বগুড়া সোমবার | ৮ পৌষ ১৪২১ | ২৮ সফর ১৪৩৬ হিজরি | ২২ ডিসেম্বর ২০১৪
ব্রেকিং নিউজ
আর্কাইভ
দিন :
মাস :
সাল :
এই সংখ্যার পাঠক
১৪৯২০৭
সার্চ
কিবরিয়া হত্যা মামলা হারিছ চৌধুরী আরিফুল গউসসহ ১১ জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল নতুন ১১ জনের নাম যোগ করে গতকাল রোববার হবিগঞ্জের আদালতে সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রশিদ আহমেদ মিলন তা গ্রহণ করে নতুন আসামিদের গ্রেফতারের আদেশ দেন। এই... বিস্তারিত
নির্বাচিত সংবাদ
ইতিহাস গড়ল সৌরভের কলকাতা
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) শিরোপা জয়ের লড়াই। শেষ পর্যন্ত কার হাতে ওঠে এই স্বপ্নের শিরোপা? এমন প্রশ্নই বিরাজ করছিল ফুটবলবিশ্বে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। শনিবার শচীন টেন্ডুলকারের কেরালা ব্লাস্টার্সকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতল সৌরভ গাঙ্গুলির অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতা। আইএসএলের প্রথম আসরে ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ল সৌরভের দল। মুম্বাইয়ের মাঠে ফাইনাল। কলকাতার সেরা খেলোয়াড় ফিকরু নেই স্কোয়াডে। তাতে কী? শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কলকাতা খেলেছে কলকাতার মতোই। স্বপ্নের শিরোপা ঘরে তুলতে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন কলকাতার ফুটবলাররা। কিন্তু ফাইনাল বলে কথা। কেউ কাউকে ছাড় দেওয়ার মতো দল নয়। শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল কেরালাই। কিন্তু খেলায় যতই বল দখলে থাকুন না কেন, গোলের দেখা না মিললে তা কাজে দেয় না। অপরদিকে, ফিকরুবিহীন কলকাতার আক্রমণভাগও ছিল অনেকটা নিষপ্রভ। তাই গোলশূন্যভাবে প্রথমার্ধ শেষ হয়। খেলায় কে জেতে, তখনো এটাই ফুটবল ভক্তদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। গ্যালারিতে বসা ছিলেন ভারতের দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলি। দুজনই আবার দুই ফাইনালিস্ট দলের মালিক। মাঠে যেমন ফুটবলারদের মধ্যে লড়াই চলছিল, আবার মাঠের বাইরে লড়াইটা চলছিল মালিকের ভূমিকায় থাকা দুই কিংবদন্তির মধ্যেও। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষেও গোলের মুখ দেখেনি কোনো দলই। এর মধ্যে কিছুটা আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ হলেও ম্যাচটি সবার কাছে বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। ক্যামেরার ফোকাস চলে যায় গ্যালারির দর্শকের দিকে। তাদের মুখ যেন অন্ধকারে ঠাসা। এমন বিরক্তিকর (গোলহীন) ফাইনাল কারোরই চাওয়া নয়। এদিকে দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা যাচ্ছিল সৌরভ ও শচীনের চোখে-মুখেও। কিন্তু ইনজুরি টাইমই পাল্টে দিল ম্যাচের ভাগ্য। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়াতেই চমক দেখালেন মোহাম্মেদ রফিক। আইএসএলের প্রথম আসরের ফাইনালের নায়ক বনে যান তিনি। ৯৪ মিনিটে জেকুব পান্ডের কর্নার-কিক থেকে পাওয়া বল দুর্দান্ত হেডে কেরালার জালে জড়ান তিনি (১-০)। বিরক্তিও দূর হলো। এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ইতিহাস গড়ল অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতা। ইতিহাস গড়লেন ক্রিকেট থেকে ফুটবলে মনোনিবেশ করা কলকাতার মালিক সৌরভ গাঙ্গুলিও। শিরোপা ঘরে তুলে কথা রাখলেন কলকাতার যুবরাজ।
দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী দুধের বাজার
