বিকাল ৫:২৭, শনিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / বেকারদের চাকরির আবেদনে ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার কেন
বেকারদের চাকরির আবেদনে ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার কেন
এপ্রিল ১৭, ২০১৭

রিপন আহসান ঋতু: আমরা বেকার! সরল স্বপ্নের করুণ মৃত্যু, বুক ফাঁটা আর্তনাদ। এ যেন সম্বলহীন- জীবনে অসম্ভব এক বাস্তবতার গল্প। সম্বলহীন, আমরা আশাহত, বেকারত্বের অভিশাপে। আমরা পরিবারের স্বপ্ন দেখা চোখে গড়িয়ে পড়া লোনা অশ্রু ফোঁটায় ফোঁটায়। আমরা জীবন্ত জঞ্জাল, আমরা প্রিয়জন, প্রিয়তমার পুঞ্জিভূত মুঠো মুঠো হতাশা, আমরা বেকার সমাজে’র শনির দৃষ্টি বেকারত্বের বাঁকা চোখে দেখা- যেনো জীবন্ত অভিশাপ!

জন্মের পরেই ‘কান্নার শুরু’ সময়ের সাথে তা পথ পরিবর্তন করে জীবনের বাঁকে বাঁকে- যার রূপ বদলায়’ প্রতিটি পর্বেই এ লোনা জলকণার স্বাদ এক- ভিন্নতা শুধু মর্মে। লেখা পড়া চাকরির সুবাদে ঢাকায়, মস্ত প্যাঁচে প্যাঁচানো জীবনের বৃহদাংশ দান করেছি এক বিশাল ঢাকনায় মোড়ানো অদ্ভুত নগরীকে।

 জীবন চলার পথে কিছু দৃশ্য অমরত্ব লাভ করে, কিছু দৃশ্য সাথে সাথেই স্থান খুঁজে নেয় গন্ধে পূর্ণ আবর্জনায়। অনেক দৃশ্য, অনেক স্মৃতি, কিছু অল্প আলোতে কিছু ঝলমলে- আলোয়। ঢাকনায় ঢাকা নগরীতে জীবিকার জন্য, সামান্য পেঁটে ভাতে বাঁচার জন্যে- কেউ আসছে, কেউবা ইউটার্ন নিয়ে- পুরনো আবাস ভূমে- ব্যাগ বস্তায় ফেরৎ।


 শুক্রবার সকাল আকাশে মেঘের ছাতা, ব্যাগ ছাড়াই বাজারে আসা হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী, চাকরির পসরা সাজানো সব দোকানে গিয়ে বারবার ফিরে আসতে হচ্ছে শূন্য হাতে। সদ্য পাস করা এক তরুণের ঝুলিতে মেধা ও দক্ষতা থাকতে পারে কিন্তু অভিজ্ঞতা তো নয়।

কিন্তু প্রায় সব চাকরির জন্যই অভিজ্ঞতা আবশ্যক। তাই দু’চোখ দেয়ালে আঠায় আটকানো পত্রিকায় মনোযোগ দেয়, চোখ দুটো কি যেনো খুঁজছে! খুঁজতো একটি চাকরির বিজ্ঞাপন! কিন্তু সরকারি চাকরির উদয়ের ত্রিশ বছরের সূর্য এখন অস্তগামী। আর হয়তো হবেনা কোন সরকারি চাকরি!

