রাত ১১:২৫, শুক্রবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট
উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট
জুলাই ৮, ২০১৭

করতোয়া রিপোর্ট: ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুরসহ দেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়াসহ এ অঞ্চলের সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। নদী তীরবর্তী নিন্মাঞ্চলের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাড়িঘর ফেলে আশ্রয় কেন্দ্র বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ছুটছেন তারা। বন্যার্তদের অভিযোগ, তারা পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি গবাদিপশুর খাবার জোগাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।

অনেকে কমমূল্যে তাদের গরু-ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বরাদ্দ কম থাকায় তারা সবার মাঝে ত্রাণ পৌঁছাতে পারছেন না। দেশের চার নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়বে বৃষ্টিপাত। ফলে নদ-নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, ৯০টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৯টি ও হ্রাস পেয়েছে ৩৩টির। অপরিবর্তিত রয়েছে দু’টি, বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ৮টির। যমুনা নদীর পানি বাহাদুরবাদ ঘাটে বিপদসীমার ৩৪ সে. মি., সারিয়াকান্দিতে ২১ সে. মি., কাজিপুরে ১৪ সে. মি. ও সিরাজগঞ্জে ১৭ সে. মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। যমুনার পানি ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরবাদঘাটে ১৩ সে. মি., সারিয়াকান্দিতে ১৫ সে. মি., কাজিপুরে ১৫ সে. মি. ও সিরাজগঞ্জে ১৯ সে. মি. বেড়েছে। এছাড়া সুরমা নদীর পারি কানাইঘাটে ৩৮ সে. মি., কুশিয়ারার পানি অমলশীদ ও শেওলায় ৬৩ সে. মি., কংস নদীর পানি জাজিরাজঞ্জাইলে ৪৫ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা, কুশিয়ারা ও কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ ঘণ্টায়। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী ব্রক্ষ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। যমুনা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকতে পারে। আর গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি আগামী ৭২ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। অপরদিকে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে। এই দুই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় হ্রাস পেতে পারে। ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। এছাড়া ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ব্রহ্মপুত্র পাড়ের নিম্নাঞ্চলের বিশাল জনপদ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) :বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ৬টি ইউনিয়নে পানি ঢুকে পড়ায় অন্তত ১৮ গ্রামের তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যা কবলিত মানুষজন বিশুদ্ধ পানির অভাব ও পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যা নিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে ইতোমধ্যে জলাবদ্ধ ৩৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীতে পানি বেড়েই চলেছে। এতে কুতুবপুর, কামালপুর, চন্দনবাইশা, কর্ণিবাড়ি, কাজলা ও চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নে পানি ঢুকছে। বিভিন্ন গ্রামের অন্তত তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকে সহায়-সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। ৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যা দুর্গতরা বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে রয়েছেন। এদিকে বগুড়ার ডিসি নুরে আলম সিদ্দিকী দুর্গত এলাকার জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার সকাল থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান বন্যা দুর্গত চন্দনবাইশা, কামালপুর ও কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১ হাজার পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি করে প্রায় ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করেছেন। এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ১৪৪ পরিবারের মধ্যে ৫ হাজার টাকা করে বিতরণ করেছে।অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী ধুনট উপজেলার যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী হারুনার রশিদ জানান, শনিবার সকালে নদীতে পানি বিপদ সীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। স্থানীয়রা জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের রাধানগর, শহরাবাড়ি, শিমুলবাড়ি বৈখাশী, ভুতবাড়ি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে শিমুলবাড়ি, কৈয়াগাড়ি ও শহরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে।