গ্রাম বাংলার বৈচিত্র্যময় জীবনে খাদ্য তালিকায় এক সময় দুধ ছিল বাধ্যতামূলক। বাপ-দাদারা গর্বের সাথে বলতেন দুধের থালায় হাতের কব্জি না ডোবা পর্যন্ত তারা ভাত খেতেন না। শুধু ভাত দিয়ে খেতেই নয়, বাহারি স্বাদের মিষ্টান্ন খাবার তৈরিতে দেশীয় খাঁটি দুধের বিকল্প নেই। দুধ ছাড়া দই-মিষ্টি বানানোর কথা ভাবাই যায় না। এই দই মিষ্টিকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড়শ\' বছর আগে বগুড়ার শেরপুরে ঐতিহ্যবাহী দুধের বাজার গড়ে ওঠে। নিয়মিত পৌর শহরের সকাল বাজার ও রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় দুটি বিশাল দুধের বাজার বসে। এ হাট দুটিতে নিয়মিত ২০০ থেকে ২৫০ মণ দুধ কেনাবেচা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে শেরপুর পৌর শহরের ঘোষপাড়া এলাকায় ঘোষেরা দই তৈরির কাজ শুরু করে। দুধের চাহিদা মেটাতে সে সময় তারা নিজেরাই গাভী পালন করতো। দই ব্যবসাকে ঘিরে সেখানে সে সময় থেকে দুধের বাজার বসতে থাকে। এলাকার দই ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৫০ বছর আগ থেকে এখন পর্যন্ত সকাল বাজারে দুধের বাজার বসে আসছে। ১৩-১৪ বছর পূর্বে বাজার বসাকে কেন্দ্র করে জটিলতার সৃষ্টি হলে ওই দুধের বাজারটি বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে রেজিস্ট্রি এলাকায় নতুন করে আরেকটি দুধের বাজার গড়ে ওঠে। শেরপুরের দই বগুড়া জেলা তথা দেশের মধ্যে একক খ্যাতি অর্জন করায় এখানে দুধের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। এক সময় এ হাট থেকে দুধ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। সরেজমিন দুধের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে হাট দুটিতে নিয়মিতভাবে প্রচুর পরিমাণ দুধ কেনাবেচা হচ্ছে। উপজেলার খানপুরের গজারিয়া গ্রামের দুধ বিক্রেতা আবু হানিফ জানান, ১৫০ বছরের পুরনো দুধের বাজারে গড়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ মণ দুধ বিক্রি হয়ে থাকে। ভিমজানীর সোহরাব হোসেন, বোয়ালকান্দীর শহিদুজ্জামান, আব্দুল জলিল, চকখানপুরের রেজাউল বারী, দশশিকার জেল হোসেন, শালফার আবুল হোসেন জানান, তারা নিজেদের খামার ও এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে নিজেরা দুধ দোহন করে ভ্যান গাড়ি, বাইসাইকেল, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন এমন কি ভাড়ে করে পায়ে হেঁটে বাজারে দুধ নিয়ে আসেন। তারা জানান, দু\'একজন ছাড়া প্রায় সকলেই বাজার দু\'টিতে খাঁটি দুধ বিক্রি করেন। রেজিস্ট্রি হাটে ১২টা থেকে ২টা এবং সকাল বাজারে আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুধ বেচাকেনা হয়। দশশিকা পাড়ার জয়নাল আবেদীন জানান, বর্তমানে বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে দুধ বিক্রি হয়। হোটেল সুপার সাউদিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোমিন চৌধুরী জানান, শেরপুরে প্রতিদিন ৪০০ মণ দুধের চাহিদা। এ দুটি বাজার থেকে বড় জোর ২০০ মণ দুধ পাওয়া যায়। ফলে প্রতিদিন আরও ২০০ মণ দুধের ঘাটতি থাকে। আবার এখান থেকে বগুড়ার দই ব্যবসায়ীরা দুধ কিনছেন। এতে করে আমাদের পার্শ্ববর্তী ধুনট, সোনাহাটা, সোনামুখী, গোসাইবাড়ী, শাহজাদপুর থেকে দুধ কিনতে হয়। এ সকল কারণেই শেরপুরে সব সময় দুধের বাজার বাড়তি থাকে।
রিয়ালের বিশ্ব জয়
দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলা রিয়াল মাদ্রিদের সামনে বাধা হতে পারেনি সান লরেন্সো। আর্জেন্টিনার এই দলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। সের্হিও রামোস ও গ্যারেথ বেলের লক্ষ্যভেদে ২-০ গোলে জিতেছে ইউরোপের রেকর্ড ১০বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল। সেমি-ফাইনালে ক্রুস আসুলের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানের জয়েও একটি করে গোল করেছিলেন এই দুইজন। লাতিন আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটিকে হারিয়ে টানা জয়ের রেকর্ডটাকে ২২-এ নিয়ে গেল রিয়াল। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সম্পদ, সাফল্য আর শক্তির তুলনায় সান লরেন্সোর চেয়ে অনেক এগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। সঙ্গে এই ম্যাচের আগে টানা ২১ জয়ের আত্মবিশ্বাসও স্পেনের সফলতম দলটিকে প্রথমবারের মতো বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। শনিবার রাতে মরক্কোর মারাকেশ স্টেডিয়ামে প্রথম গোলের দেখা পেতে রিয়ালকে অবশ্য রীতিমত ঘাম ঝরাতে হয়। প্রথম ৩৫ মিনিটে তো তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি ইউরোপেরও সফলতম দলটি। অবশেষে ৩৭তম মিনিটে রামোসের নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় রিয়াল। জার্মানির মিডফিল্ডার টনি ক্রুসের কর্নারে হেড করে গোলটি করেন স্পেনের এই ডিফেন্ডার। বিরতির পর লরেন্সোর গোলরক্ষকের ভুলে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় রিয়াল। ৫১তম মিনিটে স্পেনের মিডফিল্ডার ইসকোর পাস পেয়ে ডি বক্সের মধ্যে থেকে শট নেন বেল। ওয়েলসের এই ফরোয়ার্ডের শট ঠেকাতে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সেবাস্তিয়ান তোরিকো। কিন্তু তার হাতের নিচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে যায়। ৭৩তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন করিম বেনজেমা। কিন্তু ফরাসি এই স্ট্রাইকার শটটা লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। বাকি সময়ে ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও কোনো অঘটনও ঘটতে দেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ।
নোয়াশাল এবং তারা পাঁচজন
স্যাটেলাইট চ্যানেল আরটিভিতে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সপ্তাহের প্রতি সোম, মঙ্গল ও বুধবার রাত ৯.০৫ মিনিটে প্রচার হচ্ছে অভিনেতা মীর সাবি্বর পরিচালিত নতুন ধারাবাহিক নাটক \'নোয়াশাল\'। নোয়াখাল এবং বরিশাল এই দুই অঞ্চলের ভাষাভাষীদের নিয়েই মূলত \'নোয়াশাল\' নাটকের কাহিনী আবর্তিত। নাটকটি রচনা করেছেন আকাশ রঞ্জন। প্রচারের দিন থেকেই নাটকটি দেশে এবং দেশের বাইরে দর্শকের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। বিগত ১১ মাসে দেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে মীর সাবি্বর পরিচালিত \'নোয়াশাল\' নাটকটি বেশ আলোচনায় ছিলো এবং আছে। ধারাবাহিক এই নাটকটিতে নোয়াখালী পরিবারের প্রধান কর্তা শাহাবুদ্দিন চরিত্রে অভিনয় করছেন জীবন্ত কিংবদন্তী অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। তার ছোট ভাই আলাউদ্দিন চরিত্রে অভিনয় করছেন আজিজুল হাকিম। যথাক্রমে দু\'জনের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রলেখা গুহ ও তাজিন আহমেদ। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, \'এইতো সেদিন একটি মেডিসিন কর্ণারে ঔষুধ কিনতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি র‌্যাবের কয়েকজন সদস্য সেখানে ঢুকছে। আমাকে দেখামাত্রই তারা হাসিমুখে কথা বলে \'নোয়াশাল\' নাটকে আমার অভিনয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তাই শুধু গ্রামের দর্শকই নয়, এদেশের সচেতন নাগরিকরাও নোয়াশাল উপভোগ করছেন।\' চিতলেখা গুহ বলেন, \'যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই নোয়াশাল\'র কারণে অনেক রেসপন্স পাচ্ছি। আমার কাছে এটাই অনেক আনন্দের।\' আজিজুল হাকিম বলেন, \'বহু বছর পর নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় নাটক করছি, এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। আমার জন্য খুব উপভোগ্য একটি চরিত্র সাবি্বর তৈরী করেছে। একজন নির্দেশক হিসেবে সাবি্বর বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিচ্ছে। সবর্োপরি সাবি্বর খুব ঠান্ডা মাথার একজন পরিচালক।\' তাজিন আহমেদ বলেন, \'অনেকদিন পর সাবি্বরই অভিনয়ে আমাকে স্ব-সম্মানে ফিরিয়ে এনেছে। এজন্য তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এ নাটকে আমার খুব কাছের মানুষদের সঙ্গেই কাজ করছি যে কারণে মনে হচ্ছে এটা আমার আরেকটা বাসা। সাবি্বর নিজে একজন শিল্পী বলে একজন শিল্পীকে কি কি সুবিধা দেয়া জরুরী তা সে ভালো জানে এবং সে অনুযায়ী আমরা সুবিধা পাচ্ছিও।\' মীর সাবি্বর জানান আজ সোমবার নাটকটির ১২৩ তম পর্ব প্রচার হবে। মীর সাবি্বর তার নাটকের প্রত্যেক শিল্পীর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ যে তাকে তার প্রয়োজনানুযায়ী সুবিধামতো সময়ে সবাই সিডিউল দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন নাটকটি নির্মাণের শুরু থেকেই।
