সকাল ১০:০১, মঙ্গলবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ সাহিত্য / রসচুরির গল্প
রসচুরির গল্প
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৭

মোহাম্মদ আল-আমিন ইসলাম, পৌষ মাস শুরু হয়েছে। জনিদের গাঁয়ে পৌষমেলা বসে। সেই পৌষমেলায় জনির মামাতো ভাই শাহেদ, জিশান জনিদের বাড়িতে আসে। মেলারদিন বিকালে জনি ওর মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে মেলায় যায়। মেলায় গিয়ে নাগরদোলা, লাঠিখেলা, পুতুলখেলা দেখে, জিলাপি-মন্ডা মিঠাই, মিষ্টি খেয়ে, তিনজনে পাঁচটি বাঘের মুখোশসহ অনেক কিছু কিনে নিয়ে জনিদের বাড়িতে আসে। মেলা শেষের দু-দিন পর জনি ওর মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে নানা বাড়ি যাওয়ার জন্য দুপুরে রওয়ানা দেয়। যেতে যেতে ঠিক বিকেলে ওরা ওদের গন্তব্যে পৌঁছে যায়।

 জনি বিকেলে, মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে মামার ঘরে খাওয়া দাওয়া করে এবং মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে মাঠে খেলাধুলা করে মাগরিবের আযানের দিকে ঘরে ফিরে আসে। রাত্রে খাওয়া-দাওয়ার পর মামাতো ভাই সাহেদ, জিশানের সঙ্গে ঘুমাতে গিয়ে খেজুর রস চুরির বুদ্ধি করে ঘুমিয়ে পড়ে।
রাত পেরিয়ে যখন সকাল হয়, তখন জনি, জিশান, শাহেদ ঘুম থেকে উঠে রস চুরির জন্য মেলায় কেনা বাঘের মুখোশ পড়ে খেজুর বাগানের দিকে রওয়ানা হয়। তখন চারদিক ছিল নিঝুম-নিরব ও কুয়াশায় ঘেরা। তবে ওরা বাঘের বাড়তি মুখোশ দুটি নিতে ভোলে নি।


হাঁটতে হাঁটতে কিছুক্ষণের মধ্যে খেজুর বাগানে পৌঁছে যায় ওরা। বাগানে পৌঁছে গিয়ে গাছে বাঁধা রসের কলস পারার জন্য শাহেদ ও জিশান গাছে ওঠে । আর ওদেরকে সাহায্য করার জন্য জনি গাছের নিচে রয়ে যায়। তবে গাছে উঠতে না উঠতেই ছোট্্র এক পুঁচকে এসে ওদেরকে দেখে গিয়ে, গাছের মালিককে বলে দেয়। গাছের মালিক শাহেদ, জিশান, জনির সমবয়সী তার ছেলে রহিমকে একটি লাঠি হাতে দিয়ে বলে, খেজুর গাছের নিচে মুখোস পড়া যে ছেলে থাকবে তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় মারবি। রহিম বাবার কথা শুনে চলে গেলে, বাবা রহিমের সমবয়সী ভাই রতনকেও একই কথা বলে পাঠিয়ে দেয়। রহিম খেজুর বাগানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওকে জিশান, জনি, শাহেদ ধরে বাড়তি মুখোশের একটি মুখোশ পড়িয়ে দেয়।

 তারপর ওরা সুযোগ বুঝে দৌড়াতে থাকে এবং বাড়তি মুখোশটি মাটিতে ফেলে দিয়ে যায়। সেই মুখোশটি রহিমের ভাই রতন নিজের মুখে পড়ে। রহিম জিশান, জনি, শাহেদের পিছনে দৌড়ায়। আর রহিমের ভাই রতন রহিমের পিছনে দৌড়ায়, রহিমকে রসচোর ভেবে জিশান, জনি, শাহেদ দৌড়াতে দৌড়াতে রহিমের অদৃষ্টি হয়ে যায়। রহিম তাই বাড়িতে ফিরে আসার জন্য বাড়ির মুখে ঘোরে। ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে রহিম রতন দ্ভুাই সামানা সামনি হয় এবং দুজন-দুজনকে রসচোর ভেবে দুজনার মাথায় দুজনে লাঠি দিয়ে মারে লাথি।

 দুজনে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। রহিম-রতনের বাবার রস বিক্রি করে শীতকালে সংসার চলে। তাই রাতে খেজুর গাছে রসে কলস ভরার জন্য বেঁধে রাখে এবং সকালে তা বিক্রির জন্য গ্রামে বের হয়। ছোট পুঁচকের কথাতে ছেলেদের রসচোরদের সাজা দিতে পাঠিয়ে নিজেও বেরিয়ে পড়েন রসের কলস নিয়ে গ্রামে বের হওয়ার জন্য। কিন্তু খেজুর বাগানে এসে দেখেন রসের কলস একদম ফাঁকা। তাই তিনিও মুখোশ পড়া রসচুরি করা ছেলেদের সাজা দেওয়ার জন্য সামনের দিকে এগিয়ে চললেন। কিছুদূর যেতে না যেতেই তিনি দেখতে পেলেন নিজের ছেলের মত দুটো ছেলের মুখে মুখোশ ।

 ওদের মাথা ফেঁটে গেছে, ওরা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে শুয়ে আছে। হাত দিয়ে মুখোশ দুটো খুলে দেখেন ছেলে দুটি তার নিজের ছেলে রহিম-রতন। রহিম-রতনকে হাসপাতালে নিলেন ওদের বাবা। রহিম-রতন সুস্থ হয়ে মুখোশ পড়া ছেলেদের সম্পর্কে বাবাকে জানাল। বাবা রহিম-রতনের মুখে মুখোশ পড়া ছেলেদের সম্পর্কে জেনে, ভাবে ছেলেরা রসচোরের মজা দিতে গিয়ে, নিজেরাই নিজেদের রসচোর ভেবে মজা দিল। বাবা মুখোশ দুটোকে হাতে নিয়ে আরও বলতে থাকে, হায়বে মুখোশ তোর জন্যই আমার ছেলেদের এই দশা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top