রাত ৪:১৯, মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে ফিরেছেন : খালেদা জিয়া
ক্ষমতায় গেলে স্বার্থবিরোধী চুক্তি পুনর্বিবেচনা হবে
প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে ফিরেছেন : খালেদা জিয়া
এপ্রিল ১২, ২০১৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কাছ থেকে আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই আনতে পারেননি বলে দাবি করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাকে কতগুলো আশ্বাস নিয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, অতীতের ধারাবাহিকতায় ভারতের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও প্রস্তাবিত বিষয়গুলোতেই কেবল অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা সই করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বেগম জিয়া। ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করার একদিন পর এ সংবাদ সম্মেলন করলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর চরম ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, এই সফরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা, গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার মতো বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোতে কোনোই অগ্রগতি হয়নি। এমনকি সুন্দরবন-বিনাশী ও পরিবেশ বিধ্বংসী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কথাও বলেননি। তাই এই সফরকে দেশবাসী কেবলই দেওয়ার এবং কোনো কিছুই না পাবার এক চরম ব্যর্থ সফর বলেই মনে করে। ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক নিয়ে নিজের শঙ্কা প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এই ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের আপত্তি সত্ত্বেও জনসাধারণের মতামতকে উপেক্ষা করে এই ধরণের স্পর্শকাতর বিষয়ে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে দেশের জনসাধারণের সাথে আমরাও শঙ্কিত। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পুনর্মূল্যায়ন করবে কিনা- জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেন, তার দল (বিএনপি) ক্ষমতায় গেলে দেশের স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি ও সমঝোতা পুনর্বিবেচনা করবে।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চীনের অস্ত্র অত্যন্ত আধুনিক এবং তা ব্যবহার সহজ। আমাদের বাহিনীগুলো ওই অস্ত্র ব্যবহার করেই অভ্যস্ত। তাছাড়া অস্ত্র আমদানি চুক্তির আগে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেই অর্থাৎ তারা কী ধরণের অস্ত্র চায়-এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভাটির দেশ হিসেবে সকল আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশের অধিকার উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, এটা কারো কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য বা করুণার বিষয় নয়। তিস্তার পানি বন্টনের বিষয়টি দুই সার্বভৌম দেশের মধ্যকার বিষয়। এ জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই বিষয়টি ফয়সালা করতে হবে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দুই দেশের মধ্যেকার আলোচনায় সংশ্লিষ্ট করায় বাংলাদেশের সার্বভৌম মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন-এই সফরে তিনি তৃপ্ত। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এই সফরের ফলাফলে তৃপ্ত তো নয়ই বরং আতঙ্কিত। তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী একগাদা চুক্তি ও সমঝোতা চায়নি, হিসাবের পাওনা চেয়েছে। খালেদা জিয়া আরো বলেন, সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি দিল্লিতে কিছু চাইতে যাননি। কেবল বন্ধুত্বের জন্য গিয়েছিলেন এবং সেটা তিনি পেয়েছেন। কিসের এই বায়বীয় বন্ধুত্ব তা দেশবাসীই বিচার করে দেখবেন। তবে এই কথার মাধ্যমে শেখ হাসিনা প্রকারান্তরে মেনে নিয়েছেন যে, ভারত থেকে তিনি দেশের জন্য কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি। বরং ভারতের চাহিদা মোতাবেক সবকিছুই দিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ভারত সফরকালে শেখ হাসিনাকে কে স্বাগত জানালো, কোথায় রাখা হলো, কেমন সংবর্ধনা দেওয়া হলো, তার এবং তার পিতার কী কী প্রশংসা করা হলো- তাতেই বাংলাদেশের জনগণ খুশি নয়। বাংলাদেশের মানুষ আপ্যায়নের চাইতে তাদের ন্যায্য পাওনা কী এসেছে সেটা জানতে চায়। সেটা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের সংখ্যা ও বন্ধুত্বের কথামালার উপর নির্ভর করে না।

বিএনপি ভারতের সঙ্গে কোনো বৈরিতা চায় না জানিয়ে দলটির চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতার কথা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের নীতিতে আমরা বিশ্বাসী। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবেশী বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ব্যাহত করতে ভারতের বিগত শাসকদের একতরফা ভূমিকায় বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। আমরা আশা করি, ভারতের বর্তমান সরকার অতীতের সেই ভুল থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের মনোভাবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।  সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি সরানোর বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেন, এই বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করে তিনি কিছু জানেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এটা যখন সুপ্রীম কোর্ট অঙ্গণে স্থাপিত হয়েছে, তখন এটি সেখানকার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কী করবেন, না করবেন- উনারাই ভালো জানেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, মীর নাসির, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, রুহুল আলম চৌধুরী, ডা. জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান প্রমুখ। ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ফজলে রাব্বী চৌধুরী, আবদুল হালিম, শফিউল আলম প্রধান,  সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, জেবেল রহমান গাণি, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top