বিকাল ৫:২৯, শনিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত / বিনা বিচারে বন্দিদের ক্ষতিপূরণ আইন চান বিচারক
বিনা বিচারে বন্দিদের ক্ষতিপূরণ আইন চান বিচারক
এপ্রিল ১৮, ২০১৭

বিনা বিচারে বা বিলম্বিত বিচারে দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি থাকা ব্যক্তিদের মুক্তির পর তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের উপর জোর দিয়েছেন হাই কোর্টের একজন বিচারক।

গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের সম্মেলন কক্ষে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। এবিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি চাপ তৈরিতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। ইনায়েতুর রহিম বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা এসব মানুষ পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আইনি সহায়তায় তারা জামিনে মুক্তি পেলেও অর্থের অভাবে কিছু করতে পারে না। এ ধরনের ব্যক্তিদের পুর্নবাসন প্রয়োজন। সরকার এসব বিষয়ে দৃষ্টি দেবেন। এবিষয়ে আদালত নিজেও যে কোনো আদেশ দিতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মিডিয়া একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গত ৮ মার্চ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিনা বিচারে বন্দিরা ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা বিনা অপরাধে আটক রয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট আটককারী কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। তাছাড়া যদি কেউ রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে তবে আইনে সে বিধানও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংবাদ সংগ্রহে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্বরত সাংবাদিকদের নিয়ে ‘মিট দ্য প্রেস’ নামে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে অফিস উদ্বোধনের পর সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি ৫৫৫টি মামলায় আইনি সহায়তায় যুক্ত হয়। এর মধ্যে ২৯৮টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২৩২ জন বিচারপ্রার্থীকে মৌখিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারা মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী  মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৫ থেকে ১০ বছর ধরে বন্দি ৪৬২ জনের বিষয়ে আদালতের নজরে আনা হলে ১৮ জন পেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়। বাকী ৪০৪ জনের বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সহকারী পরিচালক আবিদা সুলতানা এসময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব টাইটাস হিল্লোল রেমা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top