রাত ৩:৫৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / ওএমএস আতপ চালে অনীহা ক্রেতাদের
ওএমএস আতপ চালে অনীহা ক্রেতাদের
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭

খাদ্য অধিদপ্তর স্বল্প দামে খোলা বাজারে বিক্রি শুরু করলেও আতপ চাল দেখে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এই অবস্থা দেখে ডিলাররাও আগ্রহ হারাচ্ছেন। প্রথম দিনে ঢাকায় ১০৯ জন ডিলার চাল-আটা সংগ্রহ করলেও সোমবার এই সংখ্যা ৯৪ জনে নেমে আসে। সারাদেশে ৬২৭টি ট্রাকে করে এমএসের চাল বিক্রি শুরু হয় রোববার। ঢাকা মহানগরীতে ১২০টি ট্রাকে তা বিক্রি হচ্ছে বলে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বদরুল হাসান।

ঢাকায় চালের সঙ্গে আটাও বিক্রি হচ্ছে। তবে চালের দাম দ্বিগুণ করে ৩০ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। সোমবার কয়েকটি ট্রাকের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, চালের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না, তবে আটা বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা বলেন, আগে সিদ্ধ চাল যে দামে বিক্রি হত, এখন তার চেয়ে দ্বিগুণ দামে আতপ চাল কিনতে কেউই আগ্রহী হবে না। তবে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, আতপের মতো হলেও মানের দিক থেকে এটা সিদ্ধ চালের মতোই। মানুষ ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্থ হয়ে যাবে। বাজারে চালের দাম প্রতি কেজি সর্বনিম্ন ৫৫ টাকায় পৌঁছায় শহরগুলোর সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য খোলাবাজারে চাল বিক্রির এই উদ্যোগ সরকারের। সোমবার দুপুরে আগারগাঁও বিএনপি বস্তি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওএমএসের ট্রাকে অলস সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতা। বস্তির বাসিন্দা, রিকশা চালক ও নিম্ন আয়ের মানুষ ট্রাকের কাছে এসে চাল দেখে আবার চলে যাচ্ছেন।

‘ট্রাক সেলের’ কর্মী সাদ্দাম সাজী বলেন, এবার গুদাম থেকে আতপ চাল দেওয়ায় লোকজন কিনতে চাচ্ছে না। তারা বলছে, এই চাল ভাত খাওয়ার জন্য নয়, পিঠা তৈরির জন্য। দুপুর ২টা পর্যন্ত বিএনপি বস্তি এলাকায় ২০ বস্তা চালের মধ্যে বিক্রি হয়েছিল মাত্র তিন বস্তা। অথচ আটা বিক্রি হয় ৫ বস্তা। আটা কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখে ‘চাল কিনলে আটা দেওয়া হবে’ এমন শর্ত দিতে দেখা যায় সাদ্দামকে। প্রায় একই পরিস্থিতি দেখা যায় শ্যামলী সিনেমা হলের সামনে ও ফার্মগেইট গ্রিন সুপার মার্কেটর সামনে বসা ওএমএসের ট্রাক সেলে। সকাল থেকে ট্রাক নিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতাদের তেমন সাড়া ছিল না। শ্যামলীতে একজন ক্রেতা বলেন, সরকার কেন যে আতপ চাল দিতে গেল, তা বোধগম্য নয়। ঢাকায় কোথাও আতপ চাল সিদ্ধ করে ভাত খেতে শুনিনি। আগে সিদ্ধ চাল যেখানে ১৫ টাকা দিয়েছে সেখানে হঠাৎ করে দেওয়া হলে আতপ চাল, দামও করা হল দ্বিগুণ। এনিয়ে ক্রেতাদের আসলে তেমন উপকার হবে না। বেচা-বিক্রিই তার প্রমাণ। নিজের নাম পরিচয় জানাতে চাননি ৫ কেজি আটা কিনতে আসা এই ক্রেতা।

সংগ্রহে কেবল আতপ: ঢাকা জেলার এরিয়া রেশনিং কর্মকর্তা তৌফিক ই এলাহী বলেন, মজুদ পরিস্থিতিতে আতপ চালই বেশি। মিল মালিকদের কাছ থেকে যেই দুই লাখ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা গেছে, তা চলে যাচ্ছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবিসহ অন্যান্য সরকারি রেশনিংয়ে। তারা আতপ চাল নিতে চাচ্ছে না। তাই খোলা বাজারে আতপ চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। এই আতপ চাল রান্না করলে সিদ্ধ চালের মতোই হবে বলে জানান তৌফিক। আমি নিজে এই চাল রান্না করেছি। দেশের ট্রাডিশনাল আতপ চালের মতো এগুলো নয়। এটা সিদ্ধ চালের কাছাকাছি মানের। কেউ একবার কিনে নিলে তার ‘ভুল’ ভেঙে যাবে বলে মনে করেন খাদ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা। তার ধারণা, মানুষ কিছু দিনের মধ্যে এই চালে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

খুলনায় আতপ চালে ক্রেতাদের অনীহা
খুলনায় ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার পর থেকে নির্ধারিত ২০টি পয়েন্টে চাল বিক্রি শুরু হয়। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ পাঁচকেজি করে চাল নিতে পারছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সিদ্ধ চালে অভ্যস্ত নগরবাসী ওএমএসের আতপ চালে অনীহা প্রকাশ করছেন। ওএমএস চাল নিয়ে প্রথমদিনে নগরবাসীর মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বরং তাদের মধ্যে আতপ চাল বিক্রি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে শোনা গেছে। প্রচন্ড রোদের মধ্যে মানুষ দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে চাল কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সামনের দু’একজন চাল নেওয়ার পরই ভিড় কমতে শুরু করে। যারা চাল না কিনে চলে যাচ্ছেন তারা জানিয়ে দেন, আতপ চাল কিনবেন না। নতুন বাজার রূপসা বেড়িবাঁধে চাল কিনতে আসা আব্দুল্লাহ নামের এক ক্রেতা বলেন, আমাদের আতপ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস নেই। তাই এ চাল কিনে কি করবো।

একটি মাছ কোম্পানির কর্মচারী আব্দুস সালাম বলেন, বেশির ভাগ এলাকার মানুষ এ চালের ভাত খায় না। কিন্তু এখানে সিদ্ধ চাল না থাকায় বাধ্য হয়ে আতপই নিতে হচ্ছে। সচেতন নগরবাসী অনেকে বলছেন, ওএমএসে আতপ চাল বিক্রি করে সরকার চালের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে না। ক্ষোভ আর আক্ষেপ নিয়ে অনেকে বলছেন, আতপ চালে ভালো পিঠা হয়। আতপ চাল কিনে  উপকার হবে রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রয়কারীদের। তবে খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন বলছেন, চমৎকার সাড়া পাওয়া গেছে। আতপ চালটি মিনিকেট, বাসমতি চালের মতো। চালের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। উন্নতমানের চিকন চাল। হয়তো শতকরা দু’একজন ফিরে যাচ্ছে। তবে খুলনা, বাগেরহাট সাতক্ষীরা, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাটি এসব জেলার মানুষের আতপ চাল খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এদিকে চাল বিক্রিতে অনিয়ম রোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি টিম মনিটরিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। জেলা খাদ্য অফিস জানিয়েছে, চাল বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top