রাত ৪:১০, বৃহস্পতিবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

সর্বশেষ খবর
‘চল পালাই’ নিয়ে আসছেন তমা মির্জা
১৫ বছর পর ঘুরল লুমের চাকা রাজশাহী রেশম কারখানা চালু
শুটিংয়ে পাবনায় আসছেন মাহি
ভূরুঙ্গামারীতে সেতু মেরামতের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে জনসাধারণ
বিশ্বের সবচেয়ে দামি মডেল কেন্ডাল
স্বাভাবিকভাবে এই সরকারকে সরানো যাবে না: ফখরুল
এসএসসির সূচি প্রকাশ পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি
মওদুদকে তোফায়েল এই সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে
বনানীতে গাড়ি চাপায় পরিবহন শ্রমিক নিহত
নোলক-এ এক সঙ্গে ওমর সানী ও মৌসুমী
রোহিঙ্গা সঙ্কটের দ্বিপক্ষীয় সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে
কে এই ‘ঘোড়ামারা’ আজিজ
ঘোড়ামারা আজিজসহ ৬ জনের ফাঁসির রায়ের খবরে সুন্দরগঞ্জে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ
নতুন অতিথি শীত
হাতীবান্ধায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, প্ররোচণাকারী গ্রেফতার

সংসদ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পক্ষে এনে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানে সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে একথা জানান সরকার প্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলের জোর সমর্থন আদায়ে সফল হয়েছে। আমরা কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে থাকা মিয়ানমারও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পক্ষপাতি। তবে বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে থাকা ১০ লাখ নাগরিককে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে তাদের গড়িমসিও প্রকাশ পাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ একটি খসড়া হস্তান্তর করেছে। এটি নিয়ে দুই দেশই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি এক দিন আগেই বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।

মিয়ানমারে আসেম সম্মেলনের ফাঁকে বুধবারই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে সু চির বৈঠকের কথা রয়েছে। কয়েক যুগ ধরে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অবস্থানের মধ্যে গত অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতা শুরু হলে বাংলাদেশ সীমান্তে নামে রোহিঙ্গাদের ঢল। প্রায় তিন মাসে নতুন করে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ইতোমধ্যে ৬ লাখ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ দিন ধরেই পুরনো শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়ে আসছিল। তবে মুসলিম এই জনগোষ্ঠীকে নাগরিক হিসেবে মানতে নারাজ মিয়ানমার তাতে গা না করে নানা অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল, যা নানা সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর বক্তব্যেও আসে। রাখাইনে নির্যাতনের মুখে নতুন করে শরণার্থীদের ঢল নামার পর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সরব হয়, বাংলাদেশ নানা আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি তোলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস নিশ্চিতে মিয়ানমারের উপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংসদে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ শুরুর পর হতেই বাংলাদেশ সোচ্চার হয়েছে। অতি দ্রুত বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনা হয়েছে। অসহনীয় নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠন ও মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের জোর প্রচেষ্টা চালানোর ফলে রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে আজ বিশ্ব জনমত গঠিত হয়েছে। এদিকে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মধ্যেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে হত্যা-ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে, যা নিয়েও তারা সমালোচনায় পড়েছে। মিয়ানমারের নাগরিকদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে সরকার দৃঢ প্রতিজ্ঞ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া ছিল আমাদের অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এ কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কণ্ঠে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে উচ্চারিত হচ্ছে। এদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করাসহ এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শরণার্থী রোহিঙ্গারা বর্তমানে কক্সবাজারে কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে। সেখানে তাদের নিবন্ধন করা হচ্ছে। দৈনিক গড়ে ১১ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন হচ্ছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী। গত ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৪৬০ জনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধনের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

 

‘ঘোড়ামারা’ আজিজসহ ৬ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড

 

বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে।রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের আনা তিন অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আসামিদের সাজা কার্যকর করতে হবে।

 

 

 

 

 



বিশেষ প্রতিবেদন

ভূরুঙ্গামারীতে সেতু মেরামতের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে জনসাধারণ

আনোয়ারুল হক, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) :  কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বেশ কিছু সেতু এক একটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। জান মালের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে সেতুগুলো দিয়ে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের দুধকুমার নদের উপর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত  প্রায় ১৩৫ বছরের পুরানা পাটেশ্বরী রেল সেতুর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। নড়বড়ে সেতুটি যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে ঘটতে পাড়ে বড় রকমের দুর্ঘটনা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সোনাহাট স্থল বন্দরের যাবতীয় কার্যক্রম। পাথরডুবী ইউনিয়নের ফুলকুমার নদের উপর নির্মিত থানাঘাট সেতু নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা নির্মিত হওয়ায় মেয়াদ ঊত্তীর্ণ হওয়ার আগেই তিন খন্ডে খন্ডিত হয়ে কোন মতে দাড়িয়ে আছে।

এক খন্ডের সাথে অন্য খন্ডকে লোহার রড দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। প্রায় মাস আগে ভাঙ্গা সেতুর পাশে অপর একটি সেতু নির্মাণ শুরু হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে বর্তমান সেতুটির নিমাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে লোহার রডে বাঁধা সেতুই তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা। একই ইউনিয়নের বাঁশজানি গ্রামের নাউডোর সেতুটি এবারের বন্যায় পুরোপুরি ভেঙে গেলে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছে ওই এলাকার জনসাধারণ। বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। শিলখূঁড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গায় গদাধর নদের উপর নির্মিত শালঝোড় সেতু ঠিকঠাক দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য এলাকাবাসী বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করেছে প্রায় পনের ফুট লম্বা সংযোগ সড়ক।

নদী দ্বারা বিছিন্ন সীমান্তবর্তী শালঝোড়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে বাঁশের সাঁকোর উপরেই নির্ভর করছেন এলাকাবাসী। বলদিয়া ইউনিয়নের বলদিয়া স্কুল এন্ড কলেজের পিছন দিকের রাস্তার উপর নির্মিত সেতুর দুইপাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন ওই এলাকার জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা। একই ইউনিয়নের বলদিয়া মরা নদীর (ছড়া) উপর নির্মিত সেতুর পশ্চিম দিকে এ্যাপ্রোচসহ সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন যাবত ভাঙ্গা থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে ওই এলাকার জনসাধারণকে। বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের চর বলদিয়া গ্রামের সড়কের উপর নির্মিত সেতুর এক প্রান্তের সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তি। সেতুগুলো সর্ম্পকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্থ সেতুগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, বরাদ্দ প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


রাজশাহী বিভাগ

১৫ বছর পর ঘুরল লুমের চাকা রাজশাহী রেশম কারখানা চালু

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী রেশম কারখানার লুমগুলো সর্বশেষ চলেছিল ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর। সরকার কারখানা বন্ধ ঘোষণা করায় সেদিনের পর আর লুমের চাকা ঘোরেনি। তবে এবার সেই চাকা ঘোরালেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। রেশম কারখানা আবার চালু করতে বুধবার লুমটি পরীক্ষা করে দেখেন তিনি। এর আগে গত শনিবার রেশম কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে ফজলে হোসেন বাদশা লুমগুলো চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এরপর শুরু হয় পুরনো লুমগুলোর মেরামতের কাজ। একটি লুম এরই মধ্যে চালানোর উপযোগী করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সেই লুমটিই চালু করে দেখলেন বাদশা। লুমটি চালু করার সঙ্গে সঙ্গে খট খট শব্দে ভরে ওঠে পুরনো কারাখানাটির চারপাশ।

এ সময় এমপি ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য কামাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কারখানার এই লুমটি চালু হতে দেখে তারাও উচ্ছ্বসিত হন।
রাজশাহী রেশম কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামি দেড় মাসের ভেতর কারখানার অন্তত পাঁচটি লুম চালু করা হবে। এরপরই উৎপাদনে যাবে রেশম কারখানা। পর্যায়ক্রমে কারখানার সব লুমই চালু করা হবে। এর ফলে রেশমের হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে রাজশাহীতে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ ঘোষণার সময় রেশম কারখানায় মোট ৬৩টি লুম ছিল। এর মধ্যে উৎপাদন চলতো পুরনো ৩৫টি লুমে। নতুন ২৮টি লুম চালুর আগেই কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বন্ধের আগে কারখানাটি বছরে এক লাখ ৬ হাজার মিটার রেশম কাপড় উৎপাদন করতো। এখন ৬৩টি লুম চালু হলে বছরে কাপড় উৎপাদন হবে দুই লাখ ৮৭ হাজার মিটার। বন্ধ ঘোষণার আগে আশরাফুল ইসলাম টুটুল ২৪ বছর প্রধান মেকানিক হিসেবে রাজশাহী রেশম কারখানায় চাকরি করেছেন। কারখানা বন্ধের পর তিনি অন্য পেশায় চলে গিয়েছিলেন। কারখানাটি চালু উপলক্ষে ফের ডেকে আনা হয়েছে দক্ষ এই কর্মীকে। তিনিই এখন লুমগুলো মেরামতের কাজ করছেন।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, অব্যবহৃত নতুন লুমগুলো তিনি কখনো চালাননি। তবে পুরনো সবগুলো লুম তিনি চালিয়েছেন। এখন লুমগুলো অকেজো। শুধু একটি লুম তিনি চালুর উপযোগি করেছেন। বাকিগুলোও তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে মেরামত করে ফেলবেন। এ ব্যাপারে নিজের দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথাও জানান আশরাফুল ইসলাম। মেরামত করা লুমটি চালু করে দেখার পর রেশম বোর্ডের সদস্য ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, পুরাতন লুমগুলো নতুন লুমগুলোর চেয়ে ১০ থেকে ১৫ গুণ ভাল। আমরা পুরনো লুমগুলোতেই খুব ভালমানের রেশম কাপড় উৎপাদন করতে পারবো। রাজশাহীকে আবার সিল্কসিটি হিসেবে পরিচিত করার যাত্রা শুরু হয়েছে।

বাদশা বলেন, রেশম কারখানা খুলে দেয়াটা রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। তিনি সেই দাবি পূরণ করে রাজশাহীর ঐতিহ্যকে রক্ষা করছেন। তিনি জানান, তুত চাষের উন্নয়নে ভারত থেকে ৩০ কোটি টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। সরকার দেবে আরও দুই কোটি টাকা। রেশম শিল্পকে এগিয়ে নিতে এই টাকা তুতচাষিদের ঋণ দেয়া হবে।

রেশম বোর্ডের সদস্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান বলেন, কারখানার লুমগুলোর অবস্থা ভাল। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই একটি চালু করা গেছে। বাকিগুলোও চালু করা সম্ভব। রাজশাহীকে আমরা সিল্ক হাব হিসেবে পরিচিত করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবেই রেশম কারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। বোর্ডের আরেক সদস্য কামাল উদ্দিন জানান, বন্ধ করার আগে কারখানাটিতে ৩০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি কাজ করতেন। বন্ধের পর সব শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে যারা এখনও কাজ করতে পারেন, তাদের কারখানায় কাজের সুযোগ দেয়া হবে। লুমগুলো চালুর সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে এসব কর্মীদের ডাকা হবে।

রাজশাহী নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ১৯৬১ সালে সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর স্থাপিত হয় এই রেশম কারখানা। মূলধন না থাকার অযুহাতে বিএনপি সরকার কারখানাটি বন্ধ করে দেয় ২০০২ সালে। সে সময় অনেক আন্দোলন করেও কারখানাটি চালু করতে পারেনি রাজশাহীবাসী। দীর্ঘদিন পর আবার সেই রেশম কারখানা চালু হতে যাচ্ছে।

 

১৫ বছর পর ঘুরল লুমের চাকা রাজশাহী রেশম কারখানা চালু

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী রেশম কারখানার লুমগুলো সর্বশেষ চলেছিল ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর। সরকার কারখানা বন্ধ ঘোষণা করায় সেদিনের পর আর লুমের চাকা ঘোরেনি। তবে এবার সেই চাকা ঘোরালেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। রেশম কারখানা আবার চালু করতে বুধবার লুমটি পরীক্ষা করে দেখেন তিনি। এর আগে গত শনিবার রেশম কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে ফজলে হোসেন বাদশা লুমগুলো চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এরপর শুরু হয় পুরনো লুমগুলোর মেরামতের কাজ। একটি লুম এরই মধ্যে চালানোর উপযোগী করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সেই লুমটিই চালু করে দেখলেন বাদশা। লুমটি চালু করার সঙ্গে সঙ্গে খট খট শব্দে ভরে ওঠে পুরনো কারাখানাটির চারপাশ।

