সকাল ১০:১১, শনিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ চট্টগ্রাম / ‘কাজের সময় যেন এই ক্যামেরা কাজে আসে’
‘কাজের সময় যেন এই ক্যামেরা কাজে আসে’
নভেম্বর ২৩, ২০১৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে কয়েক দফা হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি নজরে রাখতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে ৫০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নাসিরনগর উপজেলা সদরের দত্তপাড়া, ঘোষপাড়া, পশ্চিমপাড়া, কাশিপাড়ার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অপরাধীদের তৎপরতা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

এদিকে নাশকতা এড়াতে নাসিরনগরের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন নাসিরনগরবাসী। তবে পুলিশের এই কার্যক্রম কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে অনেকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সঠিক সময়ে যাত এই ক্যামেরা কাজে লাগে সেই আশা করছেন তারা।

নাসিরনগর দাসপাড়া এলাকার চন্দ্রধর দাস বলেন, ‘পুলিশ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করছে শুনেছি। এটি ভালো দিক। পুলিশের এই কার্যক্রমে আমদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে যেটুকু জেনেছি এই কার্যক্রম ক্ষণস্থায়ী। দীর্ঘস্থায়ী নয়। অবস্থা এরকম হলে আমাদের আশান্বিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।’ তিনি ক্যমেরাগুলো দীর্ঘস্থায়ীভাবে বসানোর দাবি জানান।

সরকারপাড়ার জিতেন্দ্র চন্দ্র সরকার জানান, ‘আমরা আপাতত খুশি। দেখি পুলিশ কী করছে। এসব ক্যামেরা যেন ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। কাজের সময় যেন এই ক্যামেরা কাজে আসে। আর যদি নামেমাত্র লাগানো হয় তা হলে এই ক্যমেরা লাগানোর কোনও যুক্তি নেই।’

পশ্চিমপাড়া এলাকার হেলাল মিয়া বলেন, ‘এখন সিসি ক্যামেরা লাগাইয়া লাভ কী? ঘটনায় যারা জড়িত তারা সব পলাতক। যারা হুজুগে বাঙালি তারা ধরা পড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ যে সিসি ক্যামেরা লাগাচ্ছে তা হাওর অঞ্চলের অনেকের কাছেই নতুন। এসব ক্যামেরা পুলিশ যেন নিয়মিত তদারকি করে।’

সিসি ক্যামেরা সর্ম্পকে জানতে চাইলে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, ‘নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলাপরবর্তী পরিস্থিতি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উপজেলার সদরের বিভিন্ন স্থানে ৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ১০ টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তবে সবগুলো স্পটের ক্যামেরা স্থায়ী নয়। পরবর্তী পরিস্থিতি এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে কিছু রাখা হবে। কিছু ক্যামেরা খুলে ফেলা হবে। তবে যতদিন ক্যামেরাগুলো থাকবে ততদিন কঠোরভাবে এগুলোর মাধ্যমে নজরদারি রাখা হবে।’

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। সেই ঘটনার পর আরও তিনদফায় সেখানে হিন্দু সসম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীদের বিষয়ে তথ্য দিলে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে আসামি গ্রেফতার হলে তথ্যদাতাকে ১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেয় জেলা পুলিশ।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top