বিকাল ৫:১২, বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / কাজির গরু কাগজে আছে গোয়ালে নেই
কাজির গরু কাগজে আছে গোয়ালে নেই
আগস্ট ১২, ২০১৭

আব্দুল হাই রঞ্জু :দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার ওপর লিখতে বসে যে শিরোনাম দিয়ে লেখা শুরু করলাম, তাতে বিদ্যুৎ সমস্যার কোন ইঙ্গিত নেই। ইঙ্গিত না থাকলেও বিষয়টি যে বিদ্যুৎ সমস্যার ওপর, তা হয়তো পরে পরিষ্কার হবে। মানুষের জন্য বিদ্যুৎ এখন একটি অপরিহার্য্য সেবা। যে সেবার ওপর ভর করে মানুষের বসবাস, দৈনন্দিন কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প কারখানা সবই নির্ভরশীল। এ দেশে বিদ্যুৎ নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে এবং অতিতেও হয়েছে। মানুষ বিদ্যুতের দাবীতে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে এবং এখনও করছে। আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল ২০০৬ সালে বিদ্যুতের দাবীতে কানাসার্টে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ২০ জন সাধারণ নাগরিককে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে।

 শুধু কানসার্টেই নয়, খোদ রাজধানীতে জন বিক্ষোভের রোষানলে পড়ে তৎকালিন সংসদ সদস্য সালাহ্উদ্দিন আহমেদ দৌড়ে জীবন বাঁচিয়েছিলেন। সে সময় বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। বিদ্যুৎকে ঘিরে সে সময় বিএনপি সরকারকে ভাবমুর্তি সংকটেও পড়তে হয়েছিল। সর্বত্রই আলোচিত ছিল, বিএনপির প্রভাবশালী কেউ কেউ বিদ্যুতের নামে ‘খাম্বার’ বাণিজ্য করেছে। সে সব কারণে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রতিশ্রুতি ছিল, তারা ক্ষমতায় আসতে পারলে সর্বাগ্রে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবে।

জনগণের স্বপ্ন ছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাসীন হলে সত্যিই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে। জনগণের সে স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় টানা ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন যে কোন কৌশলে মহাজোট বাস্তবায়ন করলেও প্রকৃত অর্থে বিদ্যুৎ সমস্যার উল্লেখযোগ্য যে অগ্রগতি হয়নি, তা বললে খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবে কি?

 
বাস্তবে মহাজোট সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হয়েই বিদ্যৎ সমস্যার ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিতে রেন্টাল এবং কুইক রেন্টালের মত ব্যয়বহুল প্রকল্প স্বল্প মেয়াদের জন্য গ্রহণ করেছিল। এতে সরকারি কোষাগারের বাড়তি অর্থ খরচ হলেও বিদ্যুৎ খাতে স্থায়ী ও দীর্ঘ মেয়াদি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। তবে, পূর্বের তুলনায় বাড়তি বিদ্যুৎ যে উৎপন্ন হয়েছে, তা স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু উৎপাদনের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ। ফলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তা দিয়ে পুরো চাহিদাতো নয়ই হয়ত অর্ধেক (?) চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে গোটা দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

শুধু পল্লী বিদ্যুতের ক্ষেত্রেই নয়, খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান পিডিবিও চাহিদার অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। এ দিকে সরকার ঘোষণা করছে, গত ৮ বছরে মহাজোট মোট উৎপাদনের ৬১ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। তাই যদি হয়, তাহলে বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা কেন মানুষকে পরিহাস করছে। সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দাবী, মোট চাহিদার সম পরিমাণ বিদ্যুৎ এখন উৎপাদন হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে প্রতিদিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ গড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ কোন ঘাটতি নেই।

 তাহলে মানুষ কেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০ ঘন্টা বিদ্যুৎ পায় না? এর জবাব পরিষ্কার, তাহলো খাতা কলমে বিদ্যুৎ উপাদনের পরিমান ৯ হাজার মেগাওয়াট থাকলেও বাস্তবে সে পরিমাণ অনেক কম। অর্থাৎ ‘কাজীর গরু কাগজে আছে গোয়ালে নেই’ অবস্থার মতোই। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগের দাবী, সঞ্চালন লাইনগুলো অনেক পুরনো, অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকারিতা কমে এসেছে, এ জন্য উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঠিকভাবে পেতে অসুবিধা হচ্ছে। এ জন্যতো সিস্টেম লস হচ্ছে।

যদি দিনে রাতে ১০ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব হয়, তাহলে ২৪ ঘন্টা পাওয়াও সম্ভব। প্রকৃত অর্থে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে কোন কোনটি বন্ধ, সঞ্চালন লাইনের ত্রুটি, প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ‘কেপটিভ’ বিদ্যুতের হিসাব সব মিলে চাহিদার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ যেমন উৎপন্ন হয় না, তেমনি শিল্প কলকারখানায়, নগর-মহানগরে বেশি পরিমাণ বিন্দু সরবরাহ করায় মফস্বল শহর কিম্বা পল্লী অঞ্চলে বিদ্যুতের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তাকে ভয়াবহ বলাই যুক্তিসংগত।


যদিও সরকার দাবী করছে, আগামী তিন বছর বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। সরকারের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। যা আগামী ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। সত্যিই যদি সরকারের মহা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়, তাহলে হয়ত চাহিদার বাড়তি বিদ্যুৎ  উৎপন্ন হবে।

যা আগামী ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট উন্নিত হবে। সত্যিই যদি সরকারের মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়, তাহলে হয়তো চাহিদার বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। কিন্তু ২০২১ এবং ২০৩০ সালতো অনেক দুরে। ফলে সরকার প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রেও সময় একটি বড় সমস্যা।


 সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করতে হবে, তারপর তো বিদ্যুৎ আনা সম্ভব হবে। যেখানে দেশের অভ্যন্তরে সঞ্চালন লাইন করতে কত প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়, সেখানে বিদেশে সঞ্চালন লাইন যে তড়িঘড়ি নির্মিত হবে, সেটা আশা করা বাতুলতা মাত্র। তাহলে চলমান বিদ্যুৎ সংকটকে সরকার কিভাবে মোকাবেলা করবে ? হয়ত এই সময়ের জন্য ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণকে বাড়াতে হবে। এমনকি প্রতিবেশি দেশ নেপাল, ভুটান থেকেও বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করতে হবে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে যতদ্রুত সম্ভব চালু করতে হবে।

পত্রিকান্তরে জানা গেছে, ফেনীর সোনাগাজীতে দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালু হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অযতেœ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। যেখানে ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মেয়াদও একের পর এক ধরে বাড়ানো হচ্ছে, সেখানে পরিবেশ বান্ধব বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পটি কেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল, তা খতিয়ে দেখা যেমন জরুরি, তেমনি প্রকল্পটি চালুর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তার সফল বাস্তবায়ন করা জরুরি। আমাদের দেশে আবার উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতাকে ধরে রাখাও কঠিন। আর সে প্রকল্প যদি অন্য দলের ক্ষমতাসীনদের দ্বারা চালু হয়ে থাকে, তাহলে সে প্রকল্পটিকে অন্য দল ক্ষমতায় এলে বন্ধ করাকেই যুক্তিযুক্ত মনে করে। এ কারণে বর্তমান মহাজোট সরকার প্রধান শেখ হাসিনা মাঝে মধ্যেই বলে থাকেন, উন্নয়নের

ধারাবাহিকতাকে ধরে রাখতে হলে, পুনরায় মহাজোটকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। সে প্রসঙ্গ ভিন্ন, জনগণ কোন দলকে ক্ষমতায় আনবে, সেটা দেখার জন্য হয়ত আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের কথা হলো, জনগণ যে দলকেই নির্বাচিত করুক, তাদের উচিৎ, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বন্ধ না করে বরং গতিশীল রাখা। কারণ উন্নয়ন পরিকল্পনা কিম্বা গৃহীত প্রকল্প সমূহ কোন দল কিম্বা ব্যক্তি বিশেষের নয় বরং সেগুলো জনস্বার্থেই আরো গতিশীল করার সংস্কৃতিকেই রাজনীতিকদের চালু করতে হবে। তানা হলে প্রকৃত অর্থে জনস্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হবে। বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে অনেক কথাই লেখা হলো।


বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমান গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং দেখে মনে হয়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। জাতীয় এক দৈনিক সুত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে বিদ্যুৎ ঘাটতির হিসাব না থাকলেও গত ১৪ ও ১৫ জুলাই/১৭ অনুষ্ঠিত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপকদের সম্মেলনে বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। উক্ত সম্মেলনে মহাব্যবস্থাপকগণ গ্রামাঞ্চলের যে করুণ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলে ধরেন, তা ভয়াবহ। সম্মেলনে উপস্থিত মহাব্যবস্থাপকগণ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সভায় উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুলাই/১৭ দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৯ হাজার মেগাওয়াট। আর একই দিনে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৯ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট। এই হিসেব দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় ৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন হয়েছে। এই হিসাব সঠিক থাকলে দেশের কোথাও লোডশেডিং থাকার কথা নয় অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে কাগজ কলমে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সমূহের উৎপাদন ক্ষমতার ভিত্তিতে মোট উৎপাদন ধরা হয় ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে হিসাব অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না।

 ফলে দিনে দিনে লোডশেডিং এর মাত্রা এমন ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে জনজীবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প, কল-কারখানায় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মহাজোট সরকার দুই মেয়াদে প্রায় সাড়ে আট বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। যারা বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছে। সময়ের অংকে সাড়ে আট বছর কোন ভাবেই কম নয়। দীর্ঘ এই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে সত্য, কিন্তু সে তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা যে সম্ভব হয়নি, তা ক্ষমতাসীনদেরকে মেনে নিতেই হবে।

সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খুব বেশি দিন বাকী নেই। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে না পারলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে যেমন বিএনপি জোটকে বিদ্যুৎ সংকটের জন্য মাশুল গুনতে হয়েছে,  হয়ত আগামী নির্বাচনে মহাজোটও সংকটে পড়তে পারে। এই দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে এ সংকট নিরসনে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। অবশ্য এ নিয়ে সরকারের ভিতরেও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

 সংগত কারণে সরকার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় চরাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক। প্রথমেই পদ্মার চরাঞ্চলকে বেছে নেয়া হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। শুধু পদ্মার চরাঞ্চল কেন, গোটা দেশে বিশাল বিশাল চরাঞ্চল পতিত পড়ে আছে।

যেখানে সৌর বিদ্যুতের প্লান্ট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হলে, সেই বিদ্যুতের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর বাড়তি বিদ্যুৎ অন্যান্য স্থানে ব্যবহার করাও সম্ভব হবে। অন্যদিকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় নাম মাত্র খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত করা যাবে। অর্থাৎ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে আমাদের বেশি করে নজর দিতে হবে। প্রকৃত অর্থে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে, তাহলে বিদ্যুৎ খাতে অর্থ অপচয় কমে আসবে। আর অর্থ কমে আসা মানে, জনগণের ওপর করের বোঝাও কমবে।


পরিশেষে এটুকুই বলতে চাই, আর কালক্ষেপণ নয়, পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ আমদানি এবং নাবয়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথকেই দীর্ঘায়িত করতে হবে। তাহলে পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ থেকে সরে আসা সম্ভব হবে। তানা হলে একটি সমস্যা দুর করতে হয়ত সরকারকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দিকে বেশি করে ঝুঁকতে হবে।

কিন্তু এ পথ আমাদের ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য কোন ভাবেই শুভ হবে না, বরং এর বিরূপ প্রভাব ভবিষ্যত প্রজন্মকে বিপদগ্রস্ত করবে। বাস্তব এ পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথকেই মসৃণ করা উচিৎ। তাহলে একদিকে যেমন পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতের বাড়তি ব্যয় কমে আসলে ভর্তুকীর পরিমাণও কমবে।
  লেখক : প্রাবন্ধিক
০১৯২২-৬৯৮৮২৮

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top