রাত ৪:০৮, বৃহস্পতিবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেষ দিনগুলো
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেষ দিনগুলো
ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬

 

 

 

 

 

সংক্ষিপ্ত পরিচয় ঃ হযরত মুহাম্মদ (সা) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১২ই রবিউল আউয়াল সুবহে সাদিক সাদিকের সময় আরবের বিখ্যাত ও সম্ভ্রান্ত কোরাইশ বংশে জন্মগহণ করেন।

চল্লিশ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি নবুওয়াত প্রাপ্ত হন। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মক্কার কোরাইশদের বিরোধিতায় ইয়াসরিব তথা মদিনায় হিজরত করেন। অতঃপর মদিনায় একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করে সমগ্র আরবে ইসলামের বিজয় প্রতিষ্ঠা করে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মোতাবেক একাদশ হিজরী সনের ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার পুর্বাহ্ন তারিখে তিনি ইন্তেকাল করেন। প্রিয় পাঠক জন্মমৃত্যুর এই মাসে আজ আপনাদের সামনে নবীজি (সাঃ) এর মৃত্যু পরবর্তী কাফন ও দাফন কিভাবে হয়েছিল, আমার এই ক্ষুদ্র হাতের লেখনীতে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করব। ভুল ত্রুটি হলে পরামর্শ দিবেন। ইনশাল্লাহ।


ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা ঃ নবী করিম (সা) এর ইন্তিকাল ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা। নবী করিম (সা) ইন্তিকাল করেছেন আজ থেকে চৌদ্দশ ১৪০০ বছর আগে। কিন্তু এখনো এই ঘটনা স্মরণ করার সাথে সাথে মুসলমান মাত্রই দেহমন কেঁপে উঠে। একটু চিন্তা করুন, কি মর্মান্তিক দৃশ্য! হযরত আয়েশা (রা) এর কক্ষে আল্লাহর সৃষ্টির সেরা মহান ব্যক্তি চির নিদ্রায় শুয়ে আছেন। রাসুলুল্লাহ (সা) কে কোথায় দাফন করা হবে ঃ খেলাফতের ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যে যে মত পার্থক্য ছিল, সাকীফায়ে বনী সাইদা এবং পরে মসজিদে নববীর সাধারণ সমাবেশে হযরত আবু বকর (রা) এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের পর তার পরিসমাপ্তি হয়। এদিকে নবী করিম (সা) এর পবিত্র দেহ যে খাটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন সেখানেই ছিল। মহানবী (সা) এর পবিত্র দেহ মোবারকের আশে পাশে তার শোকার্ত পরিবার পরিজনরা বসেছিলেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর সাহাবীরা কাফন-দাফনের জন্য এগিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়। নবী করিম (সাঃ) কে দাফনের ব্যাপারে মৃদ্যু মত পার্থক্য দেখা দেয়। মুহাজিরদের একদল বলেন, মহানবী (সা) কে মক্কায় নিয়ে দাফন করতে হবে। কারণ পবিত্র মক্কা নগরী নবীজির (সাঃ) এর জন্মভূমি। কেউ কেউ বায়তুল মুকাদ্দাসে নিয়ে দাফন করার পরামর্শ দেন। সেখানে তাঁর পূর্ববর্তী অনেক নবী-রাসুলকে দাফন করা হয়েছে। অবশেষে সাহাবীদের সকলের মতামত অনুযায়ী মহানবী (সাঃ) কে মদীনায় দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


মদীনায় দাফন করার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রশ্ন দেখা দেয়, কোথায় দাফন করা হবে। এ সময় কিছু মুসলমান প্রস্তাব করেন, নবী করিম (সা) এর পবিত্র দেহ মসজিদে নববীর মিম্বারের স্থানে দাফন করা হোক। কারণ এখানে দাঁড়িয়ে তিনি খুৎবা প্রদান করতেন। অপর কিছু সংখ্যক সাহাবী বললেন, মিম্বরের পাশে যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি নামায পড়াতেন সে স্থানে দাফন করা হোক। কিন্তু হযরত আয়েশা (রা) এর একটি হাদিস উদ্ধৃতির প্রেক্ষিতে এই দুটো প্রস্তাব পরিত্যক্ত হয়। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, মৃত্যুর পূর্বে নবী (সা) বলেছেন, ‘‘যে জাতি তাদের নবী-রাসুলদের কবরগুলোকে মসজিদে রূপান্তর করেছে, আল্লাহ তাআলা তাদের ধ্বংস করুন।’’এই ব্যাপারটির মিমাংসা করেন হযরত আবু বকর (রা)। তিনি বললেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘‘প্রত্যেক নবী যেখানে ইন্তিকাল করেছেন, সেখানেই তাকে দাফন করা হয়েছে।’’সুতরাং সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যে স্থানে নবী করিম (সাঃ) ইন্তিকাল করেছেন সেখানেই নবীজি (সাঃ) এর কবর খোদাই করা হবে। (ড. মুহাম্মদ হোসাইন হায়কল রচিত মহানবী (সা)এর জীবন চরিত)।


