রাত ৪:১৫, মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশের নিষ্ফল অভিযান
প্রতিবাদে সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ আজ
খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশের নিষ্ফল অভিযান
মে ২০, ২০১৭

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেড় ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। তবে এই অভিযানে পুলিশ কিছুই পায়নি।  শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় আকস্মিকভাবেই বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই অভিযান শুরু করে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় বিএনপির কোনো নেতা সেখানে ছিলেন না। অভিযান চালানোর সময় পুলিশ বলেছিল, আদালতের পরোয়ানা নিয়েই তারা অভিযান চালাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ, অজ্ঞাতনামা একটি জিডির ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার জন্য পুলিশ এই অভিযান চালিয়েছে। এদিকে, খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে আজ রোববার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে গুলশান-২ এর ৮৬ নম্বর সড়কে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। এক ঘণ্টা পর সকাল আটটার দিকে কার্যালয়ের মূল ভবনে ঢোকেন পুলিশ সদস্যরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা তল্লাশি শেষ করে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে খালি হাতে ফিরে যান তারা। এ সময় তল্লাশির সঙ্গে যুক্ত পুলিশের গুলশান বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

তল্লাশি শুরুর আগে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ওই এলাকায় সাধারণ কোনো যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ওই কার্যালয়ের কর্মী সোহরাব হোসেন বলেন, পুলিশ সদস্যরা প্রথমে কার্যালয়ের সামনের ৮৬ নম্বর সড়কের দুই প্রান্ত আটকে দেয়। এরপর শুরু হয় তল্লাশি। এর আগে, প্রধান ফটকের তালা ভেঙে পুলিশ কার্যালয়ে ঢুকে। ঢুকেই তারা কার্যালয়ের চারজন কর্মীর মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। আর চলে যাওয়ার সময় পুলিশ ভাঙা তালাটিও নিয়ে যায়। তল্লাশিকে ঘিরে ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের দেখা গেছে।

এদিকে, অভিযানের আগে গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এই কার্যালয়ের ভেতরে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কিছু আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য আমাদের কাছে আদালতের নির্দেশনা আছে। ওয়ারেন্ট রয়েছে, সেই অনুযায়ী তল্লাশি শুরু করেছি। তবে অভিযানের পর ওসি আবু বকর বলেন, যে তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়, সে রকম কিছু পাওয়া যায়নি। অভিযান শেষে সকাল পৌনে ১০টার দিকে সড়কে বসানো ব্যারিকেড তুলে নেয় পুলিশ। তল্লাশি অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ। তল্লাশির পর পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপিকে একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। পুলিশের গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সেই ‘তালিকায়’ তল্লাশিতে প্রাপ্ত মালামালের পরিমাণ ‘শূন্য’ বলে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের তল্লাশি শেষে কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, নিচের তলা ও দোতলায় দু’টি সিসি ক্যামেরার মুখ ঘুরিয়ে রাখা হয়েছে। আর মূল কলাপসিবল গেটটি খোলা ছিল। কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, এই গেটের তালা ভেঙে পুলিশ ভেতরে ঢোকে। এরপর একতলা ও দোতলার বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। একতলার নয় নম্বর কক্ষটির দরজার লক খুলে তল্লাশি তৎপরতা বেশি ছিল। তবে লক ভাঙা পাওয়া গেলেও কাগজপত্র তেমন এলোমেলো ছিল না। বেশ কয়েকজন কর্মচারী বলেন, পুলিশের সঙ্গে মিস্ত্রি ছিল। এই মিস্ত্রিদের দিয়েই তালা ভাঙা হয়। আর ফাইলসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন পুলিশ সদস্যরা। দোতলায় তল্লাশি চালালেও খালেদা জিয়ার কক্ষে ঢোকেনি পুলিশ।

এদিকে, অভিযানের খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে প্রথমে উপস্থিত হন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তিনি কার্যালয়ের ভেতর যান। এর মিনিট বিশেক পর দলের আরেক যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর আসেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, জয়নাল আবেদিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। এ সময় রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ যাওয়ার সময় বলে গেছে- তল্লাশি অভিযানে প্রাপ্তি শূন্য। পুলিশের এই অভিযানকে ‘পুলিশি হানা’ আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানান বিএনপির সিনিয়র এই যুগ্ম-মহাসচিব। তিনি বলেন, এই হানা সরকারের অগণতান্ত্রিক মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ। অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে দিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে সার্চ ওয়ারেন্ট করিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এই অভিযান চালানো হয়েছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে। সারাদেশে খুন-গুম-হত্যা, সামাজিক অবক্ষয়সহ নানা ব্যর্থতা আড়াল করতেই সরকার এই অভিযান চালিয়েছে। তবে দলের নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

পরে বিএনপির নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এই জিডির কপি দেখান। জিডিতে সময় হিসেবে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিট লেখা ছিল। তবে গুলশান ঠিকানা উল্লেখ করা হলেও কোথায় বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় তা লেখা ছিল না। জিডিতে লেখা রয়েছে, গুলশান-২ নম্বরের ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়ি এবং এর আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রবিরোধী ও আইন-শৃঙ্খলাপরিপন্থী, রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিনষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের স্টিকার ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডে  সামগ্রী মজুতের খবর গোপন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই দিন আগে খালেদা জিয়ার এই কার্যালয়ে তারা এক ট্রাক বই আনার খবর পেয়েছেন। সেই বইকে ঘিরে তাদের সন্দেহ হচ্ছিল।

প্রতিবাদে বিএনপির কর্মসূচি
খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে আজ রোববার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।  শনিবার সকালে দেড় ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানের পর দুপুরে সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভা থেকে রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন, এই তল্লাশি কাপুরুষোচিত, অন্যায় ও আওয়ামী লীগ সরকারের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এহেন ঘটনার আমরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
অঙ্গ সংগঠনের কর্মসূচি : জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং শ্রমিক দলও একই ইস্যুতে আজ রোববার দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনগুলোর পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

তল্লাশির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ : সকালে তল্লাশি অভিযানের সময় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে যুবদল এবং শফিউল বারী বাবু ও আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবকদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। দুপুরে কাকরাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলও। এছাড়া বিকেলে বিজয়নগরে সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

২০ দলীয় জোটের নিন্দা : বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির তীব্র নিন্দা
ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ২০ দলীয় জোটের নেতারা। পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোট শরিক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ও মহাসচিব আমিনুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান ও মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি এবং ন্যাপ ভাসানীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গোলাম মোস্তফা আকন্দ এই নিন্দা জানান।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top