রাত ১০:৩৫, বৃহস্পতিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / প্রধান বিচারপতির বক্তব্য ‘এক্সপাঞ্জ’ করতে চায় সরকার
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য ‘এক্সপাঞ্জ’ করতে চায় সরকার
আগস্ট ১০, ২০১৭

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতির ‘অগ্রহণযোগ্য’ বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আপিল বিভাগের ওই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দশ দিনের মাথায় সরকারের প্রতিক্রিয়া জানাতে এসে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, মাননীয় প্রধান বিচারপতির রায়ে আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য আছে, সেগুলো এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগ আমরা নেব।”

তবে আদালতের রায়ের বক্তব্য কীভাবে সরকার বাদ দিতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি আইনমন্ত্রী। ওই রায়ে সংক্ষুব্ধ হলেও রিভিউ আবেদন করার বিষয়ে সরকার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

“আমরা নিশ্চয়ই চিন্তা ভাবনা করছি যে এই রায়ের রিভিউ করা হবে কি-না। আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হই নাই। কারণ রায়ের খুটিনাটি বিষয়গুলো এখানো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে।”

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের যে পরিবর্তন ষোড়শ সংশোধনীতে আনা হয়েছিল, হাই কোর্ট গতবছর তা ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে।

আপিল বিভাগ গত ৩ জুলাই সরকারের আপিল খারিজ করে দিলে সামরিক সরকারের চালু করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান ফিরে আসে।  

গত ১ অগাস্ট প্রকাশিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার ‘ফ্যাক্ট অব ইস্যুর’ সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন ‘অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা’ প্রধান বিচারপতি তার রায়ে বলেছেন।

“তিনি জাতীয় সংসদ সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন এবং এই প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। আমি মনে করি, ওই সকল রাজনৈতিক প্রশ্ন আদালত কর্তৃক বিচার্য বিষয় হতে পারে না। আমরা তার ওই বক্তব্যে দুঃখিত।”

আইনমন্ত্রী বলেন, “তিনি (প্রধান বিচারপতি) রায়ের আরেক জায়গায় বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তির কারণে হয় নাই। আমি তার এই বক্তব্যে মর্মাহত।”

এরপর ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাঙালির স্বাধীনতার লড়াইয়ে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এই বাস্তব সত্যকে পুনরাবৃত্তি করতে হচ্ছে, সেটাই আমার জন্য অনেক কষ্টের এবং লজ্জার। তাই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, আমাদের নিরীক্ষায় মাননীয় প্রধান বিচারপতির রায়ে যে সব আপত্তিকর এবং অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য আছে, সেগুলো এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগও আমরা নেব।”

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকও বুধবার রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “অনারেবল চিফ জাস্টিস যদি বলেন, পার্লামেন্ট ইজ ইমম্যাচিউর বা সংসদ সদস্যরা অপরিপক্ক, তাহলে তো আমাকে বলতে হয়, অভিয়াসলি লজিক্যালি চলে আসে, সুপ্রিম কোর্টের জজ সাহেবরাও তাহলে ইমম্যাচিউর।”

আইন কমিশনের বক্তব্য নজরে এনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের কাছে আদালত অবমাননার রুল চাইলেও প্রধান বিচারপতি তাতে সাড়া না দিয়ে বলেন, সরকার বা বিরোধী দল- কারও ‘ট্র্যাপেই’ সুপ্রিম কোর্ট পড়বে না। রায় নিয়ে যে কোনো ‘গঠনমূলক সমালোচনা’  আদালত স্বাগত জানাবে।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে, তিনি কোনো ট্র্যাপের মধ্যে পড়তে চান না। তিনি হয়ত বা পরিষ্কার করেই দিয়েছেন, তাদের এই রায় নিয়ে যেন রাজনীতি করা না হয়।”

অন্যদের মধ্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ সহিদুল হক এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

‘মূল সংবিধান অসাংবিধানিক হতে পারে না’

বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলেও ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সময়ে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়।

পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময়ে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে বিচারক অপসারণের বিষয় নিষ্পত্তির ভার দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সেই ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরে গেলেও আপিল বিভাগ তা বাতিল করে দেওয়ায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থাই পুনঃস্থাপিত হয়েছে।

এর সমালোচনায় বিচারপতি খায়রুল হক বুধবার আইন কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আপিল বিভাগের ওই রায়ে স্পষ্ট করে বলা না হলেও ‘বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে’ যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল না থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হয়ে যাবে। কিন্তু এর সঙ্গে তিনি একমত নন।

যখন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ছিল না তখনও দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু প্রজাতন্ত্র, সেহেতু জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদের কাছে বিচারকদেরও জবাবদিহিতা থাকার কথা। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের ফলে তা আর থাকল না।

“আমরা এতকাল জেনে এসেছি, দিস ইজ পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ, কিন্তু এ রায়ের পরে মনে হচ্ছে, উই আর নো লংগার ইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। উই আর রাদার ইন জাজেস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।”

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শ্রদ্ধেয় আপিল বিভাগ যে যুক্তিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করেছে, তা সরকারের কাছে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

“আমরা মনে করি, ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত মূল সংবিধান যেটাকে বুকে ধারণ করে জন্ম নিয়েছে, সেটা অসাংবিধানিক হতে পারে না।”

কোনো সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন বা খর্ব হোক- সেই অভিপ্রায় শেখ হাসিনার সরকার বা জাতীয় সংসদের কোনো দিনই ছিল না বলে দাবি করেন আনিসুল হক।  

তিনি বলেন, “আমাদের বিবেচনায় ষোড়শ সংশোধনী দ্বারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সৃদৃঢ় এবং স্বচ্ছ হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমরা গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করার, গণতন্ত্রের মৌলিক মন্ত্র চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স পদ্ধতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ষোড়শ সংশোধনী পাস করি।”

সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারককে অপসারণ করা না হলেও পরবর্তীতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে না নিয়ে বিচারকদের চাকরি থেকে অপসারণ করার ইতিহাস মনে করিয়ে দেন আাইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিচারপতি আবদুর রহমান চৌধুরী, বিচারপতি এসএম হোসেন, বিচারপতি কেএম সোবহানকে অপসারণ করা হয়েছিল। বিচারপতি সহিদুর রহমানের ব্যাপারে কাউন্সিলের কোনো রায় আসেনি, তিনি পদত্যাগ করেন। বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফায়েজির বিষয়েও কাউন্সিল সিদ্ধান্ত শেষ করেনি।

“একজন সিটিং জাজ আছেন, তিনি তার বিচারপতি ব্রাদারদেরকে হেফাজতের লিফলেট বিতরণ করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে। আপনারা খবরের কাগজে ছাপিয়েছেন। সেটার পর সুপ্রিম কাউন্সিল বসেছিল। এতকিছু তথ্যের পরও কীভাবে কী প্রক্রিয়ায় তিনি একুইটেড হলেন?”

১ অগাস্ট রায় প্রকাশের পর ‘তড়িঘড়ি করে’ ৬ তারিখ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা ‘দুঃখজনক’ বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

‘বিদ্বেষ তাড়িত’ রায়, দ্বিমতের জন্য ‘ধন্যবাদ’

আপিল বিভাগের সাত বিচারকের মধ্যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার আলাদাভাবে রায় লিখলেও সবাই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন।

আর বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা প্রধান বিচারপতির লেখা রায়ের সঙ্গে পুরোপুরি সহমত পোষণ করেছেন।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধানের ক্ষমতা সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে; ওই অনুচ্ছেদ সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে এই রায়ের পর্যবেক্ষণে মত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

তার এই পর্যবেক্ষণে সমর্থন দিয়েছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

তবে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন; আর বাকি তিনজন ওই অনুচ্ছেদ নিয়ে কিছু বলেননি। রায়ের আদেশ অংশেও ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে কিছু বলা হয়নি।  

যারা এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেননি, তাদের ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।  

তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “প্রধান বিচারপতি মামলার ফ্যাক্ট ইন ইস্যুর বাইরে গিয়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেকে সংবিধান পরিপন্থী বলে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তাতে আমরা বিস্মিত হয়েছি। আমরা ধন্যবাদ দিতে জানাই সেই চারজন বিচারপতিকে, যারা ওই পর্যবেক্ষণের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন।”

আনিসুল হক বলেন, ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ দেখে তার মনে হয়েছে যে ওই রায় ‘যুক্তিতাড়িত নয়, বরং আবেগ ও বিদ্বেষ তাড়িত।”

এক সাংবাদিক জানতে চান, রায়ের পর্যবেক্ষণে ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে অংশগুলো ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলা হচ্ছে, সেগুলো মানার কতটা বাধ্যবাধকতা আছে?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, “দেখেন, ইট ইজ অ্যান অবজার্ভেশন অব দ্য কোর্ট… হাইয়েস্ট কোর্ট অব দ্য কান্ট্রি। যদি অপ্রাসঙ্গিক কিছু থেকে থাকে, তাহলে আমাদের নিশ্চয়ই এটা দেখতে হবে। দেখে তার বিরুদ্ধে বা পক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

‘মোকাবেলা আইনগতভাবে’

এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, সরকার এই রায় আইনগতভাবেই মোকাবেল করবে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রীদের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক মোকাবেলা’ বলে মানতেও রাজি নন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে রায়ের বিভিন্ন যুক্তি খণ্ডন করে আনিসুল হক বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর ধারাবাহিকতায় বিচার অপসারণের প্রক্রিয়া ও তদন্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিতে গতবছর এপ্রিলে একটি আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছিল। সেখানে তদন্তের যে ব্যবস্থার কথা ছিল, তা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মতই।

ফলে বিচারকদের অসদাচরণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিচারকদের হাতে রাখতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের দরকার ছিল না বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

“খসড়ায় এটা স্পষ্ট ছিল যে সেখানে তদন্তভার থাকবে বিচারপতিদের হাতে। সেখানে যে ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি ছিল, সেটা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মতই ছিল। তাদের কর্তব্য ছিল অভিযোগের তদন্ত করা, স্পিকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবে। তিনি সন্তুষ্ট হলে তবেই সেটা সংসদের কাছে উত্থাপন করবেন।

“আমার ধারণা, আমাদের ধারণা এবং গণতান্ত্রিক দেশের ধারণা, এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কীভাবে বিচার করবে, সেটা কিন্তু আপনারা দেখতে পারবেন না। তাদের রায় জানতে পারবেন।”

ষোড়শ সংশোধনী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় করেছিল দাবি করে আনিসুল হক বলেন, “একজন বা তিনজনের রায় থেকে ১০০, ৩০০ জন বা সাড়ে ৩০০ জন সংসদ সদস্যের ডেলিবারেশন অনেক স্ক্রুটিনাইজড। সেই জন্যই আমরা ষোড়শ সংশোধনী করেছি।”

আপিল বিভাগের রায়ে বিচারকদের মেনে চলার জন্য ৩৯ দফার যে  আচরণবিধি দেওয়া হয়েছে, তেমন কিছু আগে কখনও ছিল না বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।  

“আপনারা হয়ত বলবেন, ২০০৭ সালেও একটা দেওয়া হয়েছিল। সেটা ছিল আদর্শলিপির মত… এই এই করতে পারবেন না। কিন্তু করলে কি হবে-তা লেখা ছিল না। মেনে না চললে কী হবে- তা আজকের কোড অব কন্ডাক্টে যুক্ত করা হয়েছে।”

সংবিধানের যে বিষয়গুলো এখনও বাহাত্তরের মূল সংবিধানের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কী- তা সংবাদ সম্মেলনে জানতে চান এক সাংবাদিক।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আনোয়ার হোসেন মামলার রায়ে বলা আছে, লিখিত সংবিধান জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। সময়ে সময়ে জনগণের ইচ্ছা বদলালে এটা সংশোধন করা যায়। সে জন্যই সংবিধানে ১৪২ অনুচ্ছেদ আছে। সেক্ষেত্রে আমি বলব, যদি জনগণের ম্যান্ডেটে অন্য কোনো ইচ্ছার প্রতিফলন হয়, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই সেগুলো পরিবর্তন করব।

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top