ধুনটে বন্যা পরিস্থিতির অবণতি
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৩সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবণতি হয়েছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির পেয়ে নদীর কুল ডুবে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের পূর্বপাশে মাধবডাঙ্গা, ভুতবাড়ি, পুকুরিয়া, কৈয়াগাড়ি, বানিয়াজান, শিমুলবাড়ি, রাধানগর, বৈশাখী ও শহড়াবাড়িসহ ১১টি গ্রামের আড়াই হাজার পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। পানি বন্দি এসব পরিবারের লোকজন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছে।  শনিবার দুপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রন এলাকা পরিদর্শন করেন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোছাম্মদ রায়হানা ইসলাম ও শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম, ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন শ্যামল, গোসাইবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনুল হাসান মকুলসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারি প্রকৌশলী হারুনর রশিদ বলেন, গত কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘন্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে  শনিবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত শহড়াবাড়ি ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উলিপুরের ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদী অববাহিকার ৪ ইউনিয়নের চর ও দ্বীপচরের প্রায় ১৫টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। এসব গ্রামের বন্যাকবলিত মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে পাশর্^বর্তী উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ গ্রামের দেড় শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে।  উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের গাবুরজান কামারটারী, শ্যামপুর, চরদাগারকুটি, চর গুজিমারী, নয়াদারা, নীলকন্ঠ, তাঁতিপাড়া, বাবুরচর, মাঝিপাড়া, হাতিয়াগ্রাম ও চর মোহাম্মদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামগুলোর বেশির বাড়িতে পানি ছুঁইছুঁই করছে। বাড়ির লোকজন পার্শ^বর্তী উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে কলাগাছের ভেলা তৈরি করে বাড়ির উঠানে রেখে দিয়েছে। বন্যার পানিতে অনন্তপুর দাগারকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর বাগুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ডুবে গেছে। ফলে বিদ্যালয় দু’টিতে ক্লাশ বন্ধ রয়েছে। অনেকের ধারনা ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এসব ইউনিয়নের চরের বেশিরভাগ গ্রাম তলিয়ে যাবে। মাঝিপাড়া গ্রামের দিনবন্ধু জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পানিতে তলিয়ে যাবে গ্রামটি। তবে গ্রামের মানুষজন কলাগাছের ভেলা ও নৌকা বাড়ির উঠোনে রেখে দিয়েছে। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় গ্রামবাসী আগের চেয়ে অনেক সচেতন। হাতিয়া বাবুর চর গ্রামের আলেকনুর জানান, গবাদিপশু নিয়ে বেশির ভাগ মানুষ বেকায়দায় রয়েছে। গবাদি পশু উঁচু স্থানে রেখে দিলেও খাদ্য যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, বিন্ধুরচর, মশালেরচর, বালাডোবা, ফকিরেরচর, আলআমিন, ইসলামপুর, মাষ্টারপাড়াসহ বেশিরভাগ গ্রাম তলিয়ে গেছে। গত ৭ দিনের ব্যবধানে আলআমিন বাজার, উত্তর বালাডোবা ও দক্ষিণ বালাডোবা গ্রামের প্রায় ১৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনকবলিত মানুষজন পাশর্^বর্তী উঁচু ভিটায় আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া সাহেবের আলগা ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে যাওয়া ৫ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র চর অববাহিকার ৭টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খন্দকার মোঃ ফিজানুর রহমান জানান, বন্যা মোকাবেলায় সব রকম প্রস্তুতি রয়েছে।

সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
সিরাজগঞ্জ অফিস : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাঁধের বাইরে এবং চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্ল¬¬াবিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ২৫ সে.মি. বেড়ে  শনিবার বিকেলে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের নিচু এলাকায় উঠতি ফসল ডুবে গেছে। কোন কোন চরের নিচু এলাকার বাড়ি-ঘরে পানি উঠেছে বলে জানা গেছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, গত তিনদিন যাবৎ যমুনা নদীর পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিপদসীমার ২০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শুভগাছা ইউনিয়নের টুটুলের মোড় পয়েন্টে কিছুটা ঝুকিপূর্ণ থাকায় সেখানে বালির বস্তা নিক্ষেপের কাজ চলছে। বাধের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য টাংগাইলের ঘাটাইল সেনানীবাসের একটি প্রকৌশলী দল  সকালে বাধ এলাকায় পরিদর্শন করেছেন। যে কোন ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে বন্যার পানি প্রবেশ করায় যমুনার তীরবর্তী ৫টি উপজেলার আরো ৩ শতাধিক পরিবার বাধে আশ্রয় নিয়েছে। জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য গত শুক্রবার থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২ লাখ টাকা ও ১০০টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে এখনও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ পাওয়া যায়নি যে কারণে এখনও তা বিতারণ শুরু হয়নি।

