রাত ১:৩১, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / মিয়ানমারের সবধরনের পণ্য বর্জনের আহবান গণজাগরণ মঞ্চের
মিয়ানমারের সবধরনের পণ্য বর্জনের আহবান গণজাগরণ মঞ্চের
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭

ঢাবি প্রতিনিধি : মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা ও গণহত্যা বন্ধের প্রতিবাদে এদেশের মানুষের প্রতি দেশটি থেকে আমদানীকৃত সকল ধরনের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। সোমবার গুলশানে গণজাগরণ মঞ্চের মায়ানমার দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি থেকে গুলশান ২ নম্বর গোল চত্বরে এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরকার মিয়ানমার থেকে চাল আমদানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাতিলের দাবি জানিয়ে দলটির মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, সারাদেশে বার্মার যেসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তা এদেশের মানুষ বর্জন করবে। কারণ এসব পণ্যে রোহিঙ্গাদের রক্তের দাগ লেগে আছে। বিক্রিত এই অর্থ দিয়ে মিয়ানমার অস্ত্র কিনছে। তাই সর্বাত্মকভাবে আমরা সকল ধরনের পণ্য বর্জনের ডাক দিচ্ছি। দেশের কোথাও বার্মিজ পণ্য বিক্রি হতে দেওয়া হবে না। দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের মিয়ানমারের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে যেখানে মিয়ানমারের পণ্য বিক্রি হচ্ছে, সেখানে সেই পণ্য জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে, বর্জন করবে। দেশের কোথাও কোনো বার্মিজ পণ্য বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ীসহ সবার প্রতি বলবো, যে বার্মিজ পণ্য কিনছেন, আপনাদের টাকা দিয়েই অস্ত্র কিনে বার্মা নিরীহ সাধারণ রোহিঙ্গাদের রক্ত ঝরাচ্ছে। বার্মাকে বাণিজ্যিকভাবে কোণঠাসা করে অস্ত্র কেনা বন্ধ করতে হবে। এসময় বাংলাদেশ সরকারকে মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার যেভাবে মানবিক প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, একইভাবে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন। যে চালের ভেতরে মানুষের রক্ত লেগে আছে, দেশের জনগণ সেই চাল খেতে চায় না।

আমি মনে করি, দেশের জনগণ সেই চাল দেশে ঢুকতে দেবে না।’ রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মত গরিব দেশের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে বিশ্বজুড়ে প্রশংসার বিষয়টি তুলে ধরে ইমরান এইচ সরকার আরও বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে নারী-শিশুসহ রোহিঙ্গারাদের লাশ পানির মতো ভেসে আসছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা অনন্য। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশের অমানবিক আচরণের মাত্রা কিন্তু ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে গুলশান-২ মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। বিক্ষোভকারীরা ‘সাপোর্ট রোহিঙ্গাজ’, ‘স্টপ জেনোসাইড, সেভ রোহিঙ্গা পিপল’, ‘শেম অন ইউ সু চি’, ‘নো মোর পারসিকিউসর’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তাঁরা ‘ঘেরাও ঘেরাও হবে, মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরা হবে’, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধ করো, করতে হবে’ সেøাগান দিয়েছেন।

সমাবেশের পর মিয়ানমার দূতাবাস অভিমুখে গণজাগরণের মিছিল যাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ তাদেরকে ঘিরে রাখে। এরপর ইমরানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চারটি দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি মিয়ানমার দূতাবাসে দেন। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা বন্ধ করতে হবে, মিয়ানমারে ১৯৮২ সালে নাগরিক আইন সংশোধন করে তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে, বাংলাদেশের অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সম্মানের সঙ্গে ফেরত নিতে হবে এবং এই গণহত্যা জড়িতদের বিচারে আওতায় আনতে হবে।

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top