রাত ২:২৫, শুক্রবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / ধর্মঘটের সমর্থনে কর্মসূচি বই প্রকাশক-বিক্রেতাদের
ধর্মঘটের সমর্থনে কর্মসূচি বই প্রকাশক-বিক্রেতাদের
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে সৃজনশীল অনুশীলনমূলক বই প্রকাশে নানা প্রতিবন্ধকতা আরোপের অভিযোগে আগামী দুদিনে র ধর্মঘটের সমর্থনে সারাদেশে মানববন্ধন করেছেন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতারা। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির ব্যাশনারে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি মঙ্গল ও বুধবার ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট ডেকেছে।

ওই কর্মসূচি সফলের আহ্বানে  সোমবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব শ্যামল পাল বলেন, এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী যদি তাদের ডাকে সাড়া না দেন, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবেন তারা। একই দাবিতে এদিন সারাদেশে জেলা সদরগুলোতে পুস্তক প্রকাশ ও বিক্রেতা সমিতির সদস্য রা মানববন্ধন করে মঙ্গলবার থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতাল সফল করার আহ্বান জানায়। ধর্মঘট ডাকার কারণ ব্যাখ্যা  করে শ্যামল পাল বলেন, প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন বাস্তবায়িত হলে এনসিটিবি একক কর্তৃত্ব পেয়ে যাবে, যাতে দেশের প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে জড়িত মুদ্রণ শিল্প, কাগজ শিল্প, বাঁধাই শিল্প, কালি শিল্পসহ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশকগণ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এতে প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ২৫ লাখ মানুষ বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, এই আইন বাস্তবায়িত হলে সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, এর প্রভাব পড়বে অমর একুশে গ্রন্থমেলার উপর। পুস্তক ব্যরবসায়ীদের আশঙ্কা, সৃজনশীল প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেলে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট টিউটরদের ‘পোয়াবারো’ হবে। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের ২ (৩১) উপধারায় প্রদত্ত ‘নোট বই ও গাইড বই’ এর সংজ্ঞাটিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে দাবি করেন সালাউদ্দিন।

যদিও আমরা নোট বা গাইড বই এখন আর প্রকাশ করি না, কিন্তু এই সংজ্ঞা ভবিষ্যতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করবে এবং এর বিভ্রান্তিকর প্রয়োগ বা ক্ষেত্রবিশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক অপপ্রয়োগ সৃজনশীল সহায়ক গ্রন্থ প্রকাশে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। ‘এডুকেশন ওয়াচ-২০১৪’এর এক সমীক্ষার তথ্যঅ তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাপনী পরীক্ষায় প্রস্তুতির জন্য ৯৬.৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী সহায়ক বই কিনেছে। যে দেশের ৯৭% শিক্ষার্থী সহায়ক গ্রন্থের ওপর নির্ভরশীল এবং নামমাত্র খরচে পাচ্ছে, সেক্ষেত্রে এই বইয়ের প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া কতটুকু যৌক্তিক? প্রস্তাবিত আইনে এনসিটিবি-কে প্রকারান্তরে একক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও ক্ষেত্রবিশেষে ‘নিয়ন্ত্রক’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করেন পুস্তক ব্যবসায়ীরা। সমিতির সাবেক সভাপতি মির্জা কাশেম বলেন, বিভিন্ন দেশে এরকম বই প্রকাশ হয়।। এগুলোর অনুমোদন নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। গুণ, মান ও চাহিদা অনুযায়ী এসব বই প্রকাশ করা হয়। সমাবেশে পুস্তক ব্যবসায়ীরা হুমকি দিয়েছেন, কোনো শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও প্রতিষ্ঠান শিক্ষা আইন সংশোধনের লক্ষ্যে যৌক্তিক দাবির বিরোধিতা করলে তাদের লেখা বই প্রকাশ, ক্রয়-বিক্রয় ও সংরক্ষণ বন্ধ করে দেবেন তারা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top