নবীজি (সা) কে গোসল প্রদান ঃ হযরত মোহাম্মদ (সা) এর জীবনী লেখক ইবনে ইসহাক বলেন ঃ হযরত আবু বকর (রা) এর বাইয়াত সুসম্পন্ন হওয়ার পর (একাদশ হিজরী সনের ১৩ই রবিউল আওয়াল) মঙ্গলবার দিন জনগণ রাসুলুল্লাহ (সা) এর গোসল ও কাফন-দাফনের আয়োজন করলো।


আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রা) ও হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ (রঃ) প্রমুখ আমাকে বলেছেন, আলী ইবনে আবু তালিব, আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব, ফজল ইবনে আব্বাস, কুসাম ইবনে আব্বাস, উসামা ইবনে যায়িদ ও রাসুলুল্লাহ (সা) এর মুক্ত করা গোলাম শাকরান (রাঃ) গণ নবীজিকে (সা) গোসল দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত হলেন। এমন সময় আনসারদের মধ্য হতে বনু খাজরাজ গোত্রের বনু আওফ পরিবারের হযরত আওস ইবনে খাওলী (রা) হযরত আলী (রা) কে বললেন: হে আলী আল্লাহর দোহাই! রাসুলুল্লাহ (সা)এর কাফন -দাফনে আমাদের অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করুন। হযরত আলী (রা) বললেন, ‘এসো’ তিনি এসে রাসুলুল্লাহ (সা) এর গোসলে অংশগ্রহণ করলেন। হযরত আলী (রা) রাসুলুল্লাহ (সা) কে নিজের বুকের সাথে হেলান দিয়ে ধরে রাখলেন। আর হযরত আব্বাস, ফজল ও কুসাম (রা) নবীজিকে (সাঃ) এর সাথে সাথে প্রয়োজন মত ঘুরাতে লাগলেন, হযরত উসামা ইবনে যায়িদ (রাঃ) ও হযরত শাকরান (রাঃ) নবীজির (সাঃ ওপর পানি ঢালতে লাগলেন আর হযরত আলী (রা) নিজের বুকের উপর হেলান দিয়ে নবীজিকে (সাঃ) ধোয়াতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ (সা) এর জামা গায়েই ছিল। হযরত


আলী (রাঃ) সেই জামার উপর দিয়েই মৃদ্যুভারে কচলিয়ে ধুয়ে দিতে লাগলেন। সরাসরি গায়ের চামড়ায় হাত লাগাননি। ধোয়ার সময় হযরত আলী (রা) বলছিলেন, ‘‘আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক। জীবিত বা মৃত উভয় অবস্থাতেই আপনার গায়ে কত সুগন্ধ’’। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, গোসলের আয়োজন করতে গিয়ে গোসলের দায়িত্বে নিয়োজিত লোকেরা মতবিরোধের শিকার হলেন। প্রশ্ন ছিল এই যে, অন্যান্য মৃতের মত রাসুলুল্লাহ (সা)এর কাপড় খুলে ফেলে গোসল দেয়া হবে, না কাপড় গায়ে রেখেই গোসল দেয়া হবে। এই মতভেদ চলাকালে সহসা আল্লাহ পাক তাদের সকলের ওপর ঘুম চাপিয়ে দিলেন। ঘুমের কারণে সকলেরই মুখ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর বুকের উপর এসে পড়ল। সেই অবস্থায় ঘরের এক পাশ থেকে এক অচেনা ব্যক্তি তাদেরকে বলল, ‘নবী (সা) কে কাপড় গায়ে রেখেই গোসল দাও’’। অতঃপর জামা গায়ে রেখেই রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে গোসল দেয়া হল এবং কাপড়ের ওপর দিয়েই গা কচলানো হলো।


