রাত ১০:৪১, বৃহস্পতিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য / কিডনি রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা
কিডনি রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা
মার্চ ৩, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার : কিডনি রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা। কারণ জনসচেতনতা ছাড়া কোনোভাবেই কিডনি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। অন্যদিকে কিডনি রোগীর চিকিৎসার ব্যয়ভারও অনেক। ফলে অধিকাংশ েেত্র কিডনি রোগে আক্রান্তের চিকিৎসার আগেই মৃত্য হয়।গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসকাবের ভিআইপি কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘বিশ্ব কিডনি দিবস’ উপলে ‘ক্যাম্পস’ আয়োজিত ‘স্থুলতা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, সুস্থ কিডনির জন্য সুস্থ জীবনধারা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ পরামর্শ ও শঙ্কার কথা জানান।

গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)। শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রণজিৎ রায় বলেন, ১৮ বছরের নিচে অধিকাংশ শিশুর কিডনি রোগ হতে পারে। এজন্য শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের যতœ নেওয়া প্রয়োজন। শিশুদের েেত্র প্রথম থেকেই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। অন্যদিকে সাধারণত রোগীর কিডনি ৭০ শতাংশ বিকল হওয়ার পর এর লণ ধরা পড়ে। ফলে রোগী বুঝে ওঠার আগেই অধিকাংশ েেত্র মৃত্যুবরণ করে থাকে।


কিডনি ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মহিবুর রহমান বলেন, কিডনি রোগ থেকে রা পেতে আমাদের খাদ্যাভ্যাসটা পরিবর্তন করতে হবে। দিনে অন্তত ৫ বার ফল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কেননা স্থুলতার সবচেয়ে বড় কারণ উচ্চরক্তচাপ। এেেত্র খাবার সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। এছাড়া কিডনি সুস্থ রাখতে কায়িক পরিশ্রমও করতে হবে। এর ফলে কিডনি অনেক ভালো থাকে। বেলা’র নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. রিজওনা হাসান বলেন, বায়ু দূষণে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। বাইরে হাঁটতে গেলে আজ নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।

 হাঁটা চলার মতো জায়গাও রাজধানীতে কমে যাচ্ছে। আবার শাক-সবজি ও ফলমূলেও এখন বিষ মেশানে হচ্ছে। এটা খেয়ে আমরা সুস্থতার পরিবর্তে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এেেত্র সরকারকে নজর রাখতে হবে, অধিক ফসল উৎপাদনের নামে যেন নাগরিকদের বিষ না খাওয়ানো হয়। এজন্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা। কারণ এটা ছাড়া কোনোভাবেই কিডনি রোগ থেকে রা পাওয়া সহজ নয়।

 কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির সভাপতি অধ্যপক ডা. এম এ সামাদ বলেন, বিশ্বে প্রতি ঘণ্টায় ৫ জন কিডনি রোগী মৃত্যুবরণ করছেন। বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন। ২০০৫ সালে ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ সারাবিশ্বে কিডনি রোগে মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্বে শতকরা ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত।

 তবে কিডনি রোগটি হয়ে থাকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও নেফ্রাইটিকসের কারণে। আবার ২০১০ সালে ৩০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় স্থুলতার কারণে। অপরদিকে কিডনি রোগে আক্রান্ত ৫ শতাংশ মানুষের চিকিৎসা করার মতো সামর্থ্য নেই। ফলে জনসচেতনতা ছাড়া কোনোভাবেই এটি রোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার উপদেষ্টা মির মোতাহার হোসেন, সংবাদ উপস্থাপক শামিম আরা মুন্নি, সাবেক ক্রিকেটার আশরাফুর রহমান লিপু প্রমুখ।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top