রাত ৪:১৬, মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ নিউজ / খরচ কম লাভ বেশি রাণীনগরে পাতি চাষে ঝুঁকছে চাষি
খরচ কম লাভ বেশি রাণীনগরে পাতি চাষে ঝুঁকছে চাষি
মে ১৫, ২০১৭

এস এম সাইফুল ইসলাম, রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে চলতি রবিশস্য মৌসুমে ধান, গমের পাশাপাশি পাতি চাষে ঝুকছে চাষি। খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় ইরি-বোরো ধান চাষের আগ্রহ কিছুটা কমিয়ে বনপাতি ও জলপাতি চাষে দিকে কৃষকদের মনোযোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় এই জনপদে পাতি চাষ তেমন না হলেও পাতি দিয়ে তৈরি পরিবেশ বান্ধব মাদুরের প্রধান উপকরণ হিসেবে কদর বেশি থাকায় চলতি মৌসুমে অন্যান্য ফসলের সাথে রেকর্ড পরিমাণ পাতি চাষ করেছে এই উপজেলার কৃষকরা। ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে পাতি ভালো হওয়ায় কৃষকরা কাটা শুকানো শুরু করাই ভালো দামে বাজারে পুরোদমে বিক্রয় হচ্ছে। সরকার পর্যায় থেকে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ফসল চাষের জন্য কৃষি উপকরণ, বীজ, রাসায়নিক সার বিনা মূল্যে বিতরণ করা হলেও পাতি চাষের জন্য প্রান্তিক কৃষকদের কোনো প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হয় না। চলতি রবিশস্য মৌসুমে কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দেওয়ায় পাতি চাষের পরিবেশ অনুকূলে থাকায় পাতির ভালো ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে প্রথম কাটা শেষ করেছে। এই ফসলটি একই জমি প্রায় তিন বার কাটা যায়। গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা এই পাতি বৈশাখ শুরু থেকে মাস অবদি কাটা শুকানোর কাজ চলতে থাকে। মাদুর তৈরির উপযোগী করতে ভালো রোদ থাকলে প্রায় দুই দিন সময় লাগে তা শুকাতে। এরপর কিছু কৃষক সাংসারিক প্রয়োজনে বাজার জাত করলেও বেশি লাভের আশায় অধিকাংশ কৃষক গুদাম জাত করে রাখে। দাম বেশি হলে সুযোগ বুঝে তারা অবসর সময়ে পরিবারে সবাই মিলে মাদুর তৈরি করে বেশি দামে বাজারে বিক্রয় করে।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১শ’ ২০ হেক্টর জমিতে বনপাতি ও জলপাতি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চলতি বছরে উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাতির আবাদ হয়েছে। শুরুতেই ভাল আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং পাতির ক্ষেতে রোগ-বালাই না থাকায় ও মাঠ পর্যায়ে পাতি চাষিদের উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা যথা সময়ে উপযুক্ত পরামর্শ নজরদারি ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগিতার কারণে পাতি ক্ষেত অনেকটা ভালো হয়েছে। তবে মিরাট, গোনা, কাশিমপুর, রাণীনগর সদর, কালীগ্রাম ও পারইল ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাতি চাষ হয়েছে। পাতি কাটার মৌসুমে রোদ ভালো থাকলে মানসম্পূর্ণভাবে শুকাতে পারলে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৬০ হাজার টাকার পাতি বিক্রয় হবে। এতে পাতি চাষ করে অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা দিন দিন পাতি চাষের দিকে ঝুকছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম গোলাম সারওয়ার জানান, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪/৫টি ইউনিয়নে বিগত বছরের তুলনায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ পাতি চাষ হয়েছে। কুটির শিল্পের মাদুর তৈরির প্রধান উপকরণ পাতি। আর বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় লাভ বেশি হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পাতি চাষে ঝুকছে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top