রাত ১১:১৬, শুক্রবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সাহিত্য / অল্প কথায় গল্প
অল্প কথায় গল্প
আগস্ট ১৯, ২০১৭

শরীফ সাথী:পড়ন্ত বিকেল। বর্ষার টাপুর টুপুর বৃষ্টির ফোঁটা জানালার পাশে দাদু ও নাতির দেহের পরশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে শীতল বায়ুতে দোলা দিয়ে যাচ্ছে।প্রতিদিনের মতো আজও নাতির আবদার দাদু, আজও তো বৃষ্টি হচ্ছে গল্প শোনাও না।
দাদু কচি ঘাসের মত মুচকি হেসে গল্প বলা শুরু করল-
গহীন অরন্যে জনাজীর্ন কুঠি বাড়িতে বাস করতো দুই বন্ধু বেজী ঠুলি ও ফুলি।
প্রকৃতিরা বাড়ির চারিদিকে নিদারুন ভাবে খেলা করতো। পাশে পুকুরের চতুর্দিকে ফলের গাছ।
আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তাল, নারিকেল, কদবেল, আমড়া, জলপাই, লেবু, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, পাকা লাল লাল ডালিম। আরো কত কিছু সবুজ ছায়া ঘিরে থাকতো। বাতাসের ঢেউয়ে পুকুরের জল থৈ থৈ করতো। মাছের দল এঁকে বেঁকে, দুলে দুলে খেলা খেলতো। ব্যাঙের ডাকে বর্ষা আসতো।
ঠুলি ও ফুলি শখের বসে বিভিন্ন পশু পাখির বিয়ের জন্ম দিনের অনুষ্ঠান করতো।
কি না আনন্দ হতো?
ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, ঝিঁঝি পোকার চিচি ঝিঝি ডাকাডাকি। বিভিন্ন মাছদলের লাফালাফি আর পাখিদের সুমিষ্ঠ গানে ভরে উঠতো কুঁঠিবাড়ির আঙিনা।
খেয়েদেয়ে আনন্দে চলতে থাকে তাদের মধুময় জীবন।
এবার প্রচন্ড খরা।
পানির স্তর নিচে নেমে পুকুরের জল কমে যাওয়ায় কষ্ট পেতে পেতে দেরিতে বৃষ্টির আগমন। দেরিতে হলেও পুকুর জলে ভর্তি হয়ে ব্যাঙের ও মাছদলের আনন্দের সীমা নেই।
সকাল-বিকাল ডাকাডাকি।
গাছ থেকে পাকাপাকা ফল পড়ে জলে। মাছ নাচে ব্যাঙ নাচে, নাচে ঘুগরো তালে।
এভাবেই দিন যেতে থাকে।
ব্যাঙের ডাকে বাদল নামে কত আনন্দে?
বেশী সুখ কি আর কপালে সয়?
হঠাৎ একদিন ভয়ংকর গোখরা সাপ চুপি চুপি এসে ফস করে একটি ব্যাঙ ধরে নিয়ে গেলো, পরের দিন পাখির ছানা ধরে চলে যায়।
এভাবে দিন মাস পেরুতে ব্যাঙ ও পাখিদের মধুময় ডাক আস্তে আস্তে কমতে শুরু করলো।বন্ধু বেজীদ্বয় ঠুলি ও ফুলি ব্যাঙ ও পাখির ছন্দ তালের ডাকে ঘুমাতো। তারা ভাবলো ডাক্ এতো কমে যাওয়ার কারন কি? তাই ব্যাঙ ও পাখির সর্দারকে ডেকে পাঠালো।
-জ্বী মহাশয়, কিছু বলছেন?

-হ্যাঁ। তোমাদের মায়া মমতা ভরানো মিষ্টি মধুর প্রিয় ডাকাডাকি এতো কম হওয়ার কারন কি?
ব্যাঙ ও পাখিদ্বয় সমস্ত ঘটনা খুলে বললো।বেজীদ্বয় রেগে অস্থির। মাথা ঠান্ডা করে ওদের শিখিয়ে দিলো যখনই গোখরা ধরতে আসবে, তখনই তোমরা সুরে সুরে ডাকবে-
“এসেছে এসেছেরে বন্ধ,ু এসেছে এসেছেরে বন্ধু”।তারপরের দিন গোখরার আসতে দেখে, ব্যাঙ ও পাখির ও হাঁসের দল মিষ্টি সুরে ডাকতে লাগলো-
‘‘এসেছে এসেছেরে বন্ধু, এসেছে এসেছেরে বন্ধু?’’

বন্ধু বলে সম্বোধন করায় গোখরা আনন্দে আটখানা। গোখরা মিছে মিছে হাসে, তালে তালে নাচে আর ভাবে মজায় মজায় খাবো।ঠিক এই সময় ঠুলি ও ফুলি হাজির। সামনে ফুলি ফুলের মত বিকশিত হয়ে খেলা দেখায় আর পিছন থেকে ঠুলি এক লাফে গোখরোর ঘাড় মটকে দিয়ে, দাঁতের ধারালো কাইচে দিয়ে গলা কেটে দিলো।
গোখরা কুপোকাত।
মুহুর্তে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেললো।
তারপর থেকে আবার আনন্দে গান গাইতে শুরু করলো, ব্যাঙ ও পাখিদের দল।
নাতি ফোঁকলা দাঁতে হেসে উঠে বললো, ঠিক হয়েছে দাদু ভাই—
ঠিক হয়েছে উচিৎ শিক্ষা হয়েছে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top