ফুলছড়িতে বন্যার পানি বিপদসীমার ওপরে
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়,  শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় ফুলছড়ি তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ঝুঁকির মধ্যে থাকা ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকায় বসবাসরত মানুষেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৪০টি পয়েন্ট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পানির চাপ বাড়লেই বাঁধের ওই অংশগুলো ভেঙে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। গত এক দশকে এ বাঁধটির ব্যাপক ক্ষতি হলেও এর সংস্কার বা মেরামত কাজ কোনটাই করা হয়নি। ফলে যেকোন সময় বাঁধের দুর্বল অংশগুলোতে পানির চাপ পড়লেই ভেঙ্গে যেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সুন্দরগঞ্জ হতে ফুলছড়ি হয়ে সাঘাটার জুমারবাড়ি পর্যন্ত গাইবান্ধা অংশে ৭৮ কি.মি. বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। এদিকে

শনিবার গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল সাঘাটার জুমারবাড়ি থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন করেছেন। এসময় তার সাথে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী চন্দ্র শেখর, ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

চিলমারীতে ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানি ১১ সে:মি: বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদ সীমার ৫ সে:মি: নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প¬¬¬াবিত হয়ে ৬ ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। অপরদিকে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে। গত ১সপ্তাহে উপজেলা চরাঞ্চলীয় ৩টি ইউনিয়নে প্রায় ৫শ পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। চিলমারী উপজেলার সংশি¬ষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াবশ, মজারটারী, খারুয়ারপাড়, চরউদনা, দক্ষিণ খামার ও চর বড়ভিটা এলাকাসমুহের প্রায় ৩শতাধিক পরিবার, অষ্টমীর চর ইউনিয়নের ডাটিয়ারচর, ফলুয়াপাড়া, হাজিপাড়া, ফকিরপাড়া, নটারকান্দি, খারুভাঁজ ও খামার বাঁশপাতারী মন্ডলপাড়া এলাকাসমুহে প্রায় ১হাজার ৪‘শ পরিবার, চিলমারী ইউনিয়নের চরশাখাহাতি, মনতোলা ও আমতলা এলাকাসমুহে প্রায় ২‘শ পরিবার, নয়ারহাট ইউনিয়নের খেরুয়ার চর, বজরা দিয়ারখাতা, উত্তর ও দক্ষিণ খাউরিয়া এলাকাসমুহের প্রায় শতাধিক পরিবার, রমনা ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া, টোনগ্রাম, সোনারীপাড়া, হিন্দু পাড়া, মাঝিপাড়া ও পাত্রখাতার প্রায় ১হাজার পরিবারসহ উপজেলায় প্রায় ৩হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অপরদিকে নয়ারহাট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবু হানিফা জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে নিুাঞ্চল প¬াবিত হওয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০টি বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অষ্টমীরচর ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব ফকির জানান, তার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গত ১সপ্তাহে প্রায় ৪৫০টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গয়ছল হক মন্ডল জানান, তার ইউনিয়নে গত ১সপ্তাহে প্রায় ৭০টি বাড়ী নদীগর্ভে নিপতিত হয়েছে এবং নদের ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প-াবিত হয়ে অন্তত ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়াসহ গোটা উপজেলায় চিনা, কাউন, আউশ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

