সকাল ১১:৫২, শনিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ আর্ন্তাজাতিক / উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় নির্বিকার দক্ষিণ কোরীয়রা
উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় নির্বিকার দক্ষিণ কোরীয়রা
আগস্ট ১০, ২০১৭

করতোয়া ডেস্ক : উত্তর কোরীয় সীমান্ত থেকে ৩৫ মাইল উত্তরে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল। ১ কোটি মানুষের বসবাস সেখানে। একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছে, উত্তর কোরিয়ার যেকোনও সামরিক অভিযানের প্রথম ও অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হবে পার্শ্ববর্তী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া।

সম্প্রতি যখন উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি-ধামকি ও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে; তখন প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের ভয় পাওয়ারই কথা। কেননা, বিশ্লেষকরাও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালিয়েই দেয়, তখন মার্কিন বাহিনীর মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে উত্তর। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট দিয়েছে ভিন্ন তথ্য।

 সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বার বার হামলার হুমকি-ধামকি শুনতে শুনতে দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের কাছে এটি খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। তারা এখন এ নিয়ে অনেকটা নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। তাদের মধ্যে এখন আর খুব একটা আতঙ্কজনক প্রতিক্রিয়া হয় না বললেই চলে। হোয়াইট হাউস সূত্রও সাংবাদিকদেরকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তর কোরিয়া সংক্রান্ত মন্তব্যগুলোকে অতো গুরুত্বসহকারে না দেখার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। মার্কিন ঘাঁটিতে উত্তর কোরিয়ার হামলার হুমকির জবাবে দেশটিকে ‘ধূলায় মিশিয়ে দেওয়া’র হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর উত্তর কোরিয়া ঘোষণা দিয়েছে তারা গুয়ামে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মিসাইল হামলার পরিকল্পনা করছে। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সেনা ও প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার মানুষের বসবাস। উত্তর কোরিয়ার দাবি, তারা আগস্টের মাঝামাঝি সময়েই হামলার সব প্রস্তুতি শেষ করে ফেলবে এবং নেতা কিম জং উনের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবে। এ উত্তেজনার মধ্যে বুধবার হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক এ উত্তেজনা নিয়ে দক্ষিণ কোরীয়দের মধ্যে তাৎক্ষণিক কোনও উদ্বেগের লক্ষণ নেই বললেই চলে।

 বুধবার রাতের উষ্ণ আবহাওয়ায় অনেকে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে গেছেন, পিকনিক করেছেন। সিউলের পার্শ্ববর্তী শহর হংডায়েতে হনগিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের একটি পার্কে তরুণদের জমায়েত দেখা গেছে। তাদেরকে গল্পে মত্ত থাকতে দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাসিন্দারা মনে করেন, তাদের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষই বেশি ভয় পাচ্ছে। ক্রিস্টাল নামে হংডায়েতে বসবাসরত এক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক বলেন, ‘এখানকার মানুষ উদ্বিগ্ন, তবে এখবরটি নিয়ে আমাদের চেয়ে মার্কিনিরা অনেক বেশি আতঙ্কিত। দক্ষিণ কোরিয়ার লোকজন জানে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এমন কিছু করবেন না যা তার ক্ষমতাকে ঝুঁকিতে ফেলে।’

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হুমকিগুলো দিয়েছেন সেগুলোকে অপেশাদারী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ক্রিস্টাল। ট্রাম্প সম্পর্কে ক্রিস্টাল বলেন, ‘তিনি আবেগপ্রবণ এবং তার মন্তব্যগুলো ভয়াবহ।’  হাফিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষুদ্র সংস্করণের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচির বড় ধরনের ধাপ অতিক্রম করতে পারে। তবে পিয়ং ইয়ং সফলভাবে ক্ষুদ্রাকারের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে নাকি ক্যালিফোর্নিয়ায় আঘাত হানার সক্ষমতাসম্পন্ন দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল পরীক্ষা চালিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অবশ্য, এখন পর্যন্ত নতুন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, উত্তর কোরিয়াকে চাপ দিতে চীনের ওপর চাপ জোরালো করা এবং হামলা চালানোর হুমকির মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতা সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র স্বতঃপ্রণোদিত সামরিক অভিযানসহ আগ্রাসী হামলায় যাবে।

উত্তর কোরিয়া তখন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে। কয়েক হাজার স্বল্প ও মাঝারি মাত্রার গোলাবারুদ ব্যবহার করে এসব হামলা হতে পারে। তবে এসব নিয়ে চিন্তিত নন দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ। ক্রমাগত হামলার হুমকি পেতে পেতে তারা আর এসব দিকে কর্ণপাত করেন না বললেই চলে। উল্লেখ্য, কেবল চলতি বছরই উত্তর কোরিয়া ১৮টি মিসাইল এবং ১২টি অন্য অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

 দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে দুই বছর ধরে বসবাস করছেন অ্যালেক্স নামের এক মার্কিনি। হাফিংটন পোস্টকে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার হুমকি নিয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি চিন্তিত তার পরিবার। সিউলের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধামকির পর ‘এখন আর কেউ ভয় পায় না।’ এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের দফতরের কর্মকর্তা চেওং ওয়া দায়ে বুধবার বলেন, উত্তর কোরিয়ার হুমকিকে সত্যিকারের সংঘাতের উসকানি হিসেবে দেখার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি কৌশলী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

 দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপে সংকট আসন্ন বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তার সঙ্গে একমত নন চেওং ওয়া। তিনি বলেন, ‘এটা সত্য যে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বার বার উত্তেজনা ছড়ানোর কারণে কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি খুব গুরুতর হয়ে উঠলেও অনেকে এগুলোকে কৌশলগত উত্তেজনা বলেই বিশ্বাস করছেন। যত দ্রুত সম্ভব আমরা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও মিসাইল ইস্যুগুলোর সমাধানের জন্য কাজ করছি। আমাদের বিশ্বাস, এক্ষেত্রে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।’  

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top