রাত ৪:২৩, শনিবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / দেশের চিকিৎসা সেবায় ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে হবে
দেশের চিকিৎসা সেবায় ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে হবে
মে ১৫, ২০১৭

মো: মুরশীদ আলম: ভারতের স্বাস্থ্য আয়ের শীর্ষে বিদেশি উৎস বাংলাদেশ। বিদেশি রোগিদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে ভারত যা আয় করে বেশি ভাগই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রোগিদের কাছ থেকে পাওয়া। প্রতিবেশি দেশটি ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে বিদেশিদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে ৮৮ কোটি ৯৩ লাখ ডলার আয় করেছে। যার উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশি রোগি ব্যয় করেছেন বলে সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


 ভারতের কমার্শিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিবস বিভাগের মহাপরিচালকের বরাত দিয়ে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয় গত অর্থ বছরে দেশটি বাংলাদেশি রোগিদের কাছ থেকে ৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় করেছে। ওই সময়ে ভারতের হাসপাতালগুলোতে চার লাখ ৬০ হাজার বিদেশী রোগি চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার বাংলাদেশি। গত ২৮ এপ্রিল/১৭ তারিখের দৈনিক করতোয়ায় খবরের জানা গেছে।


এই সংবাদটি পাঠ করে বিস্মিত হতে হয় যে, বাংলাদেশের মত একটি দেশ থেকে ৩৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলার চলে গেছে বিদেশে। তা হলে কি আমাদের দেশের চিকিৎসক আর চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা নেই? নেই বিশ্বাস।


 তা হলে কি ধরে নিব দেশে অভিজ্ঞ আর মানসম্পন্ন চিকিৎসক নেই। নেই কি কোন সুবিধাসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা? চিকিৎসক যে নেই এমন কথা বলা যাবে না। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কিছু অনিয়ম, ত্রুটি আর নীতি বিবর্জিত কিছু কারণে তাঁরা কাজ করতে পারেন না।

 

তাঁদের অভিজ্ঞতা আর কর্মকুশলতাকে কাজে লাগাতে পারেন না। বা পারছেন না। এর কারণ রোগ নির্ণয়ের জন্য যেসব মেশিনপত্র দরকার তার ঘাটতি রয়েছে। আবার সেগুলো রয়েছে যেগুলো নিম্নমানের বা অচল হয়ে আছে বলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। রয়েছে দক্ষ মেশিন চালকের বা টেকনিশিয়ানের অভাব। এক কথায় অভাব সুবিন্যস্ত সেবার।


এছাড়া আমাদের দেশের কিছু মানুষের বিদেশমুখী মনোভাব। সামান্য কিছু হলেই তারা ছুটে যায় বিদেশে। এর কারণ হচ্ছে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাটাকে অত্যাধুনিক বিজ্ঞান ও মান সম্মত করে তুলতে পারা যায়নি। অর্থাভাব ও কিছু দুর্নীতিপরায়ন ও স্বার্থলোভী কর্মকর্তাদের জন্যই তা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে তেমন কোন ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে পারিনি।

 

১৯৮৯ সাল। মালয়েশিয়ার অবস্থা মোটেই উন্নত না। সামাজিক; রাজনৈতিক- অর্থনৈতিক চিকিৎসা কোন ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ বা উন্নত নয়। রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন মাহাথির মোহাম্মদ। পেশায় চিকিৎসক মাহাথির বুকে ব্যথা অনুভব করলেন। তাঁর স্ত্রীও একজন ডাক্তার।

]ধরা পড়ল মাহাথিরের হৃদযন্ত্রের সমস্যা ব্লক আছে। বাইপাস সার্জারি করতে হবে। সেই সময় মালয়েশিয়ার রাজনীতিবিদ, আমলা ব্যবসায়ীরা চিকিৎসার জন্য আমেরিকা বা লন্ডনে যেতেন। কেউ কেউ সিংগাপুরে যেতেন। মাহাথিরের চিকিৎসার উদ্যোগ চলতে থাকল। তাকে নিয়ে যাওয়া হবে লন্ডনে।


 বিষয়টি জানলেন মাহাথির। কেন লন্ডনে? কেন মালয়েশিয়ায় নয়। বলা হলো মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা যেহেতু অতটা উন্নত বা পরীক্ষিত নয়। সুতরাং এ ধরনের অপারেশনের জন্য ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না। পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থায় অপারেশন করতে হবে। তাতে ঝুঁকি কম থাকবে।

 

মাহাথির মুক্তি দিলেন আমার অপারেশন তো মালয়েশিয়ার ডাক্তারই সবচেয়ে গুরুত্ব এবং যতœ নিয়ে করবেন। তা ছাড়া আমাদের ঐতিহ্য সৃষ্টি করা দরকার। আমরা বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা করলে সাধারণ মালয়েশিয়ানরাতো বিদেশ যাবে, দেশে ভরসা করবে না।


সুতরাং আমার অপারেশন মালয়েশিয়াতেই হবে। ডা: মন্ত্রী রাজিনন। পুরো প্রশাসন রাজিনন। মহাথীর অনড়। অবশেষে রাজি হলেন। অপারেশন মালয়েশিয়াতেই হবে।এরপর সিংগাপুরের অভিজ্ঞ সার্জনের অধীনে অপারেশন করানোর প্রস্তাব দিলেন তাতেও মাহাথির রাজি হলেন না। মাহাথিরের অপারেশন মালয়েশিয়াতেই হলো। সফলভাবে হলো। মাহাথির নিজের আত্ম জৈবনিক বইয়ে বিষয়টি বিস্তারিত লিখেছেন।

 

মালয়েশিয়া এখন চিকিৎসা সেবায় পৃথিবীর তৃতীয়। সেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ ছাড়া ও ইউরোপ এমনকী অস্ট্রেলিয়া থেকে চিকিৎসার জন্য আসে। মাহাথীর হার্টের রোগি হয়েও তিনি নিজ জীবনের কথা ভাবেননি। ভেবেছেন দেশের কথা আর দেশের জনগণের কথা। আমাদের দেশে ও যে এমন ২/১ জন মানুষ নেই এমন কথা জোর দিয়ে বলা যাবে না।


 তবে তা সংখ্যায় খুব নগণ্য। বলছি ঐ সমস্ত মানুষের কথা যারা সামান্য কিছু সর্দিজ্বর হলেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অবহেলা আর অবজ্ঞা করে বিদেশ যান। তাঁরা হয়তো আমাদের দেশের চিকিৎসক আর চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর আস্থা বা ভরসা করতে পারেন না। অবশ্য এ কথা সত্য যে, আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি দুর্নীতিবাজ চক্র কাজ করে। কলকাঠি নিয়ন্ত্রণ করে। যার ফলে মানসম্পন্ন চিকিৎসা দেওয়ার ইচ্ছা আর মানসিকতা থাকলেও তাঁরা তা দিতে পারেন না। কেননা অভিজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেতো আর হবে না।

 

এর জন্য চাই প্রয়োজনিয় সংশ্লিষ্ট মেশিনপত্র। এসব মেশিনপত্র কেনার জন্য সরকার যে টাকা পয়সা বরাদ্দ করেনা তা কিন্তু বলা যাবে না। তা বলা হলে সরকারের উদ্যোগ আর প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করা হবে। কিন্তু ঐ যে বলেছিলাম একটি দুষ্টু চক্র ওই সবমেশিন পত্র বা যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষমতায় ক্ষমতাবান হয়ে তারা নিম্ন মানের মেশিন পত্র কিনে। নিম্নমানের মেশিন পত্র কমদামে কিনে বেশি দাম দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করে।


 আবার যে মেশিন আদৌ দরকার নেই এবং তা চালানোর কোন দক্ষ অপারেটর বা টেকনিশিয়ান এদেশে নেই সে সব মেশিন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিনে ঐসব মেশিন চিকিৎসার কাজে লাগে না। ঐ চক্রের উদ্দেশ্য টাকা কামানো। রোগিদের রোগ চিকিৎসা তাদের লক্ষ্য নয়।

 

উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত ২৭ এপ্রিল/১৭ তারিখের দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে যে, প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার তালিকায় আছে এমপি ওয়াই ইন্ট্রা অপারেটেড ইমেজিং সিস্টেম নামের ১৪টি সার্জিক্যাল মেশিন।

 

 এই মুহূর্তে এসব মেশিন ব্যবহারের কোন সুযোগ বা প্রয়োজনীয়তা নেই বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। কেননা এ মেশিন চালানোর ওপর কোন প্রশিক্ষণ কারো নেই। কতিপয় একশ্রেণীর মুনাফাখোরী ব্যবসায়ী এবং অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতি বছর স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে এধরনের ক্রয় তালিকা পাঠানো হয় এবং ক্রয় করা হয়। কোন হাসপাতালে কি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তা নির্ধারণ করেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নয়।

 

এমপি ওয়াই এই সার্জিক্যাল মেশিনের ১৪টি ইউনিট ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বা ক্রয়ের কথা বলা আছে। এ মেশিনের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ১৪টি মেশিনের দাম হচ্ছে ৯১ কোটি টাকা। চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ি এ মেশিনের সর্বোচ্চ মূল্য আড়াই কোটি টাকা। মেশিন প্রতি অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি টাকার বেশি।

 

অর্থাৎ ১৪টি মেশিন ক্রয়ে সরকারকে গচ্চা দিতে হচ্ছে ৫৬ কোটি টাকা। তাহলে দাঁড়াচ্ছে কী, সরকার টাকা ঠিকই দিচ্ছে কিন্তু এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ অর্থলোভী এই সব টাকা আত্মসাত করার ফন্দি জিকির করছে। আর এর জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে না। দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগিদের। যেসব মেশিনের আপাতত দরকার নেই, সেইসব মেশিন কেনার জন্য সংশ্লিষ্ট মহল তৎপর। কেবল তাদের আপন স্বার্থের জন্য।

 

তা না করে যদি যে যে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় মেশিনপত্র যেমন এক্সরে মেশিন ডায়ালাইসিস মেশিন ইত্যাদি একেবারেই নেই অথবা থাকলেও বিকল হয়ে আছে, এসব কেনা হলে রোগিরা চিকিৎসা পেত। প্রয়োজনীয় মেশিন পেলে চিকিৎসকগণের পক্ষে রোগ নির্ণয়ে সুবিধা হত। চিকিৎসা দিতে পারতেন। তাদের প্রতি মানুষের আস্থা ও ভরসার দুয়োরটা উন্মোচিত হত। বিশ্বাস পেতেন চিকিৎসকদের ওপর। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার চিত্র সত্যই অত্যন্ত দুঃখজনক। এর অর্থ এই নয় যে ডাক্তারদের অবস্থাও করুণ।

 

সংখ্যায় বেশি না হলেও বাংলাদেশে অত্যন্ত যোগ্য, দক্ষ অভিজ্ঞ ও চিকিৎসা শাস্ত্রের মান সম্পন্ন চিকিৎসক রয়েছেন। তাঁরা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সামর্থের তুলনায় বেশি মানুষের চিকিৎসা দিচ্ছেন প্রতিদিন। কিন্তু সব কিছুর মতো চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ব্যবস্থাপনা বলে একটা বিষয় থাকার কথা। যার অস্তিত্ব বাংলাদেশের অন্যান্য সেকটরের মত চিকিৎসা সেকটরেও নেই।

 

 মানুষ থাকলে রোগ থাকবে। থাকবে চিকিৎসা। আর সেই চিকিৎসার জন্য থাকতে হবে সুব্যবস্থা। যেটুকু সম্পদই থাক না কেন তা যদি সুষ্ঠুভাবে সুব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় বা পরিচালনা করা যায় তাহলে তার সফলতা শতভাগ অর্জিত না হলে একটা গ্রহণযোগ্য মাত্রায় অর্জন করা সম্ভব। এই অর্জনের মধ্যে দিয়ে মানুষের আস্থা বাড়বে। ভরসা আসবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা চিকিৎসার জন্য বাহির মুখী হবে না।


 দেশে চিকিৎসা নিয়ে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে সক্ষম হবে। কিন্তু তা করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না কেবলমাত্র এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী ও অর্থলোভী মানুষ নামের কীটের কারণে অর্থের মোহ যাদের বিবেকের রাস্তাটা বন্ধ করে দিয়েছে। যা দিয়ে ন্যায় অন্যায় আর মানুষের দুঃখ দুর্দশার বিষয়টা তাদের বিবেচনায় আসেনা মনেও হয় না।

 

অনুভবও করে না। সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার কোথাও কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত আছে চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনার সংগে ডাক্তারদের প্রায় কোন সম্পর্ক নেই। সামান্য কয়েক জন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী ডাক্তারের কিছুটা সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু দায় নিতে হয় সব ডাক্তারদের।


চিকিৎসার ক্ষেত্রে সুব্যবস্থাপনা ফিরে আনতে বা নিশ্চিত করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। কঠিন কঠোর হতে হবে। কোন রকম অন্যায় সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনকেও এগিয়ে আসতে হবে। দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিতে হবে।

 

স্বজন প্রীতি দলীয় পরিচয়ে পরিচিতদেরও রেহায় দেয়া যাবে না। কেননা এটা চিকিৎসা ব্যবস্থা। মানুষের জীবন নিয়ে কথা। তাই যে কোন রকম অন্যায়কে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে তাদের লোভ লালসার সীমানা প্রশস্ত করার সুযোগ না দিয়ে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।


 এর ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটা সুব্যবস্থা ফিরে আসলে মানুষের আস্থা বাড়বে। মানুষ ভরসা পাবে চিকিৎসা ব্যবস্থা আর চিকিৎসকের ওপর। সেই সাথে আমাদের দেশের মানুষেরও বিদেশে চিকিৎসা করানোর মানসিকতা পরিহার করতে হবে।

অবশ্য পরিহার এর প্রবণতা তখনই ধীরে ধীরে জন্মাবে যখন চিকিৎসার মান বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে চিকিৎসকদেরকে হতে হবে ন্যায় নিষ্ঠাবান আর রোগিঅন্ত প্রাণ। তাঁরা তাদের ব্যবহার দিয়ে, কথা দিয়ে আর সেবা দিয়ে রোগিদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে হবে চিকিৎসা সেবায়।
লেখক: উন্নয়ন কর্মী
০১৭১৮-৫৩৩৭৬৬



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top