বিকাল ৫:১৫, শনিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজশাহী / শেরপুরে কল্যাণী গণকবর ও স্মৃতিস্তম্ভ পুনঃনির্মাণের দাবি
শেরপুরে কল্যাণী গণকবর ও স্মৃতিস্তম্ভ পুনঃনির্মাণের দাবি
মার্চ ১৮, ২০১৭

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কল্যাণী গণকবরের স্মৃতিস্তম্ভটি অযতœ-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্মৃতিস্তম্ভটি দুই বছরের মাথায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটি সংরক্ষণের জন্য নিরাপত্তা প্রাচীরসহ স্মৃতিস্তম্ভটি পুনঃনির্মাণে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, বিশিষ্ট সাংবাদিক মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে কল্যাণী গণকবরটি চিহ্নিত করে সেখানে একটি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরোয়ার জাহান আনুষ্ঠানিকভাবে স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়ে থাকে।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম শুক্রবার রাজাকার আলবদরদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কল্যাণী গ্রামটিকে তিনদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে। সেদিন হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত অনেকেরই নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন কল্যাণী গ্রামের রাধিকা পাল, বিরেন পাল, ক্ষুদিরাম পাল, কৃষন লাল পাল, মতিলাল পাল, হারান পাল, ধলু পাল, শ্রীবাস শীল, চিত্ত পাল, ফুরিয়া পাল, শ্রীদীপ পাল, সুদেব পাল, জোগেস্বর পাল, ন্যাড়া পাল, বিহারী পাল, শেরপুরের মনিন্দ্র মোহন্তসহ নাম না জানা আরও অনেকে।

সুঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাদৎ হোসেন টুকু বলেন, কল্যাণী এলাকায় প্রাথমিকভাবে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি এখন অযতœ আর অবহেলায় পড়ে আছে। তিনি স্মৃতিস্তম্ভটি পুনঃনির্মাণ করে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের সংশি¬øষ্ট দফতরের কর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন। স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদেব চন্দ্র পাল বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে শহীদদের স্মৃতিচিহিৃতগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খুবই জরুরি। সাংবাদিক মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী কল্যাণী এলাকায় গণহত্যা চালায়। সেদিন অনেক ব্যক্তি হতাহত হয়েছিলেন। তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রাথমিকভাবে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি পুনঃনির্মাণ করা প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সারোয়ার জাহান বলেন, কল্যাণীতে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে অনেক আগেই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা উচিৎ ছিল। তবে বছর তিনেক আগে সেখানে একটি প্রাথমিকভাবে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পুনঃনির্মাণের বিষয়টিও ভেবে দেখা হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top