রাত ১:৫২, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / যতদিন ভুয়া জন্মদিন পালন, ততদিন আলোচনা নয়: কাদের
যতদিন ভুয়া জন্মদিন পালন, ততদিন আলোচনা নয়: কাদের
আগস্ট ১৫, ২০১৭

পনের অগাস্টে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভুয়া’ জন্মদিন পালন অব্যাহত থাকলে দলটির সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের বলেন, “এই ভুয়া জন্মদিবস যতদিন তারা পালন করবে, ততদিন তাদের সঙ্গে আমাদের বসার কোনো সুযোগ নেই।

“তারা ইচ্ছে করে প্রভোকেশন দিচ্ছে। তারা গতন্ত্র চায় না, তারা সংলাপ চায় না। যদি চাইত, তাহলে ভুয়া জন্মদিবস পালন করে বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবসে তারা এই কেক কাটার মতো উৎসবে মেতে উঠতো না।”

গত দুই যুগ ধরে ১৫ অগাস্ট জন্মদিন উদযাপন করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তার আরও কয়েকটি জন্মদিনের হদিসের পাশাপাশি জন্মসাল নিয়েও দুই রকম তথ্য পাওয়া যায়। 

খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালে বলে তার নতুন করা পাসপোর্টে লেখা রয়েছে। বাংলাপিডিয়াসহ খালেদা জিয়ার জীবনীর উপর রচিত কয়েকটি গ্রন্থে তার জন্ম বছর ১৯৪৫ সাল দেখানো হয়েছে। বিএনপি নেতা গয়েশ্বর রায় গত বছর এক অনুষ্ঠানে জানান, তার নেত্রীর জন্ম ১৯৪৫ সালে।

তার এতসব জন্ম তারিখের হদিস মেলায় বঙ্গবন্ধু হত্যার দিনে জন্মদিন উদযাপনের সমালোচনা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার পর শোকের এই দিনটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার পর বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্মদিন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “এই যে বাংলাদেশে অনেকেই বলেন, আমাদের সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবীরা, বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয় যে; দুই নেত্রী কেন সংলাপে বসেন না।

“দুই নেত্রীর সংলাপে বসার কী এখানে কোনো কর্ম পরিবেশ আছে? কোনো ওয়ার্কিং আন্ডারস্টাডিং আছে? কোনো এনভায়রমেন্ট, কোনো অ্যাটমোসফেয়ার আছে?”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ জানে, তারাও জানে; এই দিনটি বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন নয়। তিনি এর আগে ভিন্ন ভিন্ন দিবসে জন্মদিবস পালন করেছেন। তার সার্টিফিকেটে, স্কুলের পরীক্ষায়, তার বিয়ের রেজিস্ট্রেশনে .. বিদেশ যাওয়ার যে পাসপোর্ট .. সব কিছুতে কিন্তু এই জন্মদিবসটি তার নেই।”

“এখানে কর্মপরিবেশ কিভাবে সৃষ্টি হবে? গণতন্ত্রের যাত্রাপথে এটাও তো একটা বাঁধা।” তবে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকায় এবার খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপনের কোনো কর্মসূচি রাখেনি বিএনপি।

প্রায় প্রতি বছর জন্মদিনে বিএনপি কার্যালয়ে কেক কাটা হলেও গত বছর বন্যা, গুলশান হামলা, গুম-খুনকে কারণ দেখিয়ে কেক কাটার কর্মসূচি বাতিল করেছিলেন খালেদা।

শুধু ‘ভুয়া’ জন্মদিনই নয়, সংলাপ না হওয়ার আরো কারণ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ার খবর পেয়ে শেখ হাসিনা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গেলে, তখন সেখানে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয় নাই

কাদের বলেন, “কোকোর মৃত্যুদিনে মেইন গেইট বন্ধ করে দিলেন, প্রধানমন্ত্রী গেলেন, তাকে ঢুকতে দিলেন না।” সেতু মন্ত্রী বলেন, “এটা কি গণতন্ত্রের মানসিকতা? তাদের কী সংলাপ করার, গণতন্ত্রকে বিকশিত করার মনমানসিকতা আছে? তারাই তো পরিবশে নষ্ট করেছে। এই পরিবেশে বাংলাদেশে সংলাপ কী করে হবে?”

বঙ্গবন্ধুর পালিয়ে থাকা খুনিদের সরকারের এই মেয়াদেই ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আশা প্রকাশ করে কাদের বলেন, “কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এই তৎপরতা অত্যন্ত জোরদার। এতে ইতিবাচক অগ্রগতি আছে।”

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের সরকারের এই মেয়াদেই ফেরাতে পারবে কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, “আমরা আশাবাদী।” পঁচাত্তরের পর পালিয়ে যাওয়া নূর চৌধুরী কানাডার টরন্টোতে রয়েছেন। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল মৃ‌ত্যুদণ্ডবিরোধী কানাডা।

তবে গত বছর শেখ হাসিনা কানাডা সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে নূর চৌধুরীকে ফেরতের বিষয়ে আলোচনা করেন। সে সময় এ বিষয়ে অটোয়ার সুর নরম হয়।

কোন প্রক্রিয়ায় নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানো হবে, তা খুঁজতে একমত হয় কানাডা সরকার।  এম রাশেদ চৌধুরী রয়েছেন আমেরিকায়।

কাদের বলেন, “এবার আমরা কনফিডেন্সের সাথে বলছি; সংশ্লিষ্ট দেশেগুলোর সঙ্গে.. আমেরিকা কানাডার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। আমরা আশা করছি, তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমাদের উদ্যোগ সফল হবে।”

নূর চৌধুরী ও এম রাশেদ চৌধুরী ছাড়া বাংলাদেশের জাতির জনক ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যায় মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে বিদেশে পালিয়ে আছেন আরও চারজন। এরা হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর হয়। তারা হলেন- সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমদ (আর্টিলারি), বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন (ল্যান্সার)।

এছাড়া পলাতক আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top