বিকাল ৫:১৮, শনিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ others / নামজারি করা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আদমদীঘির শত শত ভূমি মালিক
নামজারি করা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আদমদীঘির শত শত ভূমি মালিক
এপ্রিল ১৩, ২০১৭

সান্তাহার (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় নামজারি (খারিজ) করা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শত শত ভূমির মালিক। অভিযোগ করা হয়েছে সঠিক কাগজপত্র থাকার পরও সহকারী কমিশনার ভূমি নতুন নামজারি খতিয়ান খুলে না দেয়ায় ভোগান্তির শিকার হয়ে দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ধরনা দিয়ে বেড়াচ্ছেন ভূমি মালিকরা। নামজারি খতিয়ান না হওয়ায় ভূমি বেচাকেনা ও ব্যাংক ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভূমি মালিকরা। পক্ষান্তরে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বেশ কয়েকজন ভূমি মালিক বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহী বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ পত্র থেকে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা ভূমি অফিসের অধীনে সান্তাহার পৌর ভূমি অফিস ছাড়াও রয়েছে ছয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এসব ভূমি অফিসের আওতায় সাধারণ ভূমি মালিকরা নামজারি করার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে সঠিক কাগজপত্রসহ নামজারি করার জন্য আবেদন করলে তা বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কারণ দেখিয়ে বাতিল করা হচ্ছে। অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, নামজারি আবেদন ফরমে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ভূমিতে সরকারি স্বার্থ জড়িত না থাকলে সর্বশেষ নামজারি ভিত্তিতে নামজারি করা হবে। সে ক্ষেত্রে নামজারিকৃত সর্বশেষ খতিয়ান ছাড়া অন্য কোন কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু বর্তমান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা পারভিন সর্বশেষ নামজারি খতিয়ান থেকে নতুন নামজারি করছেন না। বরং তিনি গত ৭/৮ মাসে প্রায় দুই হাজার খারিজ কেস বাতিল করে দিয়েছেন।

শত শত ভূমি মালিকের মত নামজারি করতে আবেদন করেছেন সান্তাহার শহরের চা-বাগান মহল্লার জনৈক মাসুদ। দীর্ঘ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও তিনি নামজারি করাতে পারছেন না। তিনি জানান, তার মায়ের নামে সর্বশেষ নামজারি খতিয়ান আছে। তার মায়ের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ হন সে ও তার ছোট ভাই এবং বাবা। সে বিষয়ে পৌর সভা থেকে প্রাপ্ত ওয়ারিশান সনদও জমা দিয়েছেন। কিন্তু তার পরও উপজেলা সহকারী কমিশনার নামজারি থেকে নতুন নামজারি খতিয়ান খোলা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়ায় সে হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ রকম অবস্থা শুধু মাসুদের নয়; উপজেলার শত শত ভূমি মালিকের।

এ ব্যাপরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা পারভীনের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ অভিযোগ সঠিক নয়। সর্বশেষ নামজারি থেকে নতুন নামজারি করার বিষয়টি সরকারিভাবে পরিপত্র আকারে জারি করা হয়নি। এটি নামজারি আবেদন ফরমের একটি পয়েন্ট মাত্র। নামজারি করার জন্য আবেদন করা ভূমিতে সরকারি স্বার্থ জড়িত আছে কিনা তা বিষদ ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাইয়ে যাদের কাগজপত্র সঠিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের নামজারি করে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থা শুধু আদমদীঘি উপজেলাতে নয়, জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও নামজারির জন্য করা আবেদনের ভূমিতে সরকারি স্বার্থ জড়িত আছে কি-না সে বিষয়টি বিষদ ভাবে যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top