বগুড়া শনিবার | ২৩ ফাল্গুন ১৪২১ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল | ১৪৩৬ হিজরি | ৭ মার্চ ২০১৫
ব্রেকিং নিউজ
আর্কাইভ
দিন :
মাস :
সাল :
এই সংখ্যার পাঠক
৩৪১৪
সার্চ
দায় স্বীকার, মুচলেকায় মুক্তি
২৭ কেজি সোনাসহ কোরীয় কূটনীতিক আটক : তোলপাড়
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস :
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকাস্থ উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি সন ইয়াম- এর হ্যান্ডব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা মূল্যের ২৭ কেজি স্বর্ণ পেয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) যৌথ দল। বাংলাদেশে এই প্রথম স্বর্ণ চোরাচালানে কোন বিদেশী কূটনীতিকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেল। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে... বিস্তারিত
নির্বাচিত সংবাদ
দেশ ও জনগণ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ভিপি সাইফুল
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, দেশ ও জনগণ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তাই দেশকে রক্ষা করতে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোকোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফেরাত কামনায় গতকাল শুক্রবার বগুড়া গাবতলীর বাগবাড়ী জিয়াবাড়ীতে জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের আয়োজনে এবং পরিবারের ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাইন ও যুবদল নেতা বজলুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, জেলা ইসলামী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ছামছুল হক, নশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দিন পাইকার, নশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার গামা, অধ্যক্ষ আ. রহিম এবং জিয়া পরিবারের পক্ষে আহসালুন কবীর তালুকদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এড. রাফি পান্না, ডা. মামুনুর রশিদ মিঠু, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল আলম মামুন, নাজমুল হুদা পবন, জেলা ড্যাবের নেতা আফসারুল হাবীব রোজ, ডা. ফারুক আহম্মেদ, রেজাউল করিম রেজা শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদল, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী লাভলী রহমান, জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার রোকন তালুকদার, খায়রুল বাসার, এড. আ. বাছেদ, জিয়া পরিবারের রোকেয়া তালুকদার, আমীর খসরু, রত্ন তালুকদার, খালেক, বাটুল, আমিনুর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুরাইয়া জেরিন রনি প্রমুখ। শেষে বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
২৭ কেজি সোনাসহ কোরীয় কূটনীতিক আটক : তোলপাড়
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকাস্থ উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি সন ইয়াম- এর হ্যান্ডব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা মূল্যের ২৭ কেজি স্বর্ণ পেয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) যৌথ দল। বাংলাদেশে এই প্রথম স্বর্ণ চোরাচালানে কোন বিদেশী কূটনীতিকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেল। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় নেমে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গ্রীন চ্যানেল পার হওয়ার সময় আটক হন উত্তর কোরিয়ার এই কূটনীতিক। তবে সোনার চালান আনার কথা স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে আটকের ১৪ ঘন্টা পর ওই কূটনীতিককে ছাড়িয়ে নেন ঢাকাস্থ উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা। এদিকে স্বর্ণ পেয়েও ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হলো না- এমন প্রশ্নের জবাবে কাস্টমস জানায়, \'কোন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেফতারের আইনানুগ ক্ষমতা কাস্টমসের নেই। তাই বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।\' এছাড়া একজন বিদেশী কূটনীতিকের কাছে স্বর্ণের চালান পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দর কাস্টমস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দফায় দফায় বৈঠক করেন। অন্যদিকে সন ইয়ামকে দেশে ফিরিয়ে নিতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কোরীয় দূতাবাস। তবে সোনা চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত কূটনীতিকের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কি ঘটে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না বলে জানালেন একাধিক কর্মকর্তা। এছাড়া ওই কূটনীতিক কেন সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন- তা নিয়েও রহস্যের অন্ত নেই। তিনি দাপ্তরিক কাজে সিঙ্গাপুর যাওয়ার দাবি করলেও স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে দাবি বাংলাদেশ শুল্ক কর্তৃপক্ষের। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা দিয়ে সন ইয়ামকে বাংলাদেশেস্থ উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন জানিয়ে বিমানবন্দর কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, \'কোরীয় দূতাবাসের এক কর্মকর্তা তাদের কাছে লিখিতভাবে সন ইয়ামের সোনা আনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।\' ঘটনাটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে উল্লেখ করে ওই কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, বিদেশী একজন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা করার আইনগত কোনো ক্ষমতা শুল্ক কর্তৃপক্ষের নেই। ভিয়েনা কনভেনশনের শর্ত অনুযায়ী তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।\' এদিকে এপিবিএন\'র সহকারী পুলিশ সুপার তানজিনা আকতার জানান, জব্দকৃত স্বর্ণের মধ্যে প্রতিটি ১শ গ্রাম ওজনের ১৭০টি সোনার বার ছিল। যার ওজন ১৯ কেজি। বাকি আট কেজি স্বর্ণের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সোনার গয়না রয়েছে। বিমানবন্দর কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার কাজী মোঃ জিয়াউদ্দিন জানান, ওই কূটনীতিকের হাতব্যাগে ওই স্বর্ণ পাওয়া যায়। এর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা। ধরা পড়ার সময় তুমুল তর্ক : গ্রীন চ্যানেল পার হওয়ার সময় ওই কূটনীতিক হ্যান্ড ব্যাগ স্ক্যানে বাধা দেয়ায় সন্দেহ বেড়ে গেলে কাস্টমস কর্মকর্তারা তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় তিনি নিজের পরিচয় না দিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং বলেন, এটি কূটনৈতিক লাগেজ, তাই স্ক্যান করা যাবে না। একপর্যায়ে তিনি দ্রুত গ্রীন চ্যানেল পার হয়ে আসেন। পরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাকে আটক করে এপিবিএন অফিসে নিয়ে যান। এ সময় তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকা বাংলাদেশে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার হাইকমিশনার মুন সং হো, ফার্স্ট সেক্রেটারি কো চো মিন, থার্ড সেক্রেটারি রি চোল সান, ডেপুটি চিফ অব মিশন কেং কিং এপিবিএন অফিসে যান। কিন্তু তারা নিজেদের পরিচয় না দিয়ে ইায়ামকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাস্টমস কর্মকতাদের বারবার চাপ দিতে থাকেন। এ সময় তারা একটি কূটনৈতিক পেপারস দেখিয়ে সেটি স্ক্যান না করার জন্য বলতে থাকেন। খবর পেয়ে এপিবিএন\'র কমান্ডিং অফিসার (সিও) রাশেদুল হাসান, কাস্টমস কমিশনার হোসেন আহমেদ, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে ছুটে আসেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে এই অবস্থা চলতে চলতে প্রায় মধ্যরাত হয়ে যায়। একপর্যায়ে এপিবিএন কর্মকর্তারা ওই পাঁচ কূটনীতিককে লাগেজ রেখে চলে যেতে বলেন। এতেও তারা রাজি হননি। ১ থেকে ২০ গোনা : এদিকে ওই ৫ জন যেতে রাজি না হলে কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেন, ১ থেকে ২০ পর্যন্ত গণনা হবে এবং এই সময়ের মধ্যে যদি তিনি লাগেজ স্ক্যান করতে না দেন, তাহলে বল প্রয়োগ করা হবে। অন্যদিকে গণনা চলাকালে কাউন্টডাউনের ৮ এ এলে সং ইয়ং ন্যাম লাগেজটি হাত থেকে ফ্লোরে রেখে দেন। এরপর এপিবিএন সদস্যরা কৌশলে লাগেজটি স্ক্যান করতে নিয়ে যান। লাগেজটি স্ক্যানে দেয়া মাত্রই স্বর্ণের অস্তিত্ব মেলে। এরপর সেটি খুলে ২৭ কেজি স্বর্ণ পাওয়া যায়। স্বর্ণ পাওয়ার পর ওই পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে কাস্টমস হলে নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা নিজেদের উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিক বলে পরিচয় দেন। দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘণ্টা পর কূটনীতিকরা নিজেদের পরিচয় দেয়ায় উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে না পেরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খবর দেন। এমন খবর শুনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও ছুটে আসেন। পরে তারা নিশ্চিত করেন, স্বর্ণ বহনকারীসহ ওই পাঁচজনই উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিক। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কর্মকর্তা, কাস্টমসের কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ধরে দফায় দফায় বৈঠক করার পর ভিয়েনা কনভেনশনের আইন অনুযায়ী স্বর্ণগুলো জব্দ করে ওই পাঁচ কূটনীতিককে ছেড়ে দেন। উদ্বেগ : শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উত্তর কোরিয়ার এক কূটনীতিকের লাগেজ থেকে ২৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন কাস্টমস কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরে কোনো কূটনীতিকের লাগেজ থেকে স্বর্ণ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। এদিকে স্বর্ণ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্য ও ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে বিমানবন্দর কাস্টমস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দফায় দফায় বৈঠক করেন। শুক্রবার দুপুরে স্বর্ণগুলো জব্দ করে সন ইয়ামসহ তাকে রিসিভ করতে আসা অপর চার কূটনীতিককে ছেড়ে দেয়া হয়।
কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত
স্পোর্টস রিপোর্টার : বোলারদের দাপটে টানা চতুর্থ জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পেঁৗছে গেছে শিরোপাধারী ভারত। ছোট সংগ্রহ নিয়েও দারুণ লড়াই করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ভারতীয় অধিনায়ক ধোনীর দৃঢ়তার কাছে হার মানে ক্যারিবীয়রা। তারা ৪ উইকেটের পরাস্ত হয়। ৮৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেনে তুলতে প্রাণপণ লড়েন অধিনায়ক জ্যাসন হোল্ডার। তাতে খুব একটা কাজ হয়নি মোহাম্মদ সামিদের দারুণ বোলিয়ে ৪৪.২ ওভারে ১৮২ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে এক সময় চাপে পড়েছিল ভারত। তবে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনীর দৃঢ়তা ভরা ব্যাটিংয়ে ৩৯ ওভার ১ বলে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পেঁৗছে যায় ভারত। গতকাল শুক্রবার পার্থের ওয়াকায় ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ভারত। জেরোম টেইলরের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা। ২০ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানো ভারত প্রতিরোধ গড়ে বিরাট কোহলি ও অজিঙ্কা রাহানের ব্যাটে। ৪৩ রানের জুটি ভেঙে কোহলির বিদায়ে আবার অস্বস্তিতে পড়ে শিরোপাধারীরা। উইকেটে থিতু হয়ে রাহানে, সুরেশ রায়না ও রবিন্দ্র জাদেজার বিদায়ে বিপদ আরো বাড়ে ভারতের। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে জাদেজা ফিরে যাওয়ার সময় ভারতের প্রয়োজন ছিল আরো ৪৯ রান। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে নিয়ে বাকি কাজটুকু সহজেই সারেন ধোনি। অধিনায়কের সঙ্গে ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেট জুটিতে অশ্বিনের অবদান ১৬ রান। চার হাকিয়ে দলকে জয় এনে দেয়া ধোনি অপরাজিত থাকেন ৪৫ রানে। এর আগে বি\' গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। চোট কাটিয়ে ফেরা সামির দারুণ বোলিংয়ে ৩৫ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডোয়াইন স্মিথ ও ক্রিস গেইলকে ফেরান ম্যাচ সেরা সামি। দুই বার জীবন পাওয়া গেইলের ভুলেই রান আউট হয়ে যান মারলন স্যামুয়েলস। ৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার সামি হাঁটুর চোটের কারণে খেলেননি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই আউট হয়ে যান দিনেশ রামদিন। মোহিত শর্মার বলে বোল্ড হন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এরপরেও। ৫০ রান যোগ করতে আরো তিন উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই অঙ্কেই পৌঁছাতে পারেননি লেন্ডল সিমন্স ও আন্দ্রে রাসেল। উইকেটে থিতু হয়ে ফিরেন জোনাথন কার্টার। ৮৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুইশ\' রানের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব ৮৫ রানে ৭ উইকেট হারানো দলকে দুইশ\' রানের কাছাকাছি পৌঁছায় হোল্ডারের দৃঢ়তায়। অষ্টম উইকেটে ড্যারেন স্যামির সঙ্গে ৩৯ ও নবম উইকেটে টেইলরের সঙ্গে ৫১ রানের দুটি জুটি উপহার দেন হোল্ডার। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন হোল্ডার। তার ৬৪ বলের ইনিংসটি ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা সমৃদ্ধ। সংক্ষিপ্ত স্কোর ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৪৪.২ ওভারে ১৮২ (স্মিথ ৬, গেইল ২১, স্যামুয়েলস ২, কার্টার ২১, রামদিন ০, সিমন্স ৯, স্যামি ২১, রাসেল ৮, হোল্ডার ৫৭, টেইলর ১১, রোচ ০*; সামি ৩/৩৫, জাদেজা ২/২৭, উমেশ ২/৪২, মোহিত ১/৩৫, অশ্বিন ১/৩৮) ভারত : ৩৯.১ ওভারে ১৮৫/৬ (রোহিত ৭, ধাওয়ান ৯, কোহলি ৩৩, রাহানে ১৪, রাহানে ২২, ধোনি ৪৫*, জাদেজা ১৩, অশ্বিন ১৬*, টেইলর ২/৩৩, রাসেল ২/৪৩, স্মিথ ১/২২, রোচ ১/৪৪)। ম্যাচ সেরা: মোহাম্মদ সামি।
বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের অপেক্ষায়...
করতোয়া ডেস্ক : \'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।\' আজ ৭ মার্চ, সেই অগি্নঝরা ভাষনের দিন। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে গর্জে উঠেছিলেন বাঙালির অবিংসবাদিত নেতা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন সাগরের উত্তালের মত জনসমুদ্রে তেজদৃপ্ত কন্ঠে বাঙালির স্বাধীনতা ঘোষনা করেছিলেন তিনি। সেদিনের \'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম\' এ দৃপ্ত উচ্চারণে পাকিস্তানের দুঃশাসন আর গণতান্ত্রিক ন্যায্য অধিকার হরণের প্রহসন থেকে বাঙালির মুক্তির মূলমন্ত্র ঘোষণাও করেছিলেন বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক সেই ভাষণে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় ঘটনা। তার এ ভাষণই সংশয়ে থাকা বাঙালির চোখে জ্বালিয়ে দিয়েছিল বাতিঘরের মতো গন্তব্যে পেঁৗছার আলোকবর্তিকা। পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতার জন্য এমন একটি মাহেন্দ্রক্ষণের জন্যই যেন অধীর অপেক্ষায় ছিল বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ। ৭ মার্চ তাই বাঙালির ইতিহাসে অনন্য সাধারণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। মূলত বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের আহ্বানেই জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে ২৫ মার্চের কালরাতে পাকবাহিনীর নৃশংস গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা দালিলিকভাবে ঘোষণা করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামের এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের। ১৯৭০-এর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকচক্র মেনে নিতে পারেনি। তাই বঙ্গবন্ধুর কাছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর না করে চক্রান্ত শুরু করে। এর বিরুদ্ধেই শুরু হয় শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন। সে আন্দোলনের পথ ধরে এলো ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ৭ মার্চের উত্তাল দিনটিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা ছিল মিছিলের শহর। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ হেঁটে, বাস-লঞ্চে কিংবা ট্রেনে চেপে রেসকোর্স ময়দানে সমবেত হয়েছিলেন। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল বিশাল ময়দান। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে আসা মানুষের ভিড়ে সেদিন রেসকোর্স ময়দান রূপ নিয়েছিল জনসমুদ্রে। মুহুর্মুহু গর্জনে ফেটে পড়েছিলেন উত্থিত বাঁশের লাঠি হাতে সমবেত লাখ লাখ বিক্ষুব্ধ মানুষ। বাতাসে উড়ছিল বাংলার মানচিত্র আঁকা লাল সূযের্র অসংখ্য পতাকা। লাখো কণ্ঠের গগনবিদারী-সস্নোগানে কেঁপে উঠছিল গোটা নগরী। সেদিন বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি আর কালো রঙের কোট পরে বাঙালির প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু দৃপ্তপায়ে উঠে এলেন মঞ্চে। দাঁড়ালেন মাইকের সামনে। প্রান্তর কাঁপানো সস্নোগান আর মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানালেন অপেক্ষমাণ জনসমুদ্রের উদ্দেশে। তারপর শুরু করলেন তার ঐতিহাসিক ভাষণ। কবিতার পঙক্তির উচ্চারণের মতো জলদগম্ভীর উচ্চারণে তিনি বলে চললেন-\'...আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং রাস্তাঘাট যা যা আছে, সবকিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।\' সময় তখন বিকেল গড়িয়ে দ্রুত দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে। রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্র তখন উত্তাল। যেন আরও কিছু শুনতে চায় তারা। তারপর বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করলেন তার সেই অনন্য ঘোষণার মতো বক্তব্য \'তামাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব- এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআলাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।\' মাত্র আঠার মিনিটের এ ভাষণের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে তুলে আনেন অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায়। এতে সামরিক আইন প্রত্যাহার, সৈন্যবাহিনীর ব্যারাকে প্রত্যাবর্তন, শহীদদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরসহ চার দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি। এ জনসভায় মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। রেসকোর্স ময়দান থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সরাসরি প্রচারের সব আয়োজন ছিল ঢাকা বেতার কর্তৃপক্ষের। প্রচার শুরুও হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় সামরিক শাসক কর্তৃপক্ষ প্রচার বন্ধ করে দিলে বেতারের সব বাঙালি কর্মচারী বেতার ভবন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের সমপ্রচার কার্যক্রম। ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে নানা গুজব। গভীর রাতে অবশ্য সামরিক কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর পূর্ণ ভাষণ সমপ্রচারের অনুমতি দিতে বাধ্য হয় এবং পরদিন সকালে তা প্রচার করা হয়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আগের দিনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বেতার ভাষণের প্রতিবাদে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু একটি বিবৃতিও দেন। এ রাতেই বিবৃতিতে ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য দশ দফা দাবি পেশ করেন তিনি। ৭ মার্চ সকালে পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ফারল্যান্ড বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরের বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। স্বল্পসময়ের এ বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পরিষ্কার ভাষায় ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের কথা বঙ্গবন্ধুকে জানান। তিনি বলেন, পূর্ব বাংলায় স্বঘোষিত স্বাধীনতা হলে যুক্তরাষ্ট্র তা সমর্থন করবে না। বিকেল পৌনে ৪টায় পূর্ব বাংলার নতুন গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ঢাকায় এসে পেঁৗছান। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে দিনটিকে বাঙালির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন তারা। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আজ দিনব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। বিকাল ৩ টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্য রাখবেন, জাতীয় নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গতকাল এক বিবৃতিতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ গৃহীত কর্মসূচি দেশবাসীর সাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সংগঠনের সকল শাখাসহ আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী, সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিজিতের সেই পথ ধরে হেঁটে হেঁটে ছবি তুলল এফবিআই
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : লেখক ও বস্নগার অভিজিৎ রায় হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে ঢাকায় আসা মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) চার সদস্যের প্রতিনিধিদল। গতকাল শুক্রবার দুপুরে অভিজিৎ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি কৃষ্ণপদ রায় এবং কয়েকজন ডিবি সদস্যসহ ঘটনাস্থল শহীদ মিলন চত্ত্বরের উল্টা দিকের ফুটপাত ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে এফবিআই\'র ওই দলটি। ঘটনার দিন অভিজিৎ যে পথ ধরে মেলায় এসেছিলেন এবং যে পথ দিয়ে মেলা থেকে ফিরেছিলেন এসে আবার ফিরে যাচ্ছিলেন - সেই পথ ধরেই হেঁটে হেঁটে অসংখ্য ছবি তোলেন এফবিআই সদস্যরা। পরিদর্শন শেষে ডিবি পুলিশ জানায়, \'হত্যার মোটিভ উদ্ধারে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে এফবিআই\'র সদস্যরা ঢাকায় এসেছেন। তদন্কারীদের সহায়তা করতে তারা বিভিন্ন পুটেজ ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ডিবির কাছে যেসব তথ্য তারা চেয়েছেন- তা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তদন্ত সহায়তায় হত্যা রহস্য উদঘাটিত হতে পারে।\' অভিজিৎ রায়কে ফেসবুক ও বস্নগে যারা হুমকি দিয়েছিলেন, তাদের খুঁজে বের করার জন্য প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা দিতে মার্কিন তদন্ত সংস্থার ওই দলটি গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এসেছে বলে জানান ডিবি কর্মকর্তারা। এরপর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকও করেন তারা। পরে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন যে পয়েন্টে অভিজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, সে স্থানটির সঙ্গে এর আশপাশের এলাকাও এফবিআই সদস্যরা পরিদর্শন করেন। এছাড়া একুশে গ্রন্থমেলা চলার সময় অভিজিৎ? খুন হওয়ায় এফবিআইয়ের পওতিনিধি দলটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণও পরিদর্শন করে। তারা ওই এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের ছবি তুলে নিয়ে গেছেন। তাদের সঙ্গে থাকা ডিবি পুলিশের দলটি এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদলটিকে অভিজিৎ রায় হত্যাস্থলসহ আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্ট দেখিয়ে দেয়। অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে ফেরার পথে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে দুর্বৃত্তরা অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় তার স্ত্রী নাফিজা আহমেদকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় অভিজিতের স্ত্রীও আহত হন। তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। অভিজিত ও তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এদিকে এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা অজয় রায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। পরে র‌্যাব চিহ্নিত জঙ্গি সদ্য জামিন পাওয়া ফারাবিকে সন্দেহভাজন হিসাবে এ মামলায় গ্রেফতার করে। ফারাবি ডিবি কার্যালয়ে ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। এদিকে এফবিআই\'র প্রতিনিধিদল অভিজিত হত্যাস্থল পরিদর্শন করবে- এমন খবরে গতকাল সকাল থেকেই টিএসসি এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। পরে দুপুর একটা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ের কাছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ফুটপাতে হত্যাস্থলে পেঁৗছান যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সংস্থার চার সদস্য। এফবিআই সদস্যরা ওই স্থানের ছবি তোলেন এবং পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর তারা যান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার স্থানে। সেখান থেকে যান বাংলা একাডেমীর ভিতরে। বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখার পর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পাশের পরমাণু শক্তি কমিশনের ফটকের সামনে ফুটপাতে আসেন তারা। এরপর রাস্তা পেরিয়ে আবার সোহরাওয়ার্দী সংলগ্ন ফুটপাতে ওঠেন এবং প্রথমবার ঘটনাস্থল দেখার প্রায় এক ঘণ্টা পর আবার সেখানে ফেরেন। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে টিএসসি এলাকা ত্যাগের আগে ওই প্রতিনিধি দলের সাথে থাকা ডিবি পুলিশের ডিসি কৃষ্ণপদ রায় জানান, \'আমাদের সহযোগিতা করার জন্য এফবিআই সদস্যরা বাংলাদেশে এসেছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছেন, বইমেলার এলাকাও ঘুরে দেখেছেন। এর ভিত্তিতে তদন্তের কোনো অগ্রগতি হলে আমরা জানাব।\'
রাজধানীতে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস: রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মসলা ছাড়া প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, অবরোধ-হরতালে দূরপাল্লার গাড়ি যথাযথ ভাবে চলাচল করতে না পাড়ায় ঢাকায় পণ্য আসার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না পাইকারীরা। হরতাল-অবরোধে পণ্যবাহী ট্রাক রাজধানীতে আসলেও ভাড়া গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ-তিনগুণ। ফলে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি বন্ধ না হলে সামনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরো বাড়তে পারে বলে জানান বিক্রেতারা। এ ছাড়া পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে বলে জানান তারা। সব দিক দিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে বিক্রেতারা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গাজর, বেগুন ছাড়া বেড়েছে সবকটি সবজির দাম। এর মধ্যে ফুলকপি-বাধাকপি দুই মাস আগে প্রতিটি ১০ টাকা থাকলেও আজ বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি ২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা, করলা কেজি প্রতি ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা হয়েছে। আলু, টমেটো, মূলা, ধনে পাতা, সীম, লতি, পেঁপেতে কেজি প্রতি বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা করে। শশা দুই মাস আগে ছিল কেজি প্রতি ২৫ টাকা করে। অবরোধের কারণে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। এ ছাড়া বেড়েছে মাছ-মাংসের দামও। গরুর মাংস বেড়েছে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। খাসির মাংস ৫০ থেকে ১০০ টাকা। তবে স্বাভাবিক আছে লেয়ার, ব্রয়লার মুরগির দাম। যেখানে হরতাল-অবরোধের আগে রুই মাছ আকার অনুযায়ী ১৬০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা কেজি। শিং মাছ ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০০ টাকা। শৈল, কই, চিংড়ি, পাঙ্গাস, বোয়াল মাছ ৫০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি প্রতি বেড়েছে। তবে পেঁয়াজ বাদে আদা, রসুন, হলুদসহ স্বাভাবিক আছে সব ধরনের মসলার দামই। এ ছাড়াও স্বাভাবিক আছে চাল, তেল, ময়দার দাম। তবে ডালে বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এদিকে শান্তিনগর বাজারে আসা মোসলেম উদ্দীন বলেন, \'আমি নিয়মিত এখানে বাজার করতে আসি। গত দুই মাসের ব্যবধানে বেড়ে চলেছে সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। রাজনৈতিক কর্মকান্ডের প্রভাব আমাদের ঘাড়ে এসে পড়ে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ঢাকায় বাস করাই কষ্টকর হয়ে যাবে।\'
উখিয়ায় ১০৮ রোহিঙ্গা আটক
কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী ১০৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় দালাল চক্রের ছোড়া গুলিতে ফজলুল হক নামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সুবেদার আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শাহ আলমগীর (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে বিজিবি সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উখিয়া উপজেলার বালুখালীর পানবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ বিজিবি সদস্যকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা দালালদের আটকের জন্য অভিযান শুরু করেছে। বিজিবি\'র ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম জানান, গোপনে কোনো এক সময় এসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসেন দালালরা। এদের বালুখালী পানবাজার এলাকায় দু\'টি জিপ গাড়িতে করে কুতুপালং ক্যাম্পে পাচারের সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দালাল চক্র বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিটি বিজিবি সদস্য সুবেদার ফজলুল হকের ঘাড়ের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। প্রথমে তাকে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আরো জানান, আটক রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনার জন্য বিজিবি সদস্যরা ওই এলাকার স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীকে দায়ী করেছে। রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি জিপের মালিককে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। উখিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছে তাদের আটকের ব্যাপারে অভিযান চলছে। এর আগে শুক্রবার ভোরে একই সীমান্ত দিয়ে আরো ২৯ রোহিঙ্গাকে আটক করে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
অবরোধ-হরতালে শেরপুরে দুগ্ধ খামারিদের সর্বনাশ
টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে উৎপাদিত দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারিরা। স্থানীয় বাজারে ক্রেতা না থাকায় অনেকটা পানির ধরে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন করেও প্রতিদিন কম দামে বিক্রি করে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দই ও রকমারি মিষ্টান্ন সামগ্রী তৈরিকে ঘিরে পৌরশহরের সকাল বাজার ও রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় প্রায় দেড়শ\' বছর আগে থেকে দুধের বাজার গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিতভাবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এই দুটি স্থানে বিশাল দুধের বাজার বসে আসছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ২০০-৩০০ মণ প্রতিদিন দুধ ওঠে। এছাড়াও উপজেলার সীমাবাড়ী, মির্জাপুর, রানীরহাট, ছোনকা, ভবানীপুর, জামাইল, দোয়ালসাড়া, দুবলাগাড়ীসহ অন্তত আরও ২৫-৩০টি এলাকায় প্রতিনিয়ত দুধের বাজার বসে। এসব বাজারেও বিপুল পরিমাণ দুধ আসে। কিন্তু টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে এসব বাজারে দুধ আসা ব্যাপক হারে কমে গেছে। একইসাথে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে দুধের বাজার। ফলে দুধের বাজার দরে অস্বাভাবিক ধস নামে। ৬০-৬৫ টাকার প্রতিসের দুধ বর্তমান বাজারে অর্ধেক দামে অর্থাৎ ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার ওই দুই বাজারে সরেজমিন গেলে কথা হয় গজারিয়া গ্রামের দুধ বিক্রেতা আবু হানিফ, উচরংয়ের আব্দুল বারি, মামুরশাহীর রেজাউল করিমের সাথে। তারা জানান, এই দুধের বাজারে প্রতিদিন ২০০-২৫০ মণ দুধের সরবরাহ ঘটে। কিন্তু টানা অবরোধ-হরতালের কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ভীমজানির সোহরাব হোসেন, চকমুকুন্দর হেলাল উদ্দিন, বোয়ালকান্দির আব্দুল জলিল জানান, তারা নিজেদের খামার ও বিভিন্ন গ্রাম থেকে দুধ দোহন করে ভটভটি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান ও সাইকেলসহ পায়ে হেঁটে ভাড়ে করে বাজারে নিয়ে আসেন। তারা জানান, এসব বাজারে দু\'একজন ছাড়া প্রায় সবাই খাঁটি দুধ বিক্রি করে থাকেন। এছাড়া এখানে সবসময় উপজেলার অন্যান্য বাজারের চেয়ে সের প্রতি দুধের দাম ১০-১৫ টাকা বেশি পাওয়া যায়। কারণ হিসেবে তারা জানান, এ উপজেলায় ছোটবড় ৩৫-৪০টি হোটেল ছাড়াও পৌরশহর এলাকায় ঘোষদের বড় বড় দই মিষ্টির কারখানা রয়েছে। তাছাড়া শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী দইয়ের খ্যাতি দেশজুড়ে। অপরদিকে প্রতিদিন চা তৈরির জন্য প্রায় ৫০-৬০ মণ দুধের প্রয়োজন। কিন্তু টানা অবরোধ আর হরতাল খামারিদের সর্বনাশ করেছে। এখন প্রতিসের দুধ ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহ হলো একটু দাম বেড়েছে। দুধ বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে প্রতিসের দুধ ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের দুধের বাজারের চিত্র আরও করুণ। সেখানে এখনও প্রতিসের দুধ বর্তমানেও ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এসব দুধ বিক্রেতারা জানান, অবরোধ-হরতাল এভাবে চলতে থাকলে তাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষদের পথে বসতে হবে। কারণ এভাবে নিয়মিত কম দামে দুধ বিক্রি করে সংসারই চালানো সম্ভব হবে না। এরপর আবার গো-খাদ্যের দাম বাড়তির দিকে। তাই কম দামে দুধ বিক্রি করে গাভির খাবার কেনার টাকা জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়বে। সবমিলে দুধের সাথে সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্দিনে রয়েছেন বলে তারা জানান। এদিকে দই ব্যবসায়ী নিমাই ঘোষ জানান, অবরোধ-হরতালের কারণে উৎপাদিত দই বাজারজাত করা যাচ্ছে না। তাই দই ও মিষ্টান্ন সামগ্রী উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীরা কেবল ব্যবসা টিকে রাখার জন্য যতটুক প্রয়োজন ততটুকু দুধ কিনছেন। ফলে দুধের বাজার কমে গেছে। এমনকি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দুধের বাজার আরও কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