ইবনে ইসহাক বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর গোসল সম্পন্ন হলে তিনটি কাপড় দিয়ে কাফন পরানো হলো, দুই খানা সুহারী ও একখানা ইয়ামেনি চাদর যা কয়েক ভাঁজ দিয়ে পরানো হল। (সিরাতে ইবনে হিসাম)। নবীজি (সাঃ) কে শেষ দেখা ঃ কাফন পরানোর পর নবী করিম (সাঃ) এর পবিত্র দেহ মোবারক খাটের উপর রাখা হয়। এ সময় সর্বসাধারণের শেষ দেখার জন্য হুজরার দরজা খুলে দেয়া হয়। আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা  তথা সকল মুসলমানগণ প্রিয় নবীজিকে (সাঃ) শেষ বারের মতো এক নজর দেখে নবীজির (সাঃ) প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করে শোক বিহবল অবস্থায় মসজিদের দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে অপর দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতেন। এই অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। (ড. মুহাম্মদ হোসাইন হায়কল রচিত মহানবী (সাঃ) এর জীবন চরিত)। নবীজি (সাঃ) এর নামাযে জানাযা ঃ হযরত আলী (রাঃ) বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে খাটিয়ার উপর রাখা হলো, তখন আমি বললাম, যে নবীজি (সাঃ) এর জানাযার নামাযে কেউ ইমাম হবে না। কারণ তিনি যেমন তাঁর জীবদ্দশায় তোমাদের ইমাম ছিলেন তেমনি ইন্তিকালের পরও তোমাদের ইমাম।

অতএব লোকেরা দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করে কাতারবন্দী হয়ে তাকবীর বলত। তাদের কেউ ইমাম হতো না। আর আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সামনে দাঁড়িয়ে বলতে থাকলাম আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিইয়ু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’’। হযরত সাহল বিন সা’দ (রাঃ) বলেন; যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কাফন পরানো শেষ হল তখন নবীজীকে (সাঃ) খাটিয়ার উপর রাখা হল এবং খাটিয়া নবীজীর (সাঃ) কবরের কিনারায় রাখা হয়। অতঃপর লোকেরা দলে দলে ভিতরে প্রবেশ করে ইমাম ব্যতিত প্রত্যেকে একা একা জানাযার নামায আদায় করছিল। মুসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম (রহঃ) বলেন; আমি আমার পিতার লেখা কিতাব পেয়েছি। তাতে আছে যে, যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কাফন পরানো হল এবং খাটিয়ার উপর রাখা হল, তখন হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং তাদের সাথে ঘরের ভিতর সংকুলান হয় এ পরিমাণ মুহাজির ও আনসার ছিলেন। হযরত আবু বকর (রা) ও হযরত ওমর (রাঃ) উভয়ে বললেন- ‘‘আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিইয়ু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’’।


অতঃপর মুজাহির ও আনসারগণও একই নিয়মে সালাম পাঠ করলেন। তারপর তারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালেন, কেউ ইমাম হলেন না। হযরত আবু বকর (রা) ও হযরত ওমর (রাঃ) প্রথম কাতারে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সামনে ছিলেন। তারা উভয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আমরা এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যা কিছু তাঁর উপর অবতীর্ণ হয়েছে তিনি তা পৌছে দিয়েছেন। আপন উম্মতের জন্য পরিপূর্ণভাবে মঙ্গল কামনা করেছেন। আল্লাহর পথে এ পরিমাণ চেষ্টা সাধনা জেহাদ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহর কালেমা তথা দ্বীন ইসলাম পূর্ণতা লাভ করেছে এবং লোকেরা এক আল্লাহর যার কোন শরীক নাই, তাঁর উপর ঈমান আনয়ন করেছে। হে আমাদের মাবুদ! আমাদেরকে ওই সমস্ত লোকদের অন্তর্ভূক্ত করুন যারা তার উপর যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তার অনুসরণ করে। আর আমাদেরকে আখেরাতে তাঁর সাথে মিলিত করুন এবং তাঁর সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিন এবং আমাদের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিন। কেননা তিনি মুমিনদের জন্য খুবই দয়াবান ও মেহেরবান ছিলেন। আমরা দুনিয়াতে তাঁর উপর ঈমানের কোন বিনিময় চাই, আর না কোন মূল্যের বিনিময়ে এই ঈমানকে বিক্রি করব। লোকেরা তাদের দো’আর উপরে আমীন আমীন বলছিল। এভাবে লোকেরা একদল বের হওয়ার পর আরেক দল ভিতরে প্রবেশ করছিল। পুরুষদের নামায শেষ হলে মহিলারা পড়ল এবং তাদের পর নাবালক বাচ্চারা পড়ল। (আল বিদায়াহ)।