 প্রশাসন, পুলিশ, রেল, পোষ্ট অফিস, খাদ্য, শিক্ষা, মৎস, অর্থ, অডিট, ব্যাংক- কত্তো রিটার্ন ভাইভা, দেন দরবার, রাত জেগে স্বপ্ন ছোঁয়ার জন্যে- দেশে কতোটি নদী, তার উৎপত্তি, কোথায় সমাপ্তি, জাতীয়, বিদেশ, রাজধানী, মুদ্রা, সাল, যুদ্ধ, ইতিহাস, ঐতিহ্য সাম্প্রতিক অতিসাম্প্রতিক সবই মগজ ভর্তি থেকে যাবে এদেশের চার কোটি বেকারের।


 আফসোস করবে দেশের ব্যাংক ড্রাফ্ট  চাওয়া ব্যবসায়ীরা।বাংলাদেশে চাকরিটা সোনার হরিণ। চাকরিপ্রার্থী প্রত্যেক বেকার এ সোনার হরিণের পেছনে দৌড়ান। ফলে চাকরিদাতারা যাচ্ছেতাই করতে পারেন; ব্যাংক ড্রাফট তো বটেই। সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব চাকরির আবেদনেই ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার বাবদ প্রার্থীদের গুণতে হয় শত শত টাকা।


 বিসিএসসহ পিএসসির (সরকারি কর্ম-কমিশন) সব চাকরির আবেদনে ৩০০ থেকে ৫০০ । এ ছাড়া বেসরকারি চাকরি, বিশেষ করে শিক্ষকতার জন্য ক্ষেত্রভেদে ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকাও চাওয়া হচ্ছে। চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই, ইন্টারভিউ কার্ড কিংবা লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র আসবে কি না তারও নিশ্চয়তা নেই অথচ আগেই আবেদনপত্রের সঙ্গে এ টাকা নেয়া হচ্ছে।

 আর এ টাকা নেয়া হচ্ছে বেকারদের কাছ থেকে, যাদের নির্দিষ্ট আয় নেই এবং একটা চাকরির জন্যই তারা চেষ্টা করছেন।ব্যাংক ড্রাফট কিংবা পে-অর্ডারে টাকা নেয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে চাকরিদাতারা হয়তো নিয়োগের খরচ মেটানোর কথা বলবেন। বিশেষ করে যেসব নিয়োগে পরীক্ষা হয় সেখানে পরীক্ষা নেয়া, উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ প্রভৃতি আনুষঙ্গিক কাজে খরচ হবে স্বাভাবিক।


 কিন্তু এ খরচ কেন একজন চাকরিপ্রার্থী বেকারের ঘাড়ে পড়বে। ব্যাংক বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগ করা হয়। সুতরাং তার প্রক্রিয়াকরণের সব ব্যয়ও প্রতিষ্ঠান বহন করবে কিংবা প্রতিষ্ঠানটির সে বাজেটও থাকবে।

চাকরিপ্রার্থীদের সেটি বহন করার কথা নয়। বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, যে পরিমাণ টাকা চাকরিপ্রার্থীদের গুণতে হয় সেটা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার মাধ্যমও বটে। বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের তুলনায় যে পরিমাণ বেকার বাড়ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ চাকরিতেও ন্যুনতম লাখ খানেক আবেদন পড়ে।


 অনেকেই বলছেন, ব্যাংক ড্রাফট চাকরিদাতাদের আয়ের একটা অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর মাধ্যমে ব্যবসাও করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ক্যাটাগরি করে প্রত্যেকটি ক্যাটাগরিতে আবেদনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক ড্রাফট করতে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার ইচ্ছা করেই একবারে চাহিদামাফিক জনবল নিয়োগ না দিয়ে বারবার সার্কুলার দিচ্ছে, এতে একই প্রার্থী একই প্রতিষ্ঠানে বারবার ব্যাংক ড্রাফট করছেন। এভাবে একটার পর একটা চাকরিতে আবেদন করতে করতে চাকরিপ্রার্থীরা হতাশ হয়ে যাচ্ছেন।

 যেসব চাকরিতে ৩০০ টাকা দরকার, সেখানে আবেদন করা ও আবেদনপত্র পাঠানোসহ (অনলাইন কিংবা সরাসরি) আনুষঙ্গিক কাজে ন্যুনতম ৫০০ টাকা খরচ হয়ে যায় আর ৫০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট হলেও সব মিলিয়ে সেখানে ৮০০ টাকা লেগে যায়। একজন বেকার এত টাকা কোত্থেকে দেবেন?  