কিবরিয়া হত্যা মামলা হারিছ চৌধুরী আরিফুল গউসসহ ১১ জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল নতুন ১১ জনের নাম যোগ করে গতকাল রোববার হবিগঞ্জের আদালতে সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রশিদ আহমেদ মিলন তা গ্রহণ করে নতুন আসামিদের গ্রেফতারের আদেশ দেন। এই ১১ জন হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের মেয়র গোলাম কিবরিয়া গউস, হাফেজ মো. ইয়াহিয়া, মওলানা শেখ আবদুস সালাম, আবদুল জলিল, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান ও দেলোয়ার হোসেন রিপন। তাদের গ্রেফতারের বিষয়ে আগামী ৮ জানুয়ারি পুলিশকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। নতুন আসামিদের নিয়ে এ মামলায় আসামির সংখ্যা ৩৫ জনে দাঁড়াল বলে মামলার বাদী ও হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ আব্দুল মজিদ খান জানান। এদিকে বিচারকের আদেশের পরপরই আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা সংঘর্ষে জড়ান। প্রায় আধা ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হন। পরে বাড়তি পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে সদর থানার ওসি নাজিমউদ্দিন জানান। তৃতীয় দফায় তদন্ত শেষে মেহেরুন্নেছা পারুল গত ১৩ নভেম্বর এই ৩৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন। কিন্তু কয়েকজন আসামির নাম-ঠিকানা ভুল থাকায় আদালত গত ৩ ডিসেম্বর তাকে নতুন করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেয়। এর আগে দুইবার দেয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের নামও এসেছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। ঢাকা নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ওই হামলায় আরও নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী। হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান ওই রাতেই হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। প্রথমে সিআইডির এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২০ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই অভিযোগপত্রে জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল কাইউম ও ব্যাংক কর্মকর্তা আয়াত আলী, কাজল মিয়া, সাবেক জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক সেলিম আহমেদ, জিয়া স্মৃতি গবেষণা পরিষদ জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহেদ আলী, বিএনপি কর্মী তাজুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন জালাল, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জমির আলী, জয়নাল আবেদীন মোমিন ও মহিবুর রহমানকে আসামি করা হয়। এরপর মামলার বাদী আবদুল মজিদ খান ২০০৬ সালের ৩ মে সিলেট দ্রুত বিচার আদালতে নারাজি আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে। এরপর ১৪ মে তিনি হাই কোর্টে আপিল করেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্ট \'কেন অধিকতর তদন্ত করা যাবে না\' মর্মে রুল জারি করে। এই রুলের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ১৮ মে লিভ টু আপিল করে সরকার। আপিল বিভাগ সরকারের আপিল খারিজ করে। এরপর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলার অধিকতর তদন্ত শুরু হয়, যার দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামকে। তিনি ২০১১ সালের ২০ জুন আরও ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আগের আসামিদেরও এতে রাখা হয়। এ অভিযোগপত্রে নতুন যোগ হয় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, লস্করই তৈয়বার সদস্য আব্দুল মজিদ কাশ্মিরি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, মহিউদ্দিন অভি, শাহেদুল আলম দিলু, সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ, ফজলূল আলম মিজান, মিজানুর রহমান মিঠু, মোহাম্মদ আব্দুল হাই, মোহাম্মদ আলী, মুফতি সফিকুর রহমান, বদরুল এনায়েত ওরফে মো. বদরুল, বদরুল আলম মিজানের নাম। কিন্তু এরপর আবার ২০১১ সালের ২৮ জুন কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া অভিযোগপত্রে হবিগঞ্জের বিচারিক আদালতে নারাজি আবেদন করেন। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন গ্রহণ করেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক। এরপর তৃতীয়বারের মতো অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির এএসপি মেহেরুন নেছা।
আন্দোলনে তাসের ঘরের মত ভেসে যাবে সরকার
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এবার সরকার পতনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অচিরেই আন্দোলন শুরু করতে হবে। এটি হবে জনগণের আন্দোলন। সেই আন্দোলনে স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকার তাসের ঘরেরর মতো ভেসে যাবে, ইনশাল্লাহ। বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার মুক্তিযোদ্ধা দলের এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার আমাদের কোনো আহ্বানেই সাড়া দিচ্ছে না। তাই আমাদের বসে থাকার আর কোনো উপায় নেই। দেশের জনগণ আন্দোলন চায়, পরিবর্তন চায়। আমি যেখানেই যাচ্ছি, দলে দলে লোক এসে আন্দোলনের দাবি জানাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা দলের ডিসেম্বর মাসজুড়ে কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই সমাবেশ হয়, যাতে প্রধান অতিথি ছিলেন খালেদা জিয়া। সারাদেশ থেকে এই সমাবেশে আসা সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধার মাথায় ছিল লাল-সবুজ ক্যাপ ও হাতে জাতীয় পতাকা। জিয়াউর রহমানের নামে স্লোগান ছিল তাদের কণ্ঠে। সমাবেশে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন, খুরশীদ আলম, জিয়াউল হক বাবু, মতিউর রহমান মতি, মো. শাহজাহান, আবু ইউসুফ হাওলাদার, আবদুর আজিজ মিয়া, মো. রমজান আলী, আবুল কালাম ও মোহন মিয়াকে আর্থিক সহায়তা করেন তিনি। বিকালে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আগে দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় পতাকা তোলার মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, একাত্তরের জিয়াউর রহমানই চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগারদের বলব, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে মিথ্যাচার করে কোনো লাভ হবে না। তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে কল্যাণ পাটির্র চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়। গত ৫ বছর যাবত উনি (প্রধানমন্ত্রী) এভাবেই কটূক্তি করে যাচ্ছেন, ইট মেরে যাচ্ছেন। আমার মনে হল, এত বছর পর সুদুর লন্ডন থেকে তারেক রহমান একটা মাত্র পাটকেল দিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। তারা যদি বিশ্বাস করত, তাহলে গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করত না। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা বলতে শুরু করেছে, বিএনপিকে রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না। এটা কি আওয়ামী লীগের তালুকদারি? আমরা কেউ ভেসে আসিনি। আপনারা (সরকার) গুলি করবেন, সমাবেশ-মিছিল করতে দেবেন না, দেশনেত্রীকে গালিগালাজ করবেন। এটা আর সহ্য করা হবে না। ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, "শেখ মুজিবর রহমান একাত্তরের মার্চে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আপসরফা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য করতে চেয়েছিলেন। সেজন্যই তারেক রহমান পাকবন্ধুর কথা বলেছেন। মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, শমসের মবিন চৌধুরী বীরবিক্রম, শাহজাহান ওমর বীরউত্তম। বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, ফজলুর রহমান, শাহ মো. আবু জাফর, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, কাজী আজিজুল হক লেবু কাজী, আবুল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক এসএম শফিউজ্জামান খোকন।
