রাত ১১:২৮, শুক্রবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / নতুন ফসল না আসা পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে প্রধানমন্ত্রী
নতুন ফসল না আসা পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে প্রধানমন্ত্রী
আগস্ট ২৬, ২০১৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বন্যাদুর্গত কোনো মানুষকে না খেয়ে থাকতে হবে না। যেসব কৃষক ও সাধারণ মানুষ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন ফসল তাদের ঘরে না উঠছে, ততদিন খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে বিনামূল্যে সার, কীটনাশক ও কৃষি উপকরণ দেয়া হবে। তারা যাতে পুনরায় কৃষিঋণ পেতে পারেন, বীজ ও বীজতলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে পারেন, তার জন্য যা যা করা দরকার, সরকার তা তা করবে। শেখ হাসিনা বলেন, বন্যায় ও নদী ভাঙনে যাদের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, সরকারি উদ্যোগে তাদের ঘরবাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। যাদের চাষের জমি গেছে তাদের জমির ব্যবস্থা করা হবে।

বন্যার কারণে যেসব ছেলেমেয়ের বইখাতা নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের মাঝে পুনরায় যাতে বই বিতরণ করা যায়, সেই ব্যবস্থা আমরা নেব। শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ধরণের সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারেও বিশেষ উদ্যোগ নেবে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সংস্কার করা হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। একারণে বন্যা মাঝে মাঝেই আসবে। সেজন্য নৌকা ছাড়া কোনো গতি নেই আমাদের বাঙালির। নৌকা আমাদের সব সময় কাজে লাগবেই। এটাই হলো বাস্তবতা। আর সেই নৌকা মার্কা যখন ক্ষমতায় আসে, তখনই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।  শনিবার বিকেলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজ মাঠে ত্রাণ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী দাম কমিয়ে আনার জন্য চালের উপর আরোপিত শুল্ক কমানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। ৫০ লাখ পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। দুর্যোগের আগাম আভাসে আমরা ২৮ শতাংশ চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে ২ শতাংশ করি। ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল কিনেছি। সাধারণ মানুষ যেন ১০ টাকা করে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করেছি। ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) সাহায্য অব্যাহত রাখবো। ওষুধও দেওয়া হবে। ত্রাণের কোনো অভাব হবে না। বন্যাদুর্গত মানুষের সবরকম সেবা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যা যা করা লাগে আমরা তা করছি। বন্যায় আমরা কাউকে কষ্ট করতে দেবো না। তিনি বলেন, বন্যায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্তত খাদ্যের কোনো অভাব হবে না, সেই ওয়াদা দিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের টিন দেবো, নগদ টাকা দেবো, যারা ঘর হারিয়েছেন তাদের করে দেবো ঘর। তিনি বগুড়ায় বন্যা পরবর্তী সময়ে নদী ভাঙনরোধে উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, যমুনা, বাঙালি ও করতোয়া নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ৩টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এছাড়া বগুড়া-সারিয়াকান্দি রাস্তা সম্প্রসারণ এবং সোনাতলায় বাঙালি নদীর ওপরে সেতু নির্মাণ করা হবে।

আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে চাই, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এসময় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজ যাতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তে জড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সর্বস্তরের মানুষকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

তিনি দেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এভাবে পালন করতে চাই যে কোন মানুষ দু:খি থাকবে না। তারা উন্নত জীবন পাবে। ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা পালন করবো এদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের মানুষকে আর ভিক্ষা নিয়ে চলতে হয় না। কিন্তু বিএনপি সবসময় চাইতো এই বাঙালি জাতিকে ভিক্ষুক করে রাখতে। আমরা দেশকে খাদ্যে স্বংয়সম্পূর্ণ করে যাওয়ার পর ১৯৯৮ সালে খালেদা জিয়া ও তার অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সংসদে গিয়ে বলেছিলো খাদ্যে স্বংয়সম্পূর্ণ হলে বিদেশের সাহায্য পাওয়া যাবে না। তারা দেশকে ভিক্ষুক করতে চাইলেও আমরা তা চাই না। আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াবো, সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্য মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম, বগুড়া-১ আসনের সাংসদ আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু। প্রধানমন্ত্রী সারিয়াকান্দির বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী ও ২৫০ কৃষকের মাঝে ধানের চারা বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণ শেষে সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজ হল রুমে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধী সমাজ ও বন্যা ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাইবান্ধা থেকে হেলিকপ্টার যোগে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে সারিয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছান। সেখানে থেকে গাড়িতে করে সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত সমাবেশ স্থলে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top