বিকাল ৫:০৬, শনিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / অফসোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরিত টাকা দ্রুত উদ্ধারের পরামর্শ
অফসোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরিত টাকা দ্রুত উদ্ধারের পরামর্শ
মার্চ ১৫, ২০১৭

সংসদ রিপোর্টার : অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবি ব্যাংক (আবর বাংলাদেশ ব্যাংক) অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটির মাধ্যমে দেয়া বকেয়া ঋণের ৫৫ দশমিক ৭৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৪৬ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা) দ্রুত উদ্ধারের পরামর্শ দিয়েছে।

কমিটি অনিয়মের মাধ্যমে দেয়া এই ঋণে দেশীয় সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির সুপারিশ করেছে ।
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৯তম সভা  শেষে  সংসদ মিডিয়া সেন্টারে কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক  এক  সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান চারটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে ‘ব্যবসা’ এবং ‘শিল্পকারখানা’ করার জন্য  এ ঋণ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ঋণ দেয়ার জন্য যে ধরনের বিচার বিশ্লেষণ ও নিয়ম আছে তা মানা হয়নি বলে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে সংসদীয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রিজওয়ানুল হুদা স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ঋণসমূহের প্রস্তাবের যথাযথ বিচার বিশ্লেষণ না করা, ইক্যুইটির তুলনায় বেশি পরিমাণ ঋণ মঞ্জুরি, অপর্যাপ্ত জামানত, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অনুকূলে স্থানান্তর হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দলের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এক পর্যায়ে বলা হয়েছিল যারা এই ঋণ নিয়েছিল তারা যেন ফেরত দেয়। এজন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের সময় দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রহিম আফরোজ ২০ মিলিয়নের মতো টাকা ফেরত দিয়েছে। বাকী টাকা এখনও আদায় হয়নি।’

তিনি আরো বলেছেন, গ্লোবাট এমই জেনারেল ট্রেডিং এলএলসিকে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার,সিমাট সিটি ট্রেডিং এলএলসি ইউএইকে  ২৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এ টি জেড কম্যুনিকেশনস প্রাইভেট লিমিটেড সিঙ্গাপুরকে  ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ইউরোকারস হোল্ডিং প্রইাভেট লিমিটেডকে ১৪ দশমিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেয়া হয়। বাংলাদেশে ব্যাংকের জন্য সমস্যা হচ্ছে তিনটি প্রতিষ্ঠানই বিদেশ ভিত্তিক। এজন্য টাকা আদায় করা যাচ্ছে না। তবে প্রচন্ড  চাপের মুখে সবাই কিছু কিছু টাকা ফেরত দিয়েছে। রহিম আফরোজ পুরো টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে।’

কমিটির সভাপতি  বলেন, এখানে সাড়ে তিনশ কোটি টাকা,  যা আমাদের জন্য অনেক টাকা। প্রতিষ্ঠানগুলো এসব টাকা বিদেশ থেকে ফেরৎ আনার কোন উদ্যোগ  নেয়নি ।
তিনি বলেন, নিশ্চয় বাংলাদেশে এসবের সুবিধাভোগি রয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় কেউ না কেউ জড়িত। সেই বেনিফিসিয়ারিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও  সুপারিশ করা হয়েছে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top