রাত ২:৩৩, শুক্রবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / ইভিএমে আরেকটি দুর্নীতির আশঙ্কা বিএনপির
ইভিএমে আরেকটি দুর্নীতির আশঙ্কা বিএনপির
জানুয়ারি ১৩, ২০১৭

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন ও ই-ভোটিং চালুর যে প্রস্তাব দিয়েছে- তার বিরোধিতা করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিএনপির এই অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান ‘একতরফা পার্লামেন্টে’ আইন হলে তা সবার গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ফেরালে তাতে নির্বাচনে ‘ডিজিটাল কারচুপি’ হবে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে জাগপা ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। ই-ভোটিংয়ের বিরোধিতায় তিনি বলেন, ইভিএম অনেক ত্রুটি থাকতে পারে বলে ত্যাগ করতে হয়েছিল। এমনিতেই কারচুপির জন্য সব জায়গায় মানুষ তটস্থ। দুর্নীতির একটি নতুন মাত্রা দেয়া হয়েছে ডিজিটাল কারচুপিতে। ইভিএম চালু করলে আরেকটি দুর্নীতি হবে। সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের কথা বলা থাকলেও সাড়ে চার দশকেও তা প্রণীত না হওয়ায় গতবারের মতো এবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ইসি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন নিয়োগে ‘সম্ভব হলে এখনই’ একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। এর বিরোধিতায় সরকারপ্রধানের উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আপনি নিজের মতো করে যদি আইন করেন, তাহলে তো সব দলের সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন কমিশন গঠন হবে না। আপনি কী আইন করবেন সেটা নিয়ে মানুষের মনে বিরাট সন্দেহ আছে। আপনার প্রত্যেকটি আইন হচ্ছে গণ-বিরোধী এবং লুটপাট ও দুর্নীতির পক্ষে।

বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, সব দলের মতামতের ভিত্তিতে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ‘গ্রহণযোগ্য’ ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দিতে হবে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে চেয়ারপারসনের দেয়া ১৩ দফা প্রস্তাবে এর স্পষ্ট আভাস আছে। সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে করুন। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করার জন্য এর সাথে যদি আরও কিছু উপাদান যুক্ত হয়, হতে পারে। তবে সরকার যদি সবার মতামতের বাইরে গিয়ে ‘নিজেদের পছন্দসই লোকদের’ ইসিতে বসাতে চায় অথবা আইন প্রণয়ন করে, জাতি তা কোনোদিন মেনে নেবে না। কারণ, নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রতি আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও আস্থা থাকতে হবে। উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ, গত বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর এমন দাবি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন- উন্নয়নের মহাসড়কে নয়, উনি (প্রধানমন্ত্রী) দেশকে ‘দুর্নীতির মহাসড়কে’ নিয়ে গেছেন। উন্নয়ন হয়েছে উনার আত্মীয়-স্বজন, এমপি-মন্ত্রিদের। প্রত্যেকটি জায়গায় শুধু ডাকাতি, লোপাট আর আত্মসাৎ। এই উন্নয়ন ছাড়া দেশে আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। আজকে আমরা একটা মিথ্যাচারে বসবাস করছি। আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের রাজকোষ থেকে ৮০০ কোটি টাকা এবং পুঁজিবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও। মহাসড়ক-সেতু-ব্রিজ-ফ্লাইওভারের উন্নয়ন ব্যয় তিন-চারগুণ বাড়ছে। এ হচ্ছে-শেখ হাসিনার উন্নতি। জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, জাগপার সহ-সভাপতি রেহানা প্রধান, মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top