নওগাঁয় আব্দুল জলিলের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে নওগাঁয় পালিত হয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আব্দুল জলিলের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে আব্দুল জলিলের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন তার ছেলে নিজাম উদ্দিন জলিল জন, জাতীয় সংসদের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি, সলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম এমপি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহম্মেদ শিষান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, নওগাঁ চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল, পরিচালক আহম্মদ আলী, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কর্মকর্তাবৃন্দসহ আত্মীয়-স্বজন, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শত শত নারী-পুরুষ। আব্দুল জলিলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার পরিবারের উদ্যোগে নওগাঁ শহরের চকপ্রাণ মহল্লায় তার কবরের পাশে কোরআনখানি, মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মিলাদ মাহফিলে আব্দুল জলিলের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আত্মীয়-স্বজন, জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন আব্দুল জলিল।
 
 
 
সহিংসতায় ১১ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের উদ্বেগ জানিয়ে কেরিকে চিঠি
করতোয়া ডেস্ক :
বাংলাদেশে গত দুই মাস ধরে চলা রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধে উদ্যোগ নিতে মার্কিন কংগ্রেসের ১১ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে চিঠি দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের ১১ সদস্য সহিংসতায় বাংলাদেশে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সদস্য কেরিকে চিঠিটি পাঠান। চিঠিতে... বিস্তারিত
 
জেল ভেঙে ধর্ষণে অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা
করতোয়া ডেস্ক : 'বিচারের' নতুন দৃষ্টান্ত দেখালো ভারতবাসী। কারাগার ভেঙে ধর্ষণে অভিযুক্ত এক যুবককে তুলে এনে নগ্ন করে পিটিয়ে হত্যা করেছে তারা। গত বৃহস্পতিবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নাগাল্যান্ড প্রদেশের সর্ববৃহৎ শহর দিমাপুরের কয়েক হাজার বাসিন্দা বিচারের এ নতুন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন।
তারা দিমাপুরের কারাগারের দু'টি ফটক... বিস্তারিত
 
২০ দলীয় জোট সংলাপে বিশ্বাসী : বিএনপি
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আলোচনা, সংলাপ- সমঝোতায় বিশ্বাসী বলে দাবি করেছেন দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন। সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সংকট সমাধানে আলোচনা, সংলাপ-সমঝোতায় বিশ্বাসী।... বিস্তারিত
 
চট্টগ্রামে দগ্ধ অটোরিকশা যাত্রীর মৃত্যু ঢাকায় ট্রেনে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ ১
জয়পুরহাটে লাইন উৎপাটন বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল ২ ট্রেন
করতোয়া ডেস্ক : বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের হরতালে গত বুধবার রাতে হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কের চারিয়াবুড়ি পুকুরপাড় এলাকায় পেট্রোলবোমা হামলায় দগ্ধ সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী রনজিত নাথ (৩০) মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আর এ ঘটনায়... বিস্তারিত
 
 
ভিডিও
রাশিচক্র আজ ঢাকায় আজ বগুড়ায়
 
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থিরা আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দেবে বলে মনে করেন কি?
হ্যাঁ
উত্তর নেই
না
 
 
 
আজকের ভিউ
নামাজের সময়সূচী
ওয়াক্ত
সময়
ফজর
03:50
জোহর
12:7
আছর
04:42
মাগরিব
06:54
এশা
08:20
 
 

সম্পাদকঃ মোজাম্মেল হক, সম্পাদক কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, শিল্পনগরী বিসিক বগুড়া এবং ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, (আরামবাগ) ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও চকযাদু রোড, বগুড়া হতে প্রকাশিত।
ফোন ৬৩৬৬০,৬৫০৮০, সার্কুলেশন বিভাগঃ ০১৭১৩২২৮৪৬৬, বিজ্ঞাপন বিভাগঃ ৬৩৩৯০, ফ্যাক্সঃ ৬০৪২২। ঢাকা অফিসঃ স্বজন টাওয়ার, ৪ সেগুন বাগিচা। ফোনঃ ৭১৬১৪০৬, ৯৫৬০৬৬৯, ৯৫৬৮৮৪৬, ফ্যাক্সঃ ৯৫৬৮৫২২ E-mail : dkaratoa@yahoo.com . . . .

Powered By:
close