রাত ১২:০৩, শুক্রবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / বিশ্বের যে ১১ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো
বিশ্বের যে ১১ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো
মে ১৮, ২০১৭

রহমান আসিফ:বিশ্ব অর্থনীতির ওপর গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ফোরাম। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশকে নিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ১২টি বিষয়কে স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয় যার মধ্যে রয়েছে- বৃহৎ অর্থনীতির পরিবেশ, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং দক্ষ শ্রমিকের প্রাচুর্যতা। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ওয়ার্ল্ড কম্পিটিটিভনেস রিপোর্টে উল্লেখিত বিষয়গুলো নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘বিজনেস ইনসাইডার’। বিশ্বের সবচেয়ে ভালো শিক্ষাব্যবস্থার ১১ দেশকে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ঠাঁই হয়নি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যের।


 ওয়ার্ল্ড কম্পিটিটিভনেস রিপোর্টে ভালো শিক্ষাব্যবস্থার র‌্যাংকিংয়ে উল্লেখিত সেরা দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো প্রতিবেদনে। ফিনল্যান্ড : ৬ দশমিক ৭ বরাবরই ভালো শিক্ষাব্যবস্থার তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে ফিনল্যান্ড। দেশটিতে সকল শিক্ষার্থীদের একই ক্লাসে একই ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয়। এর ফলে ভালো এবং মন্দ বলে কোনো পার্থক্য শিক্ষার্থীদের মাঝে থাকে না।

 

দেশটির শিক্ষার্থীদের খুব কম বাড়ির কাজ দেওয়া হয় এবং ১৬ বছর বয়সে তাদের শুধুমাত্র একটি বাধ্যতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। সুইজারল্যান্ড: ৬ দশমিক ২ সুইজারল্যান্ডের মাত্র পাঁচ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সুইজারল্যান্ডে অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয়। এরমধ্যে রয়েছে জার্মানীয় ভাষা, ফ্রেঞ্চ ভাষা এবং ইতালিয়ান ভাষা। মাধ্যমিক থেকে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে আলাদা করা হয়।


 বেলজিয়াম: ৬ দশমিক ২ বেলজিয়ামে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থার রয়েছে চারটি পদ্ধতি। এগুলো হচ্ছে জেনারেল সেকেন্ডারি স্কুল, টেকনিক্যাল সেকেন্ডারি স্কুল, ভোকেশনাল সেকেন্ডারি এডুকেশন স্কুল এবং আর্ট সেকেন্ডারি এডুকেশন ইনস্টিটিউশন। বেলজিয়াম এবং লুক্সেমবার্গের সঙ্গে শিক্ষার্থী অদল-বদল করে যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট কমিশন। সংস্থাটির মতে, সর্বক্ষেত্রেই অগ্রাধিকার পায় শিক্ষা এবং আঞ্চলিক সরকারের বাজেটের সবচেয়ে বড়ভাগ পায় শিক্ষা। খুব কম কিংবা বিনামূল্যে চার থেকে ১৮ বছর বয়সী সকল শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ শিক্ষাগ্রহণ করার মতো ইনস্টিটিউশন রয়েছে।

 

সিঙ্গাপুর: ৬ দশমিক ১ প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (পিআইএসএ) বড় স্কোর পেয়েছে সিঙ্গাপুর। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের পারফরমেন্স পরিমাপ করা হয় এ ব্যবস্থায়। যদিও সিঙ্গাপুরের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে এমন কথা প্রচলিত আছে যে, দেশটিতে শিক্ষার্থীদের প্রচুর চাপের মধ্যে রাখা হয় খুব অল্প বয়সেই। নেদারল্যান্ড: ৫ দশমিক ৯ ২০১৩ সালে ইউনিসেফের জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী শিশুদের তালিকায় প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে নেদারল্যান্ড। দেশটির শিক্ষার্থীদের খুব বেশি বাড়ির কাজ দেওয়া হয় না মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত এবং শিক্ষার্থীদের খুব কম চাপ দেওয়া হয়।


কাতার: ৫ দশমিক ৮ ২০১২ সালে বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তেল সমৃদ্ধ দেশ কাতার শিক্ষাব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রচুর বিনিয়োগ করছে দেশটি। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্রি’তেই শিক্ষা দেওয়া হয় দেশটির নাগরিকদের। তবে বিদেশিদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হতে হয়। আয়ারল্যান্ড: ৫ দশমিক ৮ দেশটির বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি টাকায় বেসরকারিভাবে পরিচালিত হয়, তবে দেশটিতে সরকারি মাধ্যমিক ও ভোকেশনাল স্কুলও আছে। যদিও সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশটি শিক্ষাখাতে ১৫ শতাংশ ব্যয় কমিয়েছে। বলা হচ্ছে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতে ভুগবে দেশটির শিক্ষাখাত।

 

এস্তোনিয়া: ৫ দশমিক ৭। ২০১৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এস্তোনিয়া তার শিক্ষাখাতে জিডিপির চার শতাংশ ব্যয় করে। ১৯৯২ সালে প্রণীত শিক্ষানীতি অনুযায়ী, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ব্যক্তিত্ব, পরিবার এবং জাতীয় উন্নতির প্রকৃত পথ সৃষ্টি করা। নিউজিল্যান্ড: ৫ দশমিক ৬ নিউজিল্যান্ডে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণের বয়স হচ্ছে পাঁচ থেকে ১৯ বছর এবং ছয় থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য বিদ্যালয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। নিউজিল্যান্ডে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা পদ্ধতি তিন ধরনের। দেশটির সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাগ্রহণ করে শতকরা ৮৫ জন শিক্ষার্থী, স্বায়ত্বশাসিত বিদ্যালয়গুলোতে ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিন শতাংশ শিক্ষার্থী।

বারবাডোজ: ৫ দশমিক ৯ বারবাডোজ সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে প্রচুর বিনিয়োগ করে আসছে যার ফলশ্রুতিতে দেশটিতে শিক্ষার হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ শতাংশে। দেশটির প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের বয়স চার থেকে ১১ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ১১ থেকে ১৮ বছর। দেশটির বেশিরভাগ স্কুলই সরকারের মালিকানাধীন। জাপান: ৫ দশমিক ৬ অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন এন্ড ডেভলপমেন্ট (ওইসিডি) ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত শিক্ষাক্ষেত্রে উপরের দিকের স্থান জাপানের দখলে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পূর্বে শিক্ষার্থীদের ছয় বছর প্রাথমিক শিক্ষা, তিন বছর জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং তিন বছর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। দেশটিতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়া বাধ্যতামূলক না হলেও শতকরা ৯৮ শতাংশই শিক্ষা গ্রহণ করে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top