কবর খনন
সেকালে আরবে কবর খননের দুটো পদ্ধতি ছিল। একটি ছিল মক্কাবাসীদের পদ্ধতি। তারা দায়ী কবর বা সিন্দুকী কবর খনন করত। অপর পদ্ধতিটি ছিল মাদিনাবাসীদের। সেটা ছিল বগলী কবর। বগলী কবর খননের পদ্ধতি হল, সিন্দুকী কবর খননের পর মৃতের ডান পাশে দিয়ে ভিতরে খোদাই করা। সে সময় মদীনায় দু’ব্যক্তি কবর খননে পারদর্শি ছিলেন। তাদের একজন ছিলেন হযরত আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ (রাঃ)। তিনি মক্কাবাসীদের পদ্ধতি অনুযায়ী সিন্দুকী কবর খনন করতেন। অপরজন ছিলেন হযরত আবু তালহা যায়েদ ইবনে সাহল (রা)। তিনি মদিনাবাসীদের পদ্ধতিতে বগলী কবর খনন করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা) এর কবর খনন নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। একদল বগলী কবর খননের পক্ষে অপর দল সিন্দুকী কবর খননের পক্ষপাতী ছিলেন। হযরত ওমর (রা) বললেন, এ নিয়ে মত পার্থক্য ঠিক নয়। উভয়ের নিকট লোক পাঠানো হোক। যিনি আগে আসবেন, তিনি তাঁর পদ্ধতিতে কবর খনন করবেন’। সুতরাং হযরত আব্বাস (রা) তাদের উভয়ের নিকট লোক পাঠালেন। ঘটনাচক্রে হযরত আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ (রাঃ) বাসায় ছিলেন না। হযরত আবু তালহা যায়েদ ইবনে সাহল (রা) আসলেন এবং মদীনার প্রথানুযায়ী বগলী কবর খনন করেন। (ড. মুহাম্মদ হোসাইন হায়কল রচিত মহানবী (সা) এর জীবন চরিত)।


রাসুলুল্লাহ (সা) এর দাফন ঃ রাসুলুল্লাহ (সা) কে শেষ বারের মত দেখতে দর্শনার্থীদের আগমন শেষ হতে মধ্যরাত হয়ে যায়। এরপর পরিবারের লোকেরা রাসুলুল্লাহ (সা) কে দাফন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নবী করিম (সা) যে কম্বলটি ব্যবহার করতেন হযরত শাকরান (রা) সেটিও কবরে বিছিয়ে দিয়েছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘‘আপনার পরে এ কম্বল আর কাউকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না’। পরিবারের যে কয়জন ভাগ্যবান সদস্য নবী করিম (সাঃ) কে গোসল করানোর সুযোগ লাভ করেছিলেন, তারাই নবী করিম (সাঃ) এর পবিত্র দেহ মোবারক কবরে নামান। পবিত্র দেহ মোবারক কবরে রাখার পর কাঁচা ইট দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়। এরপর মাটি দ্বারা কবর তৈরি করা হয়। হযরত আয়েশা ও হযরত ফাতেমা (রা) বলেন, মধ্য রাতে কোদালের আওয়াজ শুনে আমরা বুঝতে পারলাম রাসুলুল্লাহ (সা) কে দাফন করা হয়েছে। ইন্তিকালের দু’দিন পর ১৪ রবিউল আওয়াল বুধবার, একাদশ হিজরী মোতাবেক নবী করিম (সা))এর দাফন সম্পন্ন হয়। (ড. মুহাম্মদ হোসাইন হায়কল রচিত মহানবী (সা) এর জীবন চরিত)।
লেখক ঃ প্রভাষক – প্রাবন্ধিক
০১৮৫৭-৪৫২১৬২



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top