ঠাকুরগাঁওয়ে সরিষার বাম্পার ফলন মাঠে হলুদ ফুলের সমারোহ
উত্তরের শস্য ভান্ডার ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও এবার এ অঞ্চলে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। সরিষা ক্ষেত থেকে মধু আহরণে অনেকটা বাড়তি আয়ের পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধির সহায়তা পাচ্ছে কৃষক। ঠাকুরগাঁওয়ের পথে-ঘাটে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ আর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ রঙে\'র সমারোহ। দৃষ্টি নন্দিত এ দৃশ্যে যেন জুড়িয়ে যায় প্রাণ। মননে ধারণ করে আছে সরিষা ফুলের গন্ধে ভরা সুঘ্রাণ। গত বছর আশানুরূপ ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এবার জেলায় ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে সরিষার চায়। ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার প্রায় ৪ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু আবাদ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও এবার এ অঞ্চলে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করছে কৃষক। অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষে কৃষকে পরামর্শ প্রদান ও সহায়তা করে আসছে কৃষি বিভাগ। সরিষা ক্ষেত থেকে অনেকে মধু আহরণ করছেন। মধু আহরণে অনেকটা বাড়তি আয়ের পাশাপাশি সরিষার ফলন বৃদ্ধির সহায়তা পাচ্ছে কৃষক। চিলারং এলাকার সরিষা চাষি আবুল কাশেম জানান, বিঘা প্রতি ৬ মণ সরিষা উৎপাদন হলেও সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে তারা ভালোই লাভবান হবেন। অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষ বেশ লাভজনক। বাড়তি ফসল হিসেবে এ অঞ্চলে সরিষা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সরিষা চাষ করে অনেক কৃষকের ঘুরেছে ভাগ্যের চাকা। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং সরিষার ভালো মূল্য পেলে এ অঞ্চলে সরিষা চাষের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদরা। ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ভূপেস কুমার মন্ডল বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ২শ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ বেশি হয়েছে। তবে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। তারপরও সার্বিক আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
 
 
 
 
 
ভিডিও
রাশিচক্র আজ ঢাকায় আজ বগুড়ায়
 
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থিরা আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দেবে বলে মনে করেন কি?
হ্যাঁ
উত্তর নেই
না
 
 
 
আজকের ভিউ
নামাজের সময়সূচী
ওয়াক্ত
সময়
ফজর
03:50
জোহর
12:7
আছর
04:42
মাগরিব
06:54
এশা
08:20
 
 

সম্পাদকঃ মোজাম্মেল হক, সম্পাদক কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, শিল্পনগরী বিসিক বগুড়া এবং ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, (আরামবাগ) ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও চকযাদু রোড, বগুড়া হতে প্রকাশিত।
ফোন ৬৩৬৬০,৬৫০৮০, সার্কুলেশন বিভাগঃ ০১৭১৩২২৮৪৬৬, বিজ্ঞাপন বিভাগঃ ৬৩৩৯০, ফ্যাক্সঃ ৬০৪২২। ঢাকা অফিসঃ স্বজন টাওয়ার, ৪ সেগুন বাগিচা। ফোনঃ ৭১৬১৪০৬, ৯৫৬০৬৬৯, ৯৫৬৮৮৪৬, ফ্যাক্সঃ ৯৫৬৮৫২২ E-mail : dkaratoa@yahoo.com . . . .

Powered By: