রাত ৩:৪৯, বৃহস্পতিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান
চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭

করতোয়া রিপোর্ট : চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে দোষীদের অর্থদন্ড, মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত ও মিলারদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও কালো তালিকাভুক্ত করা  হয়েছে। জেলা প্রশাসকের বাজার মনিটরিংয়ের ফলে কিছু জেলায় চালের দাম কমতেও শুরু করেছে।

আমাদের নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে মজুতদারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান ও খোলা বাজারে চাল বিক্রির ফলে খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে চালের দাম।  সোমবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের চাল প্রতি কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা করে কমেছে। গত রোববার ওই দুই জাতের চাল বিক্রি হয়েছে প্রকার ভেদে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা দরে।  ওই চাল ৫০ থেকে ৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। শহরের কানাইখালী চাউলপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী শামীম হোসেন, আব্দুল আজিজ, আব্দুল মান্নান জানান, খুচরা বাজারে চালের দাম  ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের চাল প্রতি কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা করে কমে গেলেও ক্রেতা নেই। ফলে অধিকাংশ চালের আড়ত বা দোকানদার অলস সময় কাটাচ্ছেন। অপরদিকে অটোরাইস মিল মালিক কেতাব আলী জানান, খুচরা বাজারে চালের দাম ২/১ টাকা করে কমতে শুরু করলেও ধানের বাজার এখনও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে অধিকাংশ মিলে কোন কাজ হচ্ছে না। বিদেশ থেকে চাল আমদানিও বন্ধ রয়েছে। ধানের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায়  সরকারের নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহের চুক্তি করেননি অধিকাংশ মিলার।

 


নাটোরে চার ব্যবসায়ীর অর্থদন্ড : দাম কমা শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চাল দেয়নি ১৬৫ মিলার : নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

রাজশাহীতে ধান-চালের অবৈধ
মজুদ, দুই মিলকে জরিমানা

কাহালুতে ১৫৭ মিলারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

কুমিল্লায় বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসন

রানীশংকৈলে শতাধিক মিল
কালো তালিকাভুক্ত

ফলে বাজারে চালের সরবরাহ কম হওয়ায় হঠাৎ করে দাম বেড়ে যায়। এছাড়া দেশের বড় বড় কোম্পানীগুলো চালের ব্যবসা শুরু করায় সংকট দেখা দেয়।  সরকার শুল্ক বৃদ্ধি করায় ব্যবসায়ীরা আমদানি শুরু করলেও খরচ বেশি হওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বন্যার খবর ভয়াবহ আকারে প্রচার হওয়ায় ভোক্তাসহ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে তারা বেশি করে চাল কিনে ঘরে মজুত করে। এতে করে সৃষ্টি হয় সংকট। তিনি বলেন সরকার বেশি দিন খোলাবাজারে চাল বিক্রি করাসহ বেশি করে চাল আমদানি করলে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়া দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীসহ মিলাররা বাজারে চাল ছাড়তে বাধ্য হবে। এদিকে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে  জেলার বিভিন্ন চাল মিল ও আড়তদারের প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় বাজার নিয়ন্ত্রক কমিটিসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত। গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে অভিযান চালিয়ে ভেজাল মিনিকেট, ওজনে কম ও মজুত করার অভিযোগে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এদের মধ্যে সততা রাইস মিলের মালিক রায়হান উদ্দিনের লাইসেন্স না থাকায় তার কাছে থেকে ৭০ হাজার টাকা, চৌধুরী অটোরাইস মিলের কালীপদ দাসের কাছে থেকে ওজনে কম হওয়ায় ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জাহাঙ্গীর চালকল মালিক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে থেকে ভেজাল মিনিকেট চাল বাজারজাতের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা ও মেসার্স এমএ আলমগীর চালকল মালিক আলমগীর হোসেনকে চাল মজুত, ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান চালান। অভিযানকালে অন্যান্যের মধ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম, র‌্যাব, ক্যাবসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম জানান  থেকে নাটোরে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে প্রতি জনকে ৫ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। নাটোর শহর এলাকার জন্য ১৫ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিদিন এক হাজার কেজি করে চাল বিক্রি করবেন তারা। দু’দিনে খুচরা বাজারে  প্রতিকেজি চালে ২/১ টাকা করে কমতে শুরু করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ খাদ্যগুদামে চাল দেয়নি ১৬৫ মিলার  
আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহ অভিযানে ১৬৫টি মিলের মালিক চাল সররবারহের জন্য চুক্তি করেননি। ফলে বিপুল পরিমাণ চাল থেকে গেছে চুক্তিবদ্ধ না হওয়া ওই মিল মালিকদের কাছে। চাল সরবারহ না করায় এই ১৬৫ মিলারকে কালো তালিকাভুক্ত করে আগামী ২ বছর তাদের কাছ থেকে চাল না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় খাদ্য বিভাগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে চলতি মৌসূমে তালিকাভুক্ত ১৯৪টি মিলারের কাছ থেকে ১৬ হাজার মট্রিকটন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২৯ জন মিলার চাল সরবারহের জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তিবদ্ধ এসব মিলাররা এখন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৪০৬ মেট্রিকটন চাল খাদ্যগুদামে সরবারহ করেছেন। ফলে এবার সরকারি খাদ্য গুদামে জমা না হওয়া সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিকটন চাল মিলারদের কাছেই থেকে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিয়াজুর রহমান রাজু জানান, চাল সরবারহ না করায় ১৬৫ মিল মালিককে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের কাছ থেকে আগামী ২ বছর চাল না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কালো তালিকায় থাকা মিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজী হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিলার জানান, এবার ধানের দাম অনেক বেশি হওয়ায় এক কেজি চাল উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে ৪০ টাকারও বেশি। অথচ সরকার চাল সংগ্রহের জন্য কেজিপ্রতি ৩৪ টাকা দর নির্ধারণ করায় ব্যাপক লোকসানের আশংকায় অধিকাংশ মিলার এবার সরকারকে চাল দেয়নি। ধান-চাল ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, এবার বোরো মৌসুমের শুতেই ধানের দাম ছিলো বেশ চড়া। শুরুর দিকে ৯০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা মন দরে। এছাড়া ধানের সরবারহ কম থাকায় অনেক মিল পর্যাপ্ত চাল উৎপাদন করতে পারছে না। কাজেই চালের দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সহায়তায় তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছেন। এছাড়া জেলার বড় বড় মিলগুলোতেও নিয়মিত যাচ্ছেন তারা।

রাজশাহীতে ধান-চালের অবৈধ মজুদ, দুই মিলকে জরিমানা
চালের অবৈধ মজুদ ঠেকাতে রাজশাহী নগরীর সপুরায় বিসিক শিল্প এলাকার কয়েকটি রাইস মিলের গুদামে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।  সোমবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত পাল। অভিযানে আসলাম রাইস মিলের কয়েকটি গুদামে এক হাজার ২৮৫ বস্তা ধানের মজুদ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া হা-মীম এগ্রো ফুড নামের একটি রাইস মিলের আরও কয়েকটি গুদামে চার হাজার ২৯ বস্তা চাল মজুদ পাওয়া গেছে। এ দুটি মিলের কোনো লাইসেন্সও নেই।

এ কারণে আসলাম রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আসলাম তোহা এবং হা-মীম এগ্রো ফুডের ব্যবস্থাপক ফয়সাল হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। পরে তাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অতিরিক্ত ধান-চাল মজুদের দায়ে রাতে আসলাম রাইস মিলকে ৫০ হাজার এবং হা-মীম এগ্রো ফুডকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাইসমিল দুটির পক্ষ থেকে জরিমানার টাকা পরিশোধ করা হলে আটক দুই জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অতিরিক্ত মজুদ করা ধান-চাল বাজারে বিক্রি করে দেয়ার জন্য মিল মালিকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আবার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে তাবাসসুম ও রহিমা সুলতানা বুশরা, রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম, জেলা খাদ্য অফিসের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফিকুল ইসলাম, বোয়ালিয়া থানা খাদ্য অফিসের পরিদর্শক মীর্জা জাকারিয়া আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সহায়তা করে পুলিশের একটি দল।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হা-মীম এগ্রো ফুড কর্তৃপক্ষ রাজশাহীতেই চাল প্রক্রিয়াজাত করে। তবে তারা চালের বস্তায় কুষ্টিয়ার মেসার্স হালিমা অটো রাইস মিলের স্টিকার ব্যবহার করে বাজারজাত করে। অন্যদিকে আসলাম রাইস মিলে পাঁচজন ফড়িয়া বিপুল পরিমাণ ধান মজুদ করেন। তারা এই মিলের চাতালের শ্রমিকদের মাধ্যমেই ধান থেকে চাল প্রস্তুত করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত পাল বলেন, মিল দুটিতে তিন-চারগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান-চাল মজুদ করা হয়েছিল। এভাবে ধান-চালের মজুদ করার এখতিয়ার এসব মিল মালিকদের নেই। তারা অবৈধভাবেই এই বিপুল পরিমাণ ধান ও চালের মজুদ করেছেন। বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধির জন্য এরাও দায়ী।

রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, এ ধরনের মিল পরিচালনা করতে হলে সরকারি লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু হা-মীম এগ্রো ফুড ও আসলাম রাইস মিলের কোনো লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স থাকলে তাদের মজুদের তথ্য খাদ্য অফিসে সরবরাহ করতে হতো। ফলে মিল মালিকরা ধান-চালের অতিরিক্ত মজুদ করতে পারতেন না। এ জন্য তারা লাইসেন্সই করেননি।

তিনি জানান, জেলায় ৩২২টি মিলের লাইসেন্স আছে। বাকিগুলো চলছে লাইসেন্স ছাড়াই। তারা মনে করছেন, লাইসেন্সহীন চাল মিলের গুদামে অতিরিক্ত মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তাই ধান-চালের এ অবৈধ মজুদ ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে তারা সব মিলের গুদামেই অভিযান চালাবেন।
কাহালুতে ১৫৭ মিলার চুক্তিবদ্ধ না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা

এদিকে আমাদের কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, কাহালু উপজেলায় বোরো মৌসুমে (১ মে থেকে) চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৭৬৭ মে. টন এবং এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মাত্র  ১ হাজার ৬৭৫ মে. টন। এ উপজেলায় মোট মিলার সংখ্যা ২১৮ জন। এর মধ্যে সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মাত্র ৬১ জন মিলার। তবে চুক্তিবদ্ধ মিলারের মধ্যে অনেকে তাদের সুবিধামত পার্শ্ববর্তী উপজেলা খাদ্যগুদামেও  চাল বিক্রি করেছে। অপরদিকে খাদ্য অধিদফতর থেকে কাহালু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে; যেসব মিলার সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হননি তারা আগামী ৪ মৌসুম সরকারকে কোন চাল দিতে পারবে না। আর যারা চুক্তিবদ্ধ হয়েও চাল দেননি তারাও আগামী ২ মৌসুম কোন চাল দিতে পারবেন না। কাহালু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, সরকারি এ নিষেধাজ্ঞার কথা উপজেলার চুক্তিবদ্ধ না হওয়া ১৫৭ জন মিলারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কাহালু খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, ২ হাজার ৫শ’ মে. টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন কাহালু খাদ্যগুদামে  সোমবার দুপুর পর্যন্ত চালের মজুত ছিল ১ হাজার ১৮ মে. টন। এদিকে কাহালুতে সরকারকে চাল না দেয়ার অভিযোগে কোন মিলারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কিনা এ ব্যাপরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গোলাম মওলার সাথে কথা বলা হলে বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান।

কুমিল্লায় বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসন
কুমিল্লা থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, অস্থির কুমিল্লার চালের বাজার। প্রতিদিনই চালের বাজারে এই অস্থিরতা বাড়ছেই। অস্বাভাবিক হারে চালের দাম বৃদ্ধিতে কুমিল্লার খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। চাল ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও সিন্ডিকেটসহ নানা অজুহাতে দিন দিন বেড়েই চলছে চালের দাম। এই অস্থির চালের বাজারকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বাজার মনিটরিং করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। সোমবার নগরীর রাজগঞ্জ বাজার ও রাণীর বাজারের ৭টি চালের আড়ত এবং বিসিক শিল্প এলাকায় একটি চাল কারখানায় কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদারের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির সালেহ ইমন, কুমিল্লা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন, কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি আবু ছালাম মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। মনিটরিং চলাকালে চালের বাজার অস্থির হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কোন কারণ আসলে আমরা খুঁজে পায়নি। আমরা খুচরা দোকানিদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছে চালের পাইকারি ও আমদানি কারকদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয়।

রানীশংকৈলে শতাধিক মিল কালো তালিকাভুক্ত
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার মিল মালিকরা খাদ্য গুদামে চাল বিক্রি করার চুক্তি না করায় খাদ্য অধিদফতর শতাধিক হাসকিং মিলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।  খোঁজ  নিয়ে জানা যায়, রাণীশংকৈল উপজেলায় ২৭৬টি হাসকিং মিল রয়েছে। চালের বাজার উর্ধমুখী হওয়ায় চলতি বোর মৌসুমে ১৫৬টি মিল মালিক সরকারের সাথে চাল বিক্রির চুক্তি করেননি। ১২০টি মিল মালিক জামানত দিয়ে চুক্তি করলেও তারা অনেকেই চাল দিতে অনীহা প্রকাশ করছে। নেকমরদ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, যারা চুক্তিবদ্ধ করেছে তাদের চাল ক্রয়ের জন্য হাসকিং মিলে মিলে গিয়ে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি সভাপতি আইনুল হক মাষ্টার বলেন, বাজারে চালের মূল্য বেশি হওয়ার কারনে এবার মিল মালিকরা সরকারের সাথে চাল বিক্রির চুক্তি করেননি। তারা অনেকেই চাল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। সরকার চালের প্রতি কেজি মূল্য নির্ধারণ করেছে ৩৪ টাকা। বাজারে চালের মূল্য প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা। কেন মিল মালিকরা লোকসান দিয়ে সরকারকে চাল দিবে। আপনার মিল মালিকরা কি পরিমান চাল মজুত করেছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমাদের তেমন বড় ব্যবসায়ী নেই, তবে কয়েকজন মিল মালিক চাল মজুত করেছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিখিল চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, যারা সরকারের সাথে চাল বিক্রির জন্য চুক্তি করেননি তারা আগামি ২ বছর খাদ্য গুদামে চাল বিক্রি করতে পারবেন না। এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশ্রাফুজাম্মান এ প্রতিনিধিকে বলেন, যারা চাল বিক্রির চুক্তি করেননি তারা ২ বছর, আর যারা চুক্তি করেও চাল খাদ্য গুদামে দেবে না তারা ১ বছর সরকারের সাথে ব্যবসা করতে পারবে না। ব্যবসায়ীরা ব্যক্তিগত গুদামে চাল মজুত করেছেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৩০ দিন পর্যন্ত নিজস্ব গুদামে চাল রাখতে পারবেন। এর বেশি দিন হলে তা ভোক্তা অধিকার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top