রাত ৪:১৯, শনিবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / মৎস্য চাষ লাভজনক ব্যবসা
মৎস্য চাষ লাভজনক ব্যবসা
মার্চ ১২, ২০১৭

নদীমাতৃক আমাদের বাংলাদেশে প্রাকৃতিক এবং চাষাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপন্ন হয়ে থাকে। সাম্প্রতিককালে মাছের ব্যাপক চাষাবাদ এবং পোনামাছ নিধন বন্ধ করায় মাছের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীতে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের স্থান চতুর্থ।

থাইল্যান্ড, ভারত, চীনের পরই বাংলাদেশে স্থান। বর্তমান সময়ে মাছ চাষ লাভজনক হওয়ায় সবাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষ করছেন। দেশে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাছ চাষে এগিয়ে এসেছেন। এখন আর সনাতন পদ্ধতিতে মাছের চাষ করা হয় না। বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে আধুনিক প্রযুক্তিতে মাছের চাষ করা হচ্ছে। যে কারণে মাছের উৎপাদন আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মৎস্য চাষ প্রকল্পগুলোর জন্য দেশে অসংখ্য মৎস্য হ্যাচারি গড়ে উঠেছে।

 এসব হ্যাচারি উন্নতমানের মাছের পোনা উৎপন্ন করে মৎস্য প্রকল্পগুলোতে সরবরাহ করে থাকে। সারা দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে পাঁচ শতাধিক মৎস্য হ্যাচারি রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী সারা দেশে বর্তমানে তিন লাখ ৭১ হাজার ৩০৯ হেক্টর আয়তনের পুকুরে মাছের চাষ করা হচ্ছে। ২০১০ সালে সারা দেশে পুকুর জলাশয়ে মাছ উৎপাদিত হয়েছে ১৬ লাখ টন। বর্তমানে দেশে মাছের চাহিদা ৪২ থেকে ৪৬ লাখ টন। বর্তমানে উৎপাদিত হচ্ছে ৩৬ লাখ টন। প্রতি বছর মাছের উৎপাদনে গড়ে দেড় লাখ টন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে আমাদের দেশ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

 পুকুর জলাশয় থেকে মোট উৎপাদন মাছের ৫৪ দশমিক ১৫ শতাংশ, আর নদী খাল বিলের মতো উন্মুক্ত জলাশয় থেকে আসে ২৮ শতাংশ এবং দেশে দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য উৎপন্ন কেন্দ্র থেকে আসে ১৭ শতাংশ। বর্তমানে সারা দেশের মৎস্য প্রকল্প এবং মৎস্য চাষের সাথে প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ লোক জড়িত আছেন। গত চার বছর আগেও বাংলাদেশে মানুষের মাথা পিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণ ছিল ১৪ কেজি। চলতি বছরের হিসাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর ১৯ কেজি মাছ খাচ্ছে। আমাদের দেশে মৎস্য চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত। এর উন্নয়নে একটু মনোযোগী হলে এর ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। বর্তমানে আমাদের দেশের মিঠাপানি এবং সমুদ্রের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের দেশের মাছ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top