সন্ধ্যা ৬:৪৬, মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / শেষ বিদায় লেখক শান্তনু কায়সারকে
শেষ বিদায় লেখক শান্তনু কায়সারকে
এপ্রিল ১২, ২০১৭

ঢাবি প্রতিনিধি: বাংলা একাডেমিতে লেখক শান্তনু কায়সারকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা। গতকাল বুধবার সকালে মিরপুরে ভাইয়ের বাড়িতে জানাজার পর শান্তনু কায়সারের মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাংলা একাডেমিতে। সেখানে নজরুল মঞ্চের সামনে তার আরেক দফা জানাজা হয়। জানাজার আগে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিশিষ্টজনেরা।

এ সময় বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, বাংলাদেশ একজন ‘স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের শক্তিশালী লেখক’ হারালো। তার প্রতিটি লেখাতেই আমরা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের ছাপ দেখতে পাই। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লেখার জন্য চট করে কাউকে খুঁজে পেতাম না। তখন শান্তনু কায়সার এগিয়ে আসতেন। চট করে তার দারুণ লেখাটা খুব বিস্ময়কর লাগত। তার মতো লেখক যুগে যুগে জন্মান না। এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, সাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসাসহ বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় কবিতা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমি ও কুমিল্লার সাহিত্য সংগঠন সমতটের পক্ষ থেকেও এ সময় শান্তনু কায়সারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান শান্তনু কায়সার। ৬৭ বছর বয়সী এই কথাসাহিত্যিক ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন।

তার বড় ছেলে ওদুদ রায়হান উজ্জ্বল জানান, চলতি বছর ১৭ মার্চ রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে শান্তনু কায়সারকে কুমিল্লা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে পরে নেওয়া হয় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে মৃত্যু হয় গবেষণায় বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই লেখকের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ছাত্র ছিলেন শান্তনু কায়সার। ‘প্রিয়’ ছাত্রকে শেষবার দেখতে বাংলা একাডেমিতে এসে তার কাজ নিয়েও কথা বলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। শান্তনুর সাহিত্যে সমাজের প্রতি অনুরাগ ছিল তীব্র। সমাজ পরিবর্তনের নানা আঙ্গিক সে তুলে ধরত নান্দনিক ভঙ্গিতে। অন্যদের তুলনায় একটু কম পরিচিত হলেও সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে তার অসাধারণ কাজ রয়েছে। জীবনানন্দ দাশ ও অদ্বৈত মল্লবর্মণকে নিয়ে তার অসাধারণ কিছু কাজ রয়েছে। ওদুদ রায়হান উজ্জ্বল জানান, তার বাবার মরদেহ দুপুরে নিয়ে যাওয়া হবে কুমিল্লার টাউন হল মাঠে। সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ যাবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাচানামেঘ গ্রামে। ওই সাচানামেঘ গ্রামেই ১৯৫০ সালের ৩০ ডিসেম্বর জন্মেছিলেন শান্তনু কায়সার। বুধবার মাগরিবের পর জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন শান্তনু। অবসরের পর পুরোদমে লেখালেখিতে মন দেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৪৫টি। সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার ছাড়াও প্রত্যাশা (সাহিত্য) পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, অদ্বৈত মল্লবর্মণ স্মৃতি পুরস্কার ও অদ্বৈত সম্মাননাসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। তার কবিতার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘রাখালের আত্মচরিত’ ও ‘শুভ সুবর্ণ জয়ন্তী’। ‘ফুল বাসে, পাখি ডাকে’ ও ‘অর্ধ শতাব্দী’ তার লেখা ছোটগল্পের সঙ্কলন। তার লেখা উপন্যাস ‘শকুন’ এবং নাটক ‘তুমি, ‘নাট্যত্রয়ী’ আলোচিত হয়েছে। তার প্রবন্ধ ও  অনুবাদ নিয়েও বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। শান্তনু কায়সার কুমিল্লা শহরের নজরুল অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top