রাত ৪:০১, বৃহস্পতিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ আর্ন্তাজাতিক / রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় চায়
রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় চায়
সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের গুলি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা কয়েক শতাধিক হিন্দু ভারতে আশ্রয় চাইছে। এ বিষয়ে তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তেক্ষেপ চাইছে। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

২৪ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ও সেনা চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার জের ধরে রোহিঙ্গা নিধন অভিযানে নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের হিসেবে সেনাদের দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৪ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান। সেনা অভিযানের মুখে এসময় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের টেকনাফে এসে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৫০০ হিন্দু। নতুন  করে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের থেকে একটু দূরে একটি মুরগির খামার খালি সরিয়ে তাদের সেখানে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এসব হিন্দু শরণার্থী জানিয়েছেন, তারা বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের গ্রামে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। আবার মুসলিম সংখ্যগরিষ্ঠ বাংলাদেশে থাকতেও তারা ভয় পাচ্ছেন।

নিরঞ্জন রুদ্র নামে খামারে আশ্রয় নেওয়া এক হিন্দু বলেন, ‘ ভারত হিন্দুস্তান হিসেবেও পরিচিত, যা হিন্দুদের ভূমি। আমার বেশি না, ভারতে স্রেফ শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে চাই। আমরা সেটি মিয়ানমার অথবা এখানে নাও পেতে পারি।’ক্যাম্পে থাকা অন্যান্য হিন্দুরাও জানালেন, তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি ভারত সরকারের নজরে আনতে চান।

ভারতে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেখানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

হিন্দু শরণার্থীদের এ আশার বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদনের শুনানি চলছে। সরকার আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।

তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের আদর্শগত অংশীদার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতা অচিন্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুদের স্বাভাবিক গন্তব্য ভারত।

তিনি বলেন, সরকারকে অবশ্যই হিন্দু পরিবারগুলোকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। তারা আর কোথায় যাবে? এটাই তাদের উৎপত্তিস্থল।’
 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top