রাত ১:৩৭, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিন কূটনৈতিক তৎপরতাও চালান : ফখরুল
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিন কূটনৈতিক তৎপরতাও চালান : ফখরুল
সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: মিয়ানমার থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সঙ্কট সমাধানে দেশটির সরকারকে বাধ্য করতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন বন্ধের দাবিতে বিএনপি আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের কাছে এই দাবি জানান। দীর্ঘ এই মানববন্ধন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা ১১টায়। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন বন্ধের দাবি সম্বলিত নানা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের খুব সুস্পষ্ট দাবি-রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া এবং তাদের খাদ্য, নিরাপত্তা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। একইসঙ্গে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করা হোক। ওরা হিন্দু না মুসলিম এটা জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই, ওরা মানুষ। সেই মানবতার বিরুদ্ধে আজকে মিয়ানমার সরকার যুদ্ধ শুরু করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আসুন আমরা আজকে জনমত সংগঠিত করে সমগ্র বাংলাদেশেকে ঐক্যবদ্ধ করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, তারা যেন এই গণহত্যা বন্ধ করে এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

 তিনি বলেন, আজকে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে যে ভয়াবহ মানবিক নির্মম অত্যাচার চলছে, তার বিরুদ্ধে বিশ্ব মানবতার পক্ষে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। দূর্ভাগ্য আমাদের, সমগ্র বিশ্ব যখন আজকে সোচ্চার হয়ে উঠেছে, তখন বাংলাদেশের সরকার প্রায় নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারসমূহ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সীমানা লঙ্ঘন করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের (মিয়ানমার) বিমান যখন আকাশসীমা লঙ্ঘন করে তখন এই সরকার চুপ করে থাকে। এটা হচ্ছে এদের (সরকার) নতজানু পররাষ্ট্রনীতির পরিচায়ক।

১৯৭৯ সালে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে একই ঘটনা ঘটেছিল, তখন তিনি তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে খাদ্য ও চিকিৎসা প্রদান করেছেন; একইসঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে এগ্রিমেন্ট করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করেছেন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে মিয়ানমার সরকারের অত্যাচারে যখন রোহিঙ্গারা আবার পালিয়ে চলে আসে, তখন বেগম খালেদা জিয়াও তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করেছিলেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে।

 ঢাকাসহ সারাদেশে ঘন্টাব্যাপী এই কর্মসূচি একযোগে পালনের ঘোষণা থাকলেও বিএনপির নেতারা বলেছেন, বিভিন্ন জেলায় পুলিশ এই কর্মসূচি করতে দেয়নি। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top