রাত ১:৪২, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / আবারো বাড়ছে বিদ্যুতের দাম
আবারো বাড়ছে বিদ্যুতের দাম
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭

আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ইতিমধ্যে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষ করেছে। পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। এই প্রস্তাবের ওপর ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে গণশুনানি শুরু হবে। ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে পাইকারি পর্যায়ে সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।

দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের সব সময়ের অজুহাত হচ্ছে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া। আর সেই উৎপাদন খরচ যে সরকারের নীতির কারণে বাড়ছে, তা তো প্রায় সর্বজনস্বীকৃত। আর তার দায় নিতে হচ্ছে দেশের ভোক্তা সাধারণকে। এবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আগের যুক্তির কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। মূলত লোকসান এড়ানোর যুক্তি থেকেই দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 এমন গতানুগতিক যুক্তি আগেও দেখানো হয়েছে। কিন্তু সিস্টেম লস ও উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনার মাধ্যমে লোকসান কমিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখছি না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এটাও ঠিক যে, লোকসান দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান টিকতে পারে না। তবে বিদ্যুতের এই মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব যে সর্বত্র পড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নয়, দেশের সর্বত্র উৎপাদন নির্ভর করে বিদ্যুতের ওপর। কাজেই  বাজারে এর প্রভাব পড়বে। ক্যাব বলছে, দাম বাড়ানোর বর্তমান প্রক্রিয়া অযৌক্তিক।

 কারণ, বিইআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ অনুসরণ করছে না, বরং বেশি দামের তেলভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ফার্নেস তেলের দাম বাজার দর অনুযায়ী করে দিলেও উৎপাদন ব্যয় অনেক খানি কমত। ভোক্তা পর্যায়ে এই বোঝা বহন করতে হবে। কাজেই বিদ্যুতের মূল্যভার এখনই চাপিয়ে না দিয়ে আরেকবার বিবেচনার সুযোগ আছে কিনা, সেটা ভেবে দেখতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top