জামালপুরে বন্যায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি
দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দুই লাখ মানুষ। শনিবার সকালে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকায় ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর পানি পরিমাপক আব্দুল মান্নান জানান, ১২ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকায় ২৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার সকালে ১৯.৮৩ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ১৯.৫০ সেন্টিমিটার) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় প্রায় দুই লক্ষাধীক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এদিকে দুই উপজেলার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ উঁচু বাঁধ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। যমুনার পানি প্রতি ঘণ্টায় অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির স্রোতে ইসলামপুর উপজেলার শিংভাঙ্গা সড়ক এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চত্বর পানিতে তালিয়ে গেছে। এ সব এলাকার মানুষও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ফলে তারা গৃহপালিত পশু গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। এছাড়া মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি গো খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চুকাইবাড়ী, চিকাজানী, বাহাদুরাবাদ এবং ইসলামপুর উপজেলার পার্থশী কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া, ইসলামপুর সদর, পলবান্দা এবং ইসলামপুর পৌরসভা, আংশিক তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় নতুন করে প্লাবিত হয়ে লক্ষাধীক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল রোপা আমন ধান, বীজতলা, পাট, উঠতি ফসল আখ, কাঁচা তরিতরকারী বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া যমুনার দুর্ঘম দ্বীপচর হরিণধরা, জিগাতলা, চর বেড়কুশা, চরবরুল, চর মুন্নিয়া, চর সিন্দুরতলি, চর চেঙ্গানিয়া, চরপ্রজাপতি, চর শিশুয়া ও চর বিশরশির এলাকায় মানুষের খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিনাডুলি ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম ও বেলগাছা ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ও পার্থশী ইউপির চেয়ারম্যান ইফতেখারুল ইসলাম বাবুল। এদিকে টাঙ্গাইলের অংশে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গোপালপুর উপজেলার ললিন পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়  বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে। এতে ভুঞাপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও গোপালপুর উপজেলার একটি ইউনিয়নের কিছু মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।   টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৗশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এবং কয়েকদিনের বৃষ্টিতে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। এতে করে  থেকেই জেলার ললিন পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া এ অংশে পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।   

সিলেট : সিলেটের আট উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির দিকে। ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে পানি কমে পরিস্থিতির এ উন্নতি হয়েছে। বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না দুর্গত মানুষদের। ঘরে খাবার নেই, বাইরে কাজ নেই। পানিবন্দি জীবন বিষয়ে তুলেছে ১৮ হাজার পরিবারের প্রায় দেড় লাখ মানুষের। বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ৪ হাজার ৪৯১টি ঘরবাড়ি। তাছাড়া দুর্গতের অনেকেই পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ত্রাণ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান। বেশি বন্যা কবলিত তিন উপজেলার ১১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬২৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। পানি কমায় অনেকে বাড়ি চলে গেছেন বলে জানা যায়।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি গত চার দিন ধরে কমছে। শনিবার ৫ টি পয়েন্টে পানি কমেছে ৬-১০ সেন্টিমিটিার। তবে  এখনো বিপদসীমার ওপরে রয়েছে নদীর পানি। ভারী বৃষ্টি না হলে আর নতুন করে পাহাড়ি ঢল না নামলে বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এদিকে পানি কমতে শুরু করায় নানা পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে দুর্গত এলাকায়। বন্যায় স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় কাজ চলছে জানিয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসা সেবায় কাজ করছে ৭৮টি মেডিকেল টিম। পানিবাহিত অসুখ মোকাবেলায় মজুদ রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যাদুর্গত এলাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে মানুষ। দুর্গতরা ত্রাণের আশায় থাকলে ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তভোগীরা। বিয়ানীবাজারের আব্দুল জব্বার জানান, ১৫ দিন ধরে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কিন্তু সরকারি সাহায্য পেয়েছি মাত্র ছয় কেজি চাল।

ওসমানী নগরের সাদীপুরের নুরবানু বিবি বলেন, সাত জনের সংসার। মাত্র একদিন ৫ কোজি চাল সাহায্য পেয়েছি। দুই দিনেই চাল শেষ। এখন একবেলা খাচ্ছিতো আরেক বেলা উপোস করছি।তবে, জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় সিলেটের ৮টি উপজেলার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫৫ জন লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। দুর্গতদের সাহায্যে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ওসমানীনগর, কোম্পানীগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, জকিগঞ্জ উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নের ৪৬৬ গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৩১৩ টন চাল ও ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা ৮টি উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে।

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top