চাকরিপ্রার্থী অনেকেই বলছেন, মনে হচ্ছে পড়াশোনার খরচের তুলনায় চাকরির আবেদনেই বেশি টাকা লেগে যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা পাবলিক কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে আসেন তাদের পড়াশোনা বাবদ খুব অল্প টাকাই খরচ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এখানকার শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলগুলোয়ও বলা চলে ফ্রিই থাকেন।

 সেখানে এসব শিক্ষার্থীর অনেকের জন্যই ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ করে চাকরির আবেদন করা কষ্টকর। তার ওপর যদি মাসের পর মাস কিংবা অনেকের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর আবেদন করে যেতে হয়, সেটা কীভাবে সম্ভব? অর্থাৎ এখানেও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে মেধার চেয়েও টাকাটা বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার টাকা আছে তিনি যেকোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারছেন, যার টাকা নেই বা স্বল্প তিনি চাইলেও তা পারছেন না।


বাংলাদেশে বেকারত্ব সমস্যার প্রকটতা নিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। এখানে অনেক সময় চাইলেই কেউ কাংক্ষিত চাকরি পান না। অর্থনীতিবিদ পিগু যথার্থই বলেছেন, যখন কর্মক্ষম জনগণ তাদের যোগ্যতা অনুসারে প্রচলিত মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতে চায় অথচ কাজ পায় না সে অবস্থাকেই বলা হয় বেকারত্ব।

 

বেকারত্ব জাতির জন্য অভিশাপ। চাকরিদাতারা এ অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য অবদান রাখছেন সন্দেহ নেই; এটা আরও কার্যকর হতো যদি ব্যাংক ড্রাফট ছাড়াই চাকরিপ্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ মেলে। যতই দিন যাচ্ছে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেকার সমস্যাও অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ বেকার সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কেবল বর্তমান সরকার কেন অতীতের কোনো সরকারেরই উদ্যোগ এবং মনোযোগ কোনোটাই লক্ষণীয় নয়।


ফলে কেউ বলেছেন, ‘আটষট্টি হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’, কেউ আবার বেকার সমস্যার সমাধান না করে উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসিয়ে দিয়েছেন আবার কেউ বা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছেন; যার মধ্যে বেকার সমস্যা সমাধানের উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেই। অথচ বেকার সমস্যা এখন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

 অধিক জনসংখ্যার ভারে দেশ যেমন ন্যুব্জ, একইভাবে বেকার মানুষের ভারে সমাজ ও রাষ্ট্র আজ ভারসাম্যহীন। চারদিকে যে অবক্ষয় চলছে বেকারত্ব এর অন্যতম কারণ। বেকারত্বের কারণে সমাজে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ছিনতাই বেড়ে চলেছে।


 সর্বোপরি চারদিকে যে সামাজিক অবক্ষয় হতাশা নৈরাজ্য অসহিষ্ণুতা এর অন্যতম কারণ বেকার সমস্যা। এ ছাড়াও যুবসমাজের মধ্যে যে মাদকাসক্তির পরিমাণ বেড়ে গেছে এবং যুবসমাজ যে ধীরে ধীরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে, এমনকি বন্ধু আত্মীয় ও পরিবারের সদস্যদের পর্যন্ত খুন করছে তারও একটা শক্তিশালী কারণ বেকারত্ব।

 অথচ কোনো উন্নয়নশীল ও গণতান্ত্রিক দেশের জন্যই এমনতর পরিস্থিতি শুভকর নয়। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে বদ্ধ পরিকর অথচ বেকার সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তেমন মনোযোগ নেই। উপরন্তু সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘স্ব-উদ্যোক্তা হোন, অন্যের জন্য কর্ম সংস্থান করুন।’


