রাত ৪:১৯, মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / মোটরসাইকেলে চালকের সাথে নারী-শিশু ছাড়া আরোহী নয়
নববর্ষে ঢাকায় ১১ হাজার পুলিশ
মোটরসাইকেলে চালকের সাথে নারী-শিশু ছাড়া আরোহী নয়
এপ্রিল ১১, ২০১৭

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রমনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ গোটা মহানগরকে নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। সাদা পোশাকের গোয়েন্দা ছাড়া ১১ হাজার পোশাকি পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি।  মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে নববর্ষের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।
 
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা-পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ও সোয়াট টিমও কাজ করবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পয়লা বৈশাখে অপরিচিত কেউ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারবে না। মঙ্গল শোভাযাত্রায় নিরাপত্তা দেবে সোয়াট। ওই দিন মোটরসাইকেলে চালক ছাড়া অন্য কোন আরোহী বহন করা যাবে না। তবে কোন আরোহী যদি শিশু বা নারী হয়, সেক্ষেত্রে বিবেচনা করবে পুলিশ। কমিশনার জানান, বর্ষবরণের উৎসবে যারা আসবেন, নিরাপত্তার জন্য তারা ছুরি, কাঁচি, ভ্যানিটি ব্যাগ, পোঁটলা-জাতীয় ব্যাগ, দেশলাই, লাইটার সঙ্গে নিয়ে আসতে পারবেন না। এই এলাকায় যাতে কোনো ছিনতাই ও নারীদের উত্ত্যক্ত (ইভ টিজিং) করার মতো ঘটনা না ঘটে, এ জন্য সাদাপোশাকে পুলিশের গোয়েন্দা সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি উৎসবস্থলের পুরো এলাকা সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে রূপসী বাংলা হোটেল ক্রসিং পার হয়ে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে। যারা এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন, তাদের আগে থেকেই চারুকলায় উপস্থিত হতে হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর বাইরে থেকে কেউ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। শোভাযাত্রাটির চারপাশ পুলিশ সদস্যরা ঘিরে রাখবেন। পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে সোয়াটও। যে রাস্তা দিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা যাবে ও আসবে, সেই সড়কের প্রতিটি ইঞ্চি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে ও ভবনের ছাদে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। ওই সড়ক ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, না- কোনো ধরনের হুমকি বা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা নেই। তবে সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘেœ উৎসব পালন করতে পারে, এ জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কমিশনার বলেন, রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১১ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদাপোশাকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। উৎসব উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক এলাকা যানবাহনমুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, উত্তরের বাংলামোটর ক্রসিং; পশ্চিমে কাঁটাবন, নীলক্ষেত ও পলাশি ক্রসিং; দক্ষিণে বকশীবাজার, শহীদুল্লাহ হল, রোমানা চত্বর ও সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ক্রসিং এবং পূর্বে জিরো পয়েন্ট ইউবিএল ও কাকরাইল চার্চ ক্রসিং এলাকা দিয়ে কোনো যানবাহন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকতে পারবে না। পয়লা বৈশাখে ঢাকা মহানগরে বিকেল পাঁচটার পরে কোনো উন্মুক্তস্থানে সমাবেশ করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সমাবেশ চলবে। ইনডোরে ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বিকেল পাঁচটার পর সমাবেশ করা যাবে। ওই দিন উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রমনা পার্ক এলাকা হকারমুক্ত রাখা হবে। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হকার থাকতে পারবে। রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢোকার ও বের হওয়ার পৃথক প্রবেশপথ থাকবে। প্রতি প্রবেশপথে আর্চওয়ে থাকবে। সবার দেহ তল্লাশি করে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে। গোটা উৎসবে ভুভুজেলা নিষিদ্ধ থাকবে। পুলিশের পক্ষ থেকে উৎসবে আগত ব্যক্তিদের ফুল, পানি ও বাতাসা বিতরণ করা হবে।

কমিশনার জানান, নববর্ষের দিন সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো বহিরাগতকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকতে দেয়া হবে না। স্ত্রী-সন্তান ছাড়া কাউকে মোটরসাইকেলে বহন করা যাবে না। এছাড়া বর্ষবরণের দিনে পুরো ঢাকার কিছু পথও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল ২০১৭ রমনা বটমূল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শিশু পার্ক, চারুকলা ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমী, দোয়েল চত্বর, শিশু একাডেমী, হাইকোর্ট ও আশপাশের এলাকায় ঢাকা মেট্র্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা হতে ১৪ এপ্রিল রাত ৯টা টা পর্যন্ত  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ব্যতীত সকল প্রকার যানবাহন প্রবেশ বন্ধ থাকবে। ১৪ এপ্রিল ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত যানবাহন ডাইভারশন করা হবে।

যে সব রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ ঃ বাংলামোটর-পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড ও টেলিযোগাযোগ ভবন ক্রসিং-পরিবাগ ক্রসিং-রূপসীবাংলা   ক্রসিং; শাহবাগ ক্রসিং-মৎস্য ভবন-কদম ফোয়ারা ক্রসিং-হাইকোর্ট ক্রসিং; জিরো পয়েন্ট হতে হাইকোর্ট ক্রসিং এবং ইউবিএল থেকে কদম ফোয়ারা;  হোটেল রূপসী বাংলা ক্রসিং-মিন্টো রোড-বেইলী রোড-হেয়ার রোড কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং বামে মোড়-চার্চ ক্রসিং, –মৎস্য ভবন ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং হতে টিএসসি ক্রসিং; পলাশী মোড় হতে শহীদ মিনার হয়ে দোয়েল চত্বর ক্রসিং; বকশিবাজার হতে জগন্নাথ হল হয়ে টিএসসি ক্রসিং;  হাইকোর্ট ক্রসিং-দোয়েল চত্ত্বর ক্রসিং-শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং এবং নৌবাহিনী ভর্তি তথ্য কেন্দ্র হতে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত।

বিকল্প সড়ক : মিরপুর হতে বিভিন্ন রুটের যে সব বাস ফার্মগেট হয়ে গুলিস্থান কিংবা সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ি যাবে সে সব বাস হোটেল সোনারগাঁও থেকে বামে মোড় নিয়ে রেইনবো ক্রসিং হয়ে মগবাজার দিয়ে সোজা মালিবাগ মোড় হয়ে গন্তব্যে যাবে এবং অন্যান্য গাড়ি হোটেল সোনারগাঁও থেকে সোজা এসে বাংলামোটরে বামে মোড় দিয়ে মগবাজার থেকে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণী হয়ে কাকরাইল চার্চ বামে মোড় নিয়ে গন্তব্যে যাবে এবং আসবে। মোহাম্মদপুর হতে যে সব রুটের বাস মতিঝিল হয়ে সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ি-শ্যামপুর যাবে সে সব রুটের বাস মোহাম্মদপুর-সাইন্সল্যাব-নিউমার্কেট-বেবী আইসক্রীম মোড়-ঢাকেশ্বরী মন্দির-বকশীবাজার-চাঁনখারপুল দিয়ে গুলিস্থান হয়ে গন্তব্যে যাবে এবং আসবে তবে প্রাইভেটকারসমূহ সাইন্সল্যাব থেকে কাঁটাবন পর্যন্ত আসতে পারবে এবং কাঁটাবন থেকে ডানে বামে যেতে পারবে। টঙ্গী-এয়ারপোর্ট হতে যে সব রুটের বাস গুলিস্থান ও সায়েদাবাদ যাতায়াত করে সে সব রুটের বাস টঙ্গী-বিমানবন্দর-প্রগতি সরণী বামে মোড় বিশ্বরোড ধরে মালিবাগ রেলক্রসিং বামে মোড় খিলগাঁও ফ্লাইওভার ধরে গন্তব্যে যাবে-আসবে এবং অন্যান্য গাড়ি মহাখালী হয়ে মগবাজার-কাকরাইল চার্চ বামে মোড় নিয়ে গন্তব্যে যাবে এবং আসবে। ধামরাই, মানিকগঞ্জ, গাবতলী হতে যে সব রুটের বাস এবং অন্যান্য গাড়ি গুলিস্থান, ফুলবাড়ীয়া যাতায়াত করে সে সব রুটের বাস ও অন্যান্য গাড়ি মানিকগঞ্জ-ধামরাই-গাবতলী-মিরপুর রোড ধরে সাইন্সল্যাব সোজা নিউমার্কেট-আজিমপুর-বেবী আইসক্রীম মোড়-ঢাকেশ্বরী মন্দির-বকশিবাজার-চাঁনখারপুল হয়ে গন্তব্যে যাবে এবং আসবে।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আসা যানবাহন পার্কিং ঃ নৌবাহিনী ভর্তি তথ্য কেন্দ্র হতে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত (উত্তর দিকের গাড়িসমূহ) ; জিরো পয়েন্ট থেকে ইউবিএল এবং ইউবিএল থেকে দৈনিক বাংলা; কার্জন হল থেকে বঙ্গবাজার হয়ে ফুলবাড়িয়া (দক্ষিণ দিকের গাড়িসমূহ) ; মৎস্য ভবন থেকে সেগুনবাগিচা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িসমূহ) ; শিল্পকলা একাডেমী গলি  (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িসমূহ) ; সুগন্ধা হতে অফিসার্স ক্লাব (ভিআইপি গাড়ি ও মিডিয়ার গাড়ি পার্কিং) ; কাঁটাবন হতে নীলক্ষেত হয়ে পলাশী (দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের গাড়ি)।

 

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top