রাত ১:২৮, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / পানির দরে কোরবানির পশুর চামড়া
পানির দরে কোরবানির পশুর চামড়া
সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭

ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়ার বেহাল অবস্থা।  একদিকে লবণের দাম বেশি, আরেক দিকে চামড়ার দাম কম। আছে সিন্ডিকেট ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গরিব মানুষ। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করছে কেউ কেউ। দাম কম হওয়াতে চামড়া পাচারের আশংকাও রয়েছে। এবারের কোরবানির পশুর চামড়া গত বছরের অর্ধেক দামে বিক্রি হয়েছে। চামড়ার যে দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, বেশির ভাগ জায়গায় তার চেয়ে অনেক কম দরে বেচাকেনা হয়েছে। এবারের দর ছিল এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন।

 এর ফলে কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ যেসব দরিদ্র মানুষ পান, তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও ভালো দাম  পাননি। বগুড়ায় প্রতিটি গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪০-৪৫ টাকা নির্ধারণ করা ছিল। খাসি ছিল ১৫-২০ টাকা। কিন্তু গরু যত দামিই হোক বা যত বড়ই হোক চামড়া বিক্রি হয়েছে ১ থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে।

 বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বিটিএ আশংকা প্রকাশ করে বলেছে, এবার চামড়ার দাম কম হওয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে। এ জন্য আগামী এক মাস যাতে চামড়া পাচার না হয়, সে ব্যবস্থা নিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। চামড়া ব্যবসায়ীরা দাবি করেছে, অন্য বছরের তুলনায় এবার ৩০ শতাংশ কাঁচা চামড়া কম হয়েছে।

 তবে জোগান কম থাকলেও দাম বাড়েনি চামড়ার। নানা অজুহাতে ন্যায্য মূল্য থেকে এবারও বঞ্চিত হয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের চামড়া বিক্রেতারা। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বেশ কম দামে চামড়া কিনে চড়া দামে বড় ব্যবসায়ীরা আড়তদারের কাছে বিক্রি করেছেন। কোথাও মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা মাঠ পর্যায় থেকে বেশি দামে কিনে আড়তে কম দামে, অর্থাৎ লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top