 অন্যের জন্য কর্মসংস্থান করা পুণ্যের কাজ। তবে এটা সবার পক্ষে কি সম্ভব? উদ্যোক্তা হতে গেলে তো অর্থের প্রয়োজন। সেই অর্থ সহজ শর্তে অথবা শর্তহীনভাবে কে দেবে? কীভাবে কোন প্রক্রিয়ায় দেশে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হবে তার জন্য সঠিক উদ্যোগ এ দেশের কোনো সরকারই গ্রহণ করেনি। ফলে দেশে বেকারদের সংখ্যা দিন দিন কেবল বেড়েই চলেছে।

 অবিশ্বাস হলেও সত্য যে, বর্তমানে দেশে বেকার সংখ্যা প্রায় চার কোটি। এ পরিসংখ্যানের বাইরেও অসংখ্য অশিক্ষিত বেকার দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে যারা কৃষি এবং তাঁতের কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের মধ্যে প্রচুর ছদ্মবেশী বেকার রয়েছে, যাদের হিসাব বা খোঁজখবর সরকারি পরিসংখ্যানবিদরা রাখার প্রয়োজনবোধ করেন না। এসব ছদ্মবেশী বেকাররা সংসারের একজনের কাজ দুই অথবা তিনজনে ভাগ করে করেন।


 
একজন বেকারের জীবন যে কতটা দুর্বিষহ তা কেবল দীর্ঘদিন বেকার থাকা ব্যক্তিটিই উপলব্ধি করতে পারেন।বেকারত্ব মানব জীবনের এক দুর্বিষহ অভিশাপের নাম। বেকার মানুষ দেশ ও জাতির বোঝা। নিজের কাছে সে অপরাধী, অপরাধী পরিবারের কাছেও। বেকার জীবনের গ্লানি বহন করা সত্যিই দুরূহ। বেকারত্বের হাত ধরে কল কাঁঠির দলগুলো রমরমা।

 কাজ নাই যা খই ভাঁজ- এ নীতিকথা মন্ত্র মুখস্থ করে ইশারা ইঙ্গিত পালনে ব্যাস্ত। অকালে জীবনের বিকেল দেখতে পাওয়া, উদয়ের সূর্য হঠাৎ অস্ত যাওয়া, চার কোটি মানুষ বেকার- বলেই- কল কাঁঠি’বাজরা উল্টো পথের রথ ধরিয়ে- ফায়দা লোটে। কাজ নাই- তো জীবন সস্তা, এটা মেনে নিয়ে সন্ত্রাস কল কাঁঠি’ কর্তা হাত ধরে পথ চলছে।


 দুর্নীতি আজ দুর্বলের শক্তি, সরিষাতেই ভূত নৃত্যরত, সব হারারা তাই- সন্ত্রাসী। সবার কর্ম থাকলে দলগুলো আজ নিষ্প্রাণ হতোনা, উদয়ের সূর্য হঠাৎ অস্তও যেতো না। অস্বাভাবিক বেকারত্ব যে কোনা দেশের আর্থ সামাজিক উন্নতির পথে এক দুর্লঙ্ঘ বাধা। তাই ব্যক্তিত্বের বিকাশ, আত্মশক্তি ও আত্মমর্যাদা এবং জাতীয় উন্নতির স্বার্থে বেকারত্ব লাঘবের সমন্বিত প্রয়াস জরুরি।


 আমাদের দেশে নির্বাচনপূর্বক প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে বেকার সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল প্রতিটি পরিবারে কমপক্ষে একটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। বেকারত্ব দূরীকরণ বা বেকার সমস্যা সমাধানে কিছু পাইলট প্রকল্প হাতে নিলেও তেমন কিছু হয়নি। আসলে এ সমস্যা সমাধানে গুটি কয়েক জেলা নয়, এজন্য প্রয়োজন ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সারা বাংলাদেশে। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা বেকারত্ব দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক ঃ সংগঠক



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top