এ সময় এমপি ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য কামাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কারখানার এই লুমটি চালু হতে দেখে তারাও উচ্ছ্বসিত হন।
রাজশাহী রেশম কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামি দেড় মাসের ভেতর কারখানার অন্তত পাঁচটি লুম চালু করা হবে। এরপরই উৎপাদনে যাবে রেশম কারখানা। পর্যায়ক্রমে কারখানার সব লুমই চালু করা হবে। এর ফলে রেশমের হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে রাজশাহীতে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ ঘোষণার সময় রেশম কারখানায় মোট ৬৩টি লুম ছিল। এর মধ্যে উৎপাদন চলতো পুরনো ৩৫টি লুমে। নতুন ২৮টি লুম চালুর আগেই কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বন্ধের আগে কারখানাটি বছরে এক লাখ ৬ হাজার মিটার রেশম কাপড় উৎপাদন করতো। এখন ৬৩টি লুম চালু হলে বছরে কাপড় উৎপাদন হবে দুই লাখ ৮৭ হাজার মিটার। বন্ধ ঘোষণার আগে আশরাফুল ইসলাম টুটুল ২৪ বছর প্রধান মেকানিক হিসেবে রাজশাহী রেশম কারখানায় চাকরি করেছেন। কারখানা বন্ধের পর তিনি অন্য পেশায় চলে গিয়েছিলেন। কারখানাটি চালু উপলক্ষে ফের ডেকে আনা হয়েছে দক্ষ এই কর্মীকে। তিনিই এখন লুমগুলো মেরামতের কাজ করছেন।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, অব্যবহৃত নতুন লুমগুলো তিনি কখনো চালাননি। তবে পুরনো সবগুলো লুম তিনি চালিয়েছেন। এখন লুমগুলো অকেজো। শুধু একটি লুম তিনি চালুর উপযোগি করেছেন। বাকিগুলোও তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে মেরামত করে ফেলবেন। এ ব্যাপারে নিজের দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথাও জানান আশরাফুল ইসলাম। মেরামত করা লুমটি চালু করে দেখার পর রেশম বোর্ডের সদস্য ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, পুরাতন লুমগুলো নতুন লুমগুলোর চেয়ে ১০ থেকে ১৫ গুণ ভাল। আমরা পুরনো লুমগুলোতেই খুব ভালমানের রেশম কাপড় উৎপাদন করতে পারবো। রাজশাহীকে আবার সিল্কসিটি হিসেবে পরিচিত করার যাত্রা শুরু হয়েছে।

বাদশা বলেন, রেশম কারখানা খুলে দেয়াটা রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। তিনি সেই দাবি পূরণ করে রাজশাহীর ঐতিহ্যকে রক্ষা করছেন। তিনি জানান, তুত চাষের উন্নয়নে ভারত থেকে ৩০ কোটি টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। সরকার দেবে আরও দুই কোটি টাকা। রেশম শিল্পকে এগিয়ে নিতে এই টাকা তুতচাষিদের ঋণ দেয়া হবে।

রেশম বোর্ডের সদস্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান বলেন, কারখানার লুমগুলোর অবস্থা ভাল। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই একটি চালু করা গেছে। বাকিগুলোও চালু করা সম্ভব। রাজশাহীকে আমরা সিল্ক হাব হিসেবে পরিচিত করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবেই রেশম কারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। বোর্ডের আরেক সদস্য কামাল উদ্দিন জানান, বন্ধ করার আগে কারখানাটিতে ৩০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি কাজ করতেন। বন্ধের পর সব শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে যারা এখনও কাজ করতে পারেন, তাদের কারখানায় কাজের সুযোগ দেয়া হবে। লুমগুলো চালুর সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে এসব কর্মীদের ডাকা হবে।

রাজশাহী নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ১৯৬১ সালে সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর স্থাপিত হয় এই রেশম কারখানা। মূলধন না থাকার অযুহাতে বিএনপি সরকার কারখানাটি বন্ধ করে দেয় ২০০২ সালে। সে সময় অনেক আন্দোলন করেও কারখানাটি চালু করতে পারেনি রাজশাহীবাসী। দীর্ঘদিন পর আবার সেই রেশম কারখানা চালু হতে যাচ্ছে।

 

কাভানির জোড়া গোলে পিএসজির বড় জয়

লিগ ওয়ানে পিএসজির আরেকটি ম্যাচ, আরেকটি বড় জয়। এডিনসন কাভানির জোড়া গোল আর দুই আর্জেন্টাইন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া ও হাভিয়ের পাস্তোরের একটি করে গোলে নঁতেকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে উনাই এমেরির দল।

ঘরের মাঠে শনিবার ম্যাচের ৩৮ মিনিটে পিএসজিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার কাভানি। তিন মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার ডি মারিয়া। ফলে পিএসজি ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।

বিরতির পর ম্যাচের ৬০ মিনিটে একটি গোল শোধ করে অতিথিদের আশা জাগিয়েছিলেন নাকুলমা। তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যে অতিথিদের জালে দুবার বল জড়িয়ে সব আশা ধুলোয় মিশিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। ৬৫ মিনিটে পাস্তোরের গোলের চার মিনিট পর নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন কাভানি।

চলতি মৌসুমে লিগে ১৩ ম্যাচে কাভানির গোল হলো ১৫টি।

এই জয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মোনাকো চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে থাকল পিএসজি। ১২ ম্যাচে পিএসজির পয়েন্ট ৩৫। শুক্রবার অবনমনের ঝুঁকিতে থাকা অ্যামিনেসের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা মোনাকোর পয়েন্ট ২৯।

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

‘চল পালাই’ নিয়ে আসছেন তমা মির্জা

অভি মঈনুদ্দীন : জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা তমা মির্জা তার অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র নিয়ে দর্শকের মাঝে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন। আগামী ৮ ডিসেম্বর তার অভিনীত ‘চল পালাই’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন কিংবদন্তী চলচ্চিত্র পরিচালক দীলিপ বিশ্বাসের পুত্র নন্দিত নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস। এরইমধ্যে চলচ্চিত্রটির মুক্তি উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রচারনায় দেবাশীষ বিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন তমা মির্জা। ‘চল পালাই’ চলচ্চিত্রের তিনটি প্রধান চরিত্রের একটি হচ্ছে সোনিয়া। সোনিয়া চরিত্রেই অভিনয় করেছেন তমা মির্জা। চলচ্চত্রটিতে অভিনয় নিয়ে এবং চলচ্চিত্রটি হলে গিয়ে দেখার জন্য দর্শকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তমা মির্জা বলেন,‘ চল পালাই দেবাশীষ দাদার ভালো চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম চলচ্চিত্র। অনেক যতেœর সাথে সবাই কাজ করেছি।

 চল পালাই দেখলে দর্শক অনেক আনন্দ পাবেন। আমি অনেক অনেক আশাবাদী চলচ্চিত্রটি নিয়ে। আমার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র গেম রিটার্নস যেমন দর্শকের কাছে ভালোলেগেছে। আমি ঠিক তেমনিই আশাবাদী চল পালাই নিয়েও যে এটি দর্শকের মন জয় করবে।’ এই মুহুর্তে তমা মির্জা আরো দুটি চলচ্চিত্রের কাজ করছেন। একটি আলম আশরাফের ‘কে’ এবং অন্যটি এম কে জামালের ‘এডিকসন’। দুটি চলচ্চিত্রেরই শুটিং চলছে। বিয়ে নিয়ে তমা মির্জার আপাতত নেই কোন পরিকল্পনা। চলচ্চিত্রেই নিবেদিত হয়ে কাজ করতে চান। বিয়ে করবেন আরো তিন বছর পর। চলচ্চিত্রের ভুবনের একজন হিসেবে নিজেকে করতে পারার মধ্যে ভীষণ আনন্দ তমার। তমা বলেন,‘ নদীজন চলচ্চিত্রের জন্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি।

এরপর থেকে কাজের প্রতি দায়িত্বও যেন বেড়ে গেছে। এজন্য ভালো ভালো চলচ্চিত্রে মনোযোগ বাড়িয়ে অভিনয় করছি যাতে দর্শক নিরাশ না হন। আমি সবসময়ই আমার চলচ্চিত্রের জীবনটা দারুণ উপভোগ করি। কারণ এখানে এসেই আমার জীবনের সেরা মানুষগুলোকে পেয়েছি।’ তমা মির্জা অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে শাহাদাৎ হোসেন লিটনের ‘তোমার কাছে ঋনী’, সোহানুর রহমান সোহানের ‘এক মন এক প্রাণ’, কাজী হায়াৎ’র ‘ইভটিজিং’, অনন্ত হীরার ‘ও আমার দেশের মাটি’, মারিয়া তুষারের ‘গ্রাস’ এবং রয়েল খানের ‘গেম রিটার্নস’। তমা মির্জা এখন পর্যন্ত একটি বিজ্ঞাপনেই মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। রৌম্য খানের নির্দেশনায় তিনি ‘শরীফ স্মার্ট ফ্যান’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার ।

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য
Go Top