দুপুর ১২:০৪, মঙ্গলবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ লুটপাটের জন্যই : বিএনপি
গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ লুটপাটের জন্যই : বিএনপি
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬

লুটপাট এবং ক্ষমতাসীনদের পকেট ভারী করতেই আগামী জানুয়ারি থেকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। একইসঙ্গে এ সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক-গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।  সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গ্যাস কোম্পানিগুলোর মোটা অংকের মুনাফার পরও সরকার বছর না ঘুরতেই মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে গ্যাসের মূল্য দ্বিগুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্যাস খাতে সরকারের কোনো লোকসান নেই বরং মোটা অংকের মুনাফা করছে। তারপরও কেন গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে? গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্য হচ্ছে- লুটপাট, সরকারি দল ও ক্ষমতাসীনদের স্বজনদের পকেট ভারী করা। আমি অযৌক্তিক গণবিরোধী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক দিক তুলে ধরে রিজভী বলেন, এমনিতে সাধারণ মানুষ নিদারুণ কষ্টে জীবন-যাপন করছে।

এর মধ্যে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হলে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার আরও বেড়ে যাবে। জনগণের অতি প্রয়োজনীয় নিত্য ব্যবহার্য সবকিছুর ওপর এর প্রভাব পড়বে। বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে পরিবহন ভাড়া বাড়বে, সেই সাথে দাম বাড়বে নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের। ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কষ্টকর হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ বাড়বে, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। চাপে পড়বে দেশের অর্থনীতি। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের এই সঙ্কটকালে সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত ১৪০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি, চামড়া শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য গ্যাসনির্ভর শিল্প-কলকারখানার উৎপাদনকে ব্যাহত করবে। গ্যাসের দাম বাড়লে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দেবে কিনা, জানতে চাইলে রিজভী বলেন, এটা নির্ভর করছে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর। আমরা তো এখন দাবি জানালাম, প্রতিবাদ করলাম, আহ্বান জানালাম। অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সুতরাং সরকারের এ ক্ষেত্রে ভূমিকা দেখি। নিশ্চয়ই আমাদের দলের নীতি-নির্ধারকরা বসে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম আজাদ, মুনীর হোসেন প্রমুখ।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top