সকাল ১০:০৪, মঙ্গলবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য / মুখে বাজে গন্ধ হওয়ার মূল ৭টি কারণ ও সমাধান
মুখে বাজে গন্ধ হওয়ার মূল ৭টি কারণ ও সমাধান
মার্চ ১১, ২০১৭

ডা: মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন):মুখে দুর্গন্ধের অস্বস্তিকর সমস্যায় কমবেশি সবাইকেই পড়তে হয়। তবে এটা যদি আপনার দীর্ঘস্থায়ী বা পুরনো সমস্যা হয়ে থাকে, তবে এর মূলোৎপাটন করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ডাক্তার মাউথ ওয়াশ বা এ ধরণের কিছু দিয়ে থাকেন। এতে কিছু সময়ের জন্য দুর্গন্ধ চলে যায়। মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার সাতটি মূল কারণ ও এর সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ জেনে নিন।
১. আপনি দাঁতের যতœ নিচ্ছেন না
২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ওরাল সায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, দাঁতের পরিচ্ছন্নতা না থাকার জন্য শতকরা ৮৫ ভাগ দায়ী মানুষের বদ অভ্যাস। আর এর পেছনে কাজ করে মুখের ভেতরে খাদ্যকণা ঠিকমতো পরিষ্কার না করা। এর কারণে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, জানালেন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ জিহ্বার নিচে অক্সিজেন ছাড়া বেঁচে থাকা এ ব্যাকটেরিয়া সালফার কম্পাউন্ড উৎপাদন করে যার গন্ধ অনেকটা পচা ডিমের মতো। আর এ গন্ধ দূর করতে হলে দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
২. যথেষ্ট পানি খান না: দেহে পানির অভাবে খুব অল্প পরিমাণ সেলিভা উৎপন্ন হয়। সেলিভা মুখের এসব ব্যাকটেরিয়াকে পরিষ্কার করে। পানির অভাবে মুখের ভেতর শুকনো থাকে এবং সেলিভা মরে যায়। এই মৃত সেলিভা কোষ থেকেও বাজে গন্ধ তৈরি হয়।
৩। এলার্জিও দায়ী: এলার্জির কারণে অনেকে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে পারেন না। তখন মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয় এবং এতে মুখের ভিতরটা শুকিয়ে যায়। ফলে সেই একই সমস্যা। নাক-কান-গলা এলার্জির সমস্যা থাকলেও মুখে দুর্গন্ধ হয়। এলার্জির চিকিৎসা নিন।
৪। বাজে গন্ধ উৎপন্নকারী খাবার বেশি খেলে: এটা বলে বোঝাতে হবে না যে, রসুন খেলে মুখে দুর্গন্ধ হবেই। আবার দুধ খুবই ভালো খাদ্য। কিন্তু এ দ্রব্য মুখে এক ধরণের শ্লেষ্মা উৎপন্ন করে যা দুর্গন্ধ তৈরি করে, এ জাতীয় উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে বাজে গন্ধের শ্লেষ্মা হয়। তাই এগুলো বেশি পরিমাণ খাবেন না।
৫। সাইনাস অথবা টনসিলে সংক্রমণ থাকলে: সাইনাসে সংক্রমণ ঘটলে বাজে গন্ধ আসে মুখ থেকে। ডাক্তারের পরামর্শ মতো অ্যান্টিবায়োটিক বা নেটি পট থেরাপির মাধ্যমে সাইনাসের বাজে শ্লেষ্মা দূর করা যায়, জানালেন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ জেমস এন পালমার। এছাড়া টনসিলে সংক্রমণ ঘটলে এক ধরণের ক্যালসিয়াম পাথর জন্মে যা কটু গন্ধ সৃষ্টি করে।
৬। এসিডিটির সমস্যা: এসিডিটির ফলে পাকস্থলীর জ্বালাপোড়া থেকে ভিনেগারের মতো গন্ধ তৈরি হয়। টক জাতীয় ঢেকুর হয়ে তা মুখে বাজে গন্ধ ছড়িয়ে দেয়।
৭। ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে: মুখে খুব বাজে ধরণের গন্ধ ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে হতে পারে। তবে তা কদাচিৎ দেখা যায়। এ গন্ধের বৈশিষ্ট্য অনেকটা টক এবং পনিরের মতো। যেসব মানুষের নানা ব্যাধির কারণে বেশি পরিমাণ তেজক্রিয় রশ্মির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়, তাদের এমনটি হতে পারে।
সমাধান: প্রতিদিনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের মতো দাঁতের যতœ নেয়া ও দাঁত পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরী। তবে উপরোক্ত সমস্যাগুলোর কারণে দাঁতের সঠিক যতœ নিলেও বিব্রতকর দূর্গন্ধ এড়ানো যায় না। এসব ক্ষেত্রে মূল সমস্যা অনুধাবণ ও রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা নেয়া উচিত। প্রথমে একজন দন্ত চিকিৎসকের সরণাপন্ন হয়ে তার পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। তবে রোগ নির্মূল হওয়ার আগ পর্যন্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top