়েছে অর্ধশত ছোট বড় দুম্বা। এরই মধ্যে দুম্বার পাশাপাশি খামারে যোগ হয়েছে তোতাপুরী ছাগল, যমুনাপুরী ছাগল, চিত্রাপুরী ছাগল, গাড়ল আরো রয়েছে সাদা সৌদিয়ান হারিয়ান প্রজাতির ছাগল। প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো জাতের দুম্বা, ছাগল, গাড়ল খামারে বাচ্চা দিচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে প্রাণীর সংখ্যা। তার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে  অনেক বেকার যুবকের।

খামারি আকরাম হোসেন মোল্লা জানান, বড় ভাই এনামুল হক মোল্লা ছিলেন অন্যরকম সৌখিন প্রকৃতির মানুষ। কোথাও বেড়াতে গেলে বা ঘুরতে গেলে কোনো আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন ছাগল, ভেড়া, কবুতরসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখলেই কিনে আনতেন। বড় ভাইয়ের সেই শখগুলো তাকে অনুপ্রাণিত করত। বড় ভাই এনামুলের দেখাদেখি এই সব প্রাণীর প্রতি ভালবাসার সৃষ্টি হয়।

পরে বড় ভাই এনামুল প্রবাসে চলে গেলে সেই খামারের দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজের কাঁধে তুলে নেন। তিনি জানান, এখন  খামারে দুই শতাধিক গাড়ল, ভেড়া, দুম্বাসহ উন্নত জাতের বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও উন্নত জাতের দুম্বা ছাগল সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, এলাকায় এমন ব্যতিক্রমী পশু খামার আগে কেউ করেনি। টিভিতে দেখেছি মরু অঞ্চলের প্রাণী দুম্বা। এলাকায় এখন দুম্বার খামার হয়েছে। এ খামারে দুম্বাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দৃষ্টিনন্দন দামি ছাগলও পালন করা হয়।

আকরামে বড় ভাই আবুল কাশেম জানান ২০১৫ সালের দিকে  ৭০টি দুম্বা, গাড়ল, রাম ছাগল নিয়ে খামারের যাত্রা শুরু। তিনি জানান, বর্তমানে খামারে ৬৫টি দুম্বা,৭০টি গাড়ল, ১০টি তোতাপুরী ছাগল, ১০টি যমুনাপুরী ছাগল, ১০টি বুয়াং ছাগল, ১০ চিত্রাপুরী ছাগল, রয়েছে সাদা সৌদিয়ান হারিয়ান প্রজাতির অতি উন্নত জাতের ছাগল। 

তিনি জানান একটি পূর্ণ বয়স্ক দুম্বার বাজার মূল্য এক লাখ বিশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। খামারে সবচেয়ে বেশি দামি ছাগল হচ্ছে সাদা সৌদিয়ান হারিয়ানা। যা প্রায় দুই লাখ টাকা বিক্রি হতে পারে। গাড়ল, তোতাপুরী ছাগল, যমুনাপুরী ছাগলগুলো ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।

খামার ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক জাতের পশুর জন্যই পুরুষ (পাঠা) রয়েছে। দুম্বা গাড়লসহ বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির ছাগল নিয়মিত বাচ্চা প্রসব করছে খামারে। তিনি জানান, পুরুষগুলো (পাঠা) অনেক বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়। অনেক সময় উন্নত জাতের বাচ্চাও সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। খামার থেকে বিভিন্ন দামে বিভিন্ন জাতের বাচ্চা বিক্রিও করা হয়। খামারে ১০-১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে।

শ্রমিক আবদুল্লাহ জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে এ খামারে কাজ করছি। আমার হাত ধরে অনেক বাচ্চা প্রসব করেছে বিভিন্ন জাতের ছাগল ভেড়া দুম্বা। সবুজ ঘাস, খড় কাটা, ভুষি ভুট্টা ভাঙা গম ভিজাসহ বিভিন্ন খাদ্য একত্রে মিশিয়ে খাবার দেওয়া হয়। নিয়মিত করে তিন বেলা করে খাবার দেওয়া হয়।

নারী শ্রমিক সালেখা আক্তার জানান, নিজের সন্তানের মত আদর যতœ করে দুম্বা গাড়ল ছাগলগুলোকে লালন পালন করি। এ দুম্বা খামার আমাদের কর্মের সৃষ্টি হয়েছে। এখানে আমরা ১০-১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করি। পশুগুলো বিক্রির সময় অনেকের মনে কষ্ট লাগে। এদের মধ্যে এক-দুটি পশু বেশি আদরের হয়ে যায়।

শ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আশরাফ হোসেন জানান, দুম্বার খামার অত্যন্ত লাভজনক। কোরবানি ঈদের দুম্বার ব্যাপক চাহিদা থাকে। সে চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে আমাদানি করতে হয় দুম্বা ও গাড়ল। আকরাম হোসেনের খামারটি অত্যন্ত সুন্দর ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে তৈরি করা হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল জলিল জানান, আকরাম হোসেনের দুম্বা গাড়ল পালনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। শুধু দুম্বাই না তার কাছে অনেক উন্নত জাতের ছাগল রয়েছে যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মূল্যবান।

আমরা প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে টিকাসহ নিয়মিত প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে থাকি। তার দুম্বা খামার দেখে অনেকেই দুম্বার খামার করতে আগ্রহ প্রকাশ করে পরামর্শ নিতে আসে। সে পরিশ্রমী ও সৎ। তার সাফল্য আমাদের গর্বিত করে।


 

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top