ভোর ৫:৩৯, মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বিদেশি ঋণ সহায়তা অলস থাকে
বিদেশি ঋণ সহায়তা অলস থাকে
এপ্রিল ১৭, ২০১৭

রাষ্ট্রীয় তহবিলের টাকা খরচের বেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যতটা উৎসাহ-আগ্রহ-উদ্দীপনা দেখা যায়, বিদেশি ঋণের টাকা খরচের ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায় না। কারণ বিদেশি উন্নয়ন সহযোগিদের টাকা নয়-ছয় করা কঠিন। তাদের প্রতিটি নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়।

 

কেনাকাটাতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হয়। এতসব ঝঁক্কি-ঝামেলা পোহাতে চান না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের চেষ্টা থাকে, বিদেশি টাকা যাতে অব্যবহৃত থেকে থাকে। এই অপচেষ্টার ফল হয় দেশের জন্য ক্ষতিকর। অব্যবহৃত টাকা জমতে জমতে অলস টাকার পাহাড় গড়ে ওঠে।


 উন্নয়ন কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে। মাঝখান দিয়ে সরকারকে গুণতে হয় বাড়তি ঋণের সুদ। এসব ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ পাওয়া গেছে খোদ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেই। অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ই আর ডি) থেকে গত সপ্তাহে প্রকাশিত ‘ফ্লো অব এক্সটারনাল রিসোর্স’ বই পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে করা চুক্তির পর এখন দুই হাজার ২০৬ কোটি ডলার অব্যবহৃত পড়ে আছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ এক লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। (এক ডলার সমান ৮০ টাকা ধরে)।


 এত টাকা পড়ে থাকা সত্বেও তা খরচ করতে পারে না সরকার। ঋণ নেওয়ার হার বাড়লেও সে হারে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে অব্যবহৃত টাকার পরিমাণ বেড়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কর্মদক্ষতার মারাত্মক অভাব আছে। আবার উন্নয়ন সহযোগিদেরও সমস্যা আছে। ঢাকায় উন্নয়ন সহযোগিদের যেসব কার্যালয় আছে, তাদের সিদ্ধান্তের জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় সদর দপ্তরের দিকে।

 

তাই ঋণ খরচ হচ্ছে না। অব্যবহৃত পড়ে থাকছে, বিদেশি ঋণে নিয়মকানুন কড়াকড়ি থাকায় তা খরচে সংশ্লিষ্ট বিভাগ উৎসাহী নয়। এমন ধারণা আমাদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক। এমন মানসিকতা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। দেশি-বিদেশি যাই হোক, উন্নয়নের টাকা স্বচ্ছভাবে খরচ করতে তৎপরতা